মা হিসেবে আপনি নিশ্চয় চান আপনার সন্তানকে সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর এবং পুষ্টিকর খাবারটি খাওয়াতে। ছবি: আজকের পত্রিকা

আপনি প্রবীণ মা হোন কিংবা নবীন মা, বাচ্চাদের খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে সব সময়ই আপনাকে সচেতন থাকতে হবে। মা হিসেবে আপনি নিশ্চয় চান আপনার সন্তানকে সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর এবং পুষ্টিকর খাবারটিই খাওয়াতে। জেনে নিন এমন কিছু খাবার সম্পর্কে যা আপনার সন্তানের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে-

মধু

মধুতে বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়া রয়েছে যা মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করে। ছবি: সংগৃহীত

মধু সাধারণত আমাদের দেশের খাদ্যদ্রব্যের মধ্যে অমৃত বলে মনে করা হয়। কিন্তু আপনার সন্তান যদি ২ বছরের কম হয়ে থাকে, তবে মধু তার জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার নয়। মধুতে বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়া রয়েছে, যা মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করে। এই ব্যাকটেরিয়া প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষতি করতে যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। তবে তাদের ক্ষতিকারক প্রতিরক্ষা সিস্টেমের কারণে আপনার সন্তানের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে।

প্যাকেটজাত খাবার

প্যাকেটজাত খাবারে যতই পুষ্টিগুণের কথা উল্লেখ থাকুক না কেন, এতে প্রচুর পরিমানে কেমিক্যাল মেশানো হয়ে থাকে। ছবি: সংগৃহীত

টিভিতে নানা ধরনের বিজ্ঞাপন দেখে অনেক মা-ই তাদের সন্তানের সকালের নাস্তা হিসেবে প্যাকেটজাত খাবার সরবরাহ করে থাকেন। এই অভ্যাস এখনই বন্ধ করতে হবে। বিজ্ঞাপনে এমন অনেক কথাই বলে, যা আসলে বাস্তবে ঘটে না। প্যাকেটজাত খাবারে যতই পুষ্টিগুণের কথা উল্লেখ থাকুক না কেন, এতে প্রচুর পরিমানে কেমিক্যাল মেশানো থাকে। এই কেমিক্যাল আপনার ছোট সোনামণির স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

মাছ

মাছে মারকারি আছে কিনা তা আপনি সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আপনার শিশুদের এসব মাছ পরিবেশন করবেন না। ছবি: সংগৃহীত

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে মাছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন, প্রোটিন ও মিনারেল থাকে। তবে কিছু কিছু মাছ, যেমন- শেলফিশ, মার্লিন, টুনা, সোর্ডফিশ, এমনকি টাইলফিশের মধ্যে মারকারি থাকে। মারকারি এক প্রকার ভারী এবং বিপজ্জনক বিষাক্ত ধাতু, যা মানুষের শরীরে জৈব-সংশ্লেষণ ঘটায়। তাই মাছে মারকারি আছে কিনা, তা আপনি সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আপনার শিশুদের এসব মাছ পরিবেশন করবেন না।

স্পোর্টস ড্রিঙ্ক

এনার্জি ড্রিঙ্ক বাচ্চাদের জন্য না। ছবি: সংগৃহীত

বাচ্চাদের এনার্জি ড্রিঙ্ক কিনে দেওয়ার কোনো মানেই হয় না। এনার্জি ড্রিঙ্ক তাদের জন্য উপযোগী না। এনার্জি ড্রিঙ্ক প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য, যারা জিমে যান এবং যাদের অতিরিক্ত ক্যালোরির প্রয়োজন। এসব ড্রিঙ্কে চিনি ও ক্যালোরির পরিমান অনেক বেশি, যা আপনার বাচ্চার জন্য ক্ষতিকর।

ফ্রোজেন খাবার

ফ্রোজেন খাবারে যেসব মাছ, মাংস কিংবা পনির দেওয়া হয়, তা খুবই নিম্নমানের। ছবি: সংগৃহীত

ফ্রোজেন খাবার আপনার রক্তে এলডিএল কলেস্টোরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা হৃৎপিণ্ডের ঝুঁকি, রক্তের চাপ সৃষ্টি এবং স্নায়ুতন্ত্রের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। এছাড়াও ফ্রোজেন খাবারে যেসব মাছ, মাংস কিংবা পনির দেওয়া হয়, তা খুবই নিম্ন মানের। এসব খাবার বাচ্চাদের খাওয়ানো একেবারেই মানা।

সস

মেয়োনিজ, কেচাপ ইত্যাদিতে ফ্যাট ও ক্যালোরির পরিমান অনেক বেশি। ছবি: সংগৃহীত

বার্গার কিংবা পিৎজার সাথে সস সবারই পছন্দ করেন। যেখানে বার্গার কিংবা পিৎজা জাতীয় খাবারই বাচ্চাদের খাওয়া উচিত নয়, সেখানে সস আরো ক্ষতিকর। মেয়োনিজ, কেচাপ ইত্যাদিতে ফ্যাট ও ক্যালোরির পরিমান অনেক বেশি। বাইরের সস বাচ্চাদের না দিয়ে, ঘরে বানানো সস তাদের দিতে পারেন।

ফ্রুট জুস

বাচ্চাদের জুস খাওয়াতে হলে ঘরে বানান জুস খাওয়ানো উচিত। ছবি: সংগৃহীত

বাজারের সকল প্রকার ফ্রুট জুসে চিনির মাত্রা অনেক বেশি থাকে, যার ফলে প্যালপাইটেশন, এলার্জি বা এমনকি ক্যান্সার হতে পারে। এসব জুসে ফলের রস আছে বলে দাবি করলেও এতে কেমিক্যাল ছাড়া আর কিছুই নেই। বাচ্চাদের জুস খাওয়াতে হলে ঘরে বানানো জুস খাওয়ানো উচিত।

সোডা

সোডা এমন এক পানীয় যেখানে কোনো প্রকার পুষ্টিগুণ থাকে না। ছবি: সংগৃহীত

সোডা এমন এক পানীয় যেখানে কোনো প্রকার পুষ্টিগুণ থাকে না। বরং বাচ্চাদের দাঁত ও হাড়ের ক্ষতি করে। সোডাগুলোতে উচ্চ মাত্রায় ক্যালোরি এবং চিনি থাকে, যা আপনার সন্তানের শরীরে ফ্যাট তৈরি করে এবং তাদের স্বাস্থ্য আরও খারাপ করে তুলতে পারে।

আজকের পত্রিকা/রিয়া/সিফাত

SOURCEই টাইমস