আবুল খায়ের। গ্রাফিক্স: আজকের পত্রিকা

বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য চারবার শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছিলেন আবুল খায়ের। এই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয়ী অভিনেতার আরও একটি বড় পরিচয় আছে যা হয়তো আমরা জানি না। তিনি ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর দেয়া ৭ মার্চের ভাষণ নিজে ভিডিও করেছিলেন এবং ভাষণ রেকর্ড করেছিলেন।

জানা যায়, তিনি সে সময় তৎকালীন ডিএফপির কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতার সময় এমএনএ আবুল খায়েরের তত্ত্বাবধানে টেকনিশিয়ান এনএইচ খন্দকার মঞ্চের নিচ থেকে ভাষণটির অডিও ধারণের সিদ্ধান্ত নেন। অন্যদিকে অভিনেতা আবুল খায়ের মঞ্চের এক পাশ থেকে সচল ক্যামেরা নিয়ে ঐ ভাষণের চিত্রধারণ করেন।

এ প্রসঙ্গে আজকের পত্রিকার এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় এম আবুল খায়ের এমএনএ এর পুত্র বিশিষ্ট নজরুল সংগীতশিল্পী খাইরুল আনাম শাকিলের সঙ্গে, তিনি এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘আমার বাবা আবুল খায়ের ও অভিনেতা আবুল খায়ের ছিলেন দুই বন্ধু। ঐতিহাসিক সাতই মার্চের ভাষণ প্রচারে পাকিস্তান সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকায় তারা মঞ্চের নিচে লুকিয়ে ঐ ভাষণের অডিও-ভিডিও ধারণ করেছিলেন। আমার বাবার একটি রেকর্ড কোম্পানি ছিল ‘ঢাকা রেকর্ড’ নামের, ফলে তিনি অডিও রেকর্ডের দায়িত্ব পালন করেছিলেন, অন্যদিকে অভিনেতা আবুল খায়েরের যেহেতু ক্যামেরা জ্ঞান ভালো ছিল, তাই তিনি ভিডিও চিত্র ধারণ করেন। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে এ ধারণকৃত অডিও-ভিডিও তাকে উপহার দেওয়া হয়েছিল এবং যুদ্ধ চলাকালীন সময় এর কয়েকটি রেকর্ডেড কপি ভারতে পাঠানো হয়, সেখান থেকে বিশ্বখ্যাত রেকর্ড কোম্পানি এইচএমভির উদ্যোগে এ ভাষণের তিন হাজার কপি বিনামূল্যে বিভিন্ন জায়গায় বিতরণ করা হয়’।

আবুল খায়ের ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটক পরিচালিত তিতাস একটি নদীর নাম চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি তিনি টেলিভিশনে নিয়মিত অভিনয় করতেন। তিনি হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত এইসব দিনরাত্রি (১৯৮৫) নাটকে একজন গ্রাম্য শিক্ষকের ভূমিকায় অভিনয় করেন। পরবর্তীতে তিনি হুমায়ূন আহমেদের বহুব্রীহি (১৯৮৮) নাটকে দাদা, নিমফুল (১৯৯৭), আজ রবিবার (১৯৯৯) নাটকে শহুরে বাবা, পিতৃত্ব নাটকে গ্রাম্য পিতা চরিত্রে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা লাভ করেন।

উল্লেখ্য, এই অভিনেতা ১৯২৯ সালের ৪ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০০০ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

আজকের পত্রিকা/এমআরএস/জেবি