রাজধানী ঢাকায় প্রতি ঘন্টায় গড়ে একটি তালাকের ঘটনা ঘটছে। ছবি : সংগৃহীত

সুন্দর ও সুখী দাম্পত্য জীবন সকলের কাম্য। দাম্পত্য জীবন সুখের না হলে পুরো জীবনটাই অসহনীয় হয়ে ওঠে। এত অশান্তি আর কোথাও নেই, যদি কাছের মানুষটির সঙ্গে সম্পর্ক ভালো না থাকে, তবে সবচে বড় বিষয় হচ্ছে দুজনের বোঝাপড়া। এ জায়গাতে মিল না হলে জীবন বিষাদময় হয়ে উঠতে বাধ্য । দাম্পত্য জীবনে ছোট ছোট কিছু ভুল ধীরে ধীরে বড় হয় ,এবং এক সময় যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তখন সম্পর্কের সঠিক রাস্তা থেকে ছিটকে পড়ার মধ্য দিয়ে মানুষ মুক্তি খোঁজে। এসময় বাড়তে থাকে বিবাহ বিচ্ছেদ বা ডিভোর্স।

ডয়চে ভেলের একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায় – “ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের দু’টি এলাকায় ২০০৬ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তালাক কার্যকর হয় ২৩০৯টি, যার মধ্যে ১৬৯২টি স্ত্রী কর্তৃক আর স্বামী কর্তৃক ৯২৫টি৷ ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের জুলাই পর্যন্ত তালাকের সংখ্যা ৩৫৮৯টি৷ এর মধ্যে ২৩৮১টি স্ত্রী কর্তৃক আর স্বামী কর্তৃক হয়েছে ১২০৮টি৷ এই পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, তালাক দেয় পুরুষ ৩০ শতাংশ, আর নারী ৭০ শতাংশ ৷”

অন্যদিকে সম্প্রতি বিবিসির একটি রিপোর্টের বরাত দিয়ে বলা হয় “ঢাকায় প্রতি ঘন্টায় গড়ে একটি তালাকের ঘটনা ঘটছে”। সংবাদমাধ্যমগুলোর এমন প্রতিবেদনের বিভিন্ন কেস স্টাডিতে দেখা যায় কোন একটি নির্দিষ্ট পক্ষ সবসময় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না। বরং দুজনই বা কখনো কখনো সন্তানের উপরও এর প্রভাব পড়ছে।

দাম্পত্য কলহের পরিণামে তালাক কিংবা বিচ্ছেদের ঘটেই চলছে। এর নেপথ্যে ব্যক্তি ও সম্পর্ক ভেদে ভিন্নতা থাকলেও কিছু সাধারণ কারণ লক্ষ্য করা যায়।

যে সব কারণে মেয়েরা সাধারণত ডিভোর্স দিয়ে থাকে-

 ১. স্বামী-স্ত্রীর যে কোনো একজনের পরকীয়া আসক্ততা

২. স্বামী কর্তৃক স্ত্রী শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়া কিংবা স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত করা।

৩. স্ত্রীদের স্বাভাবিক চলাফেরা ও স্বাধীন জীবন যাপন করা এবং ধর্মীয় অনুশাসনের তোয়াক্কা না করায় অনেক ধর্মান্ধ স্বামীদের পক্ষ থেকে অবহেলার শিকার হওয়া।

৪. প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে না দিয়ে পারিবারিক সিদ্ধান্তে অন্যত্র বিয়ে দেয়া।

৫. পেশাগত ব্যস্ততা ও সাংসারিক কাজ একসঙ্গে সামাল দিতে গিয়ে অত্যধিক চাপে পড়া

৬. স্বামী দীর্ঘদিন দেশের বাইরে অবস্থান করা।

৭. স্বামীর পক্ষ থেকে মোটা অঙ্কের যৌতুক দাবি করা বা যৌতুক দিতে অসম্মতি জানালে শরীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের শিকার হওয়া।

৮. স্বামীর পক্ষ থেকে দুর্ব্যবহার বা একাধিক স্ত্রী থাকলে বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হওয়া।

৯. প্রেমে ব্যর্থ হয়ে অন্য স্বামী গ্রহণ করলেও প্রেমিকের প্রতি আকর্ষণ থাকার কারণে স্বামীর সঙ্গে মানসিক দূরত্ব সৃষ্টি হওয়া।

১০. স্বামীর পরিবারে ভালোবাসাপূর্ণ পরিবেশ না থাকা বা স্বামীর আত্মীয়-স্বজনদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন রকম চাপ আসা।

১১. দাম্পত্য কলহ অব্যাহত থাকা।

১২. একে অপরের প্রতি সন্দেহপ্রবণ হয়ে ওঠা।

আজকের পত্রিকা/কেএইচআর