ফকিরাপুল এলাকায় ইয়াংমেনস নামের কেসিনোয় অভিযান চালাচ্ছে র‌্যাব-৩। ছবি: আজকের পত্রিকা

রাজধানীর ফকিরাপুলে ইয়ংমেনস নামের ক্যাসিনোতে অভিযান চালিয়ে ১৪২ জন নারী ও পুরুষকে আটক করেছে র‌্যাব। ওই কেসিনোটির মালিক ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। ১৮ সেপ্টেম্বর বুধবার বিকেলে র‌্যাবের ভ্রাম্যমান আদালত এ অভিযান শুরু করে। অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছেন র‌্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম। আজকের পত্রিকাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম।

র‌্যাব জানিয়েছে, ফকিরাপুলের ইয়ংমেনস থেকে বিপুল পরিমান অর্থ ও মাদক জব্দ করা হয়েছে।

জানা গেছে, ক্ষমতাসীন দলের যুব সংগঠন যুবলীগের ছত্রছায়ায় রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় ১০০টিরও বেশি জুয়াচক্র বা ক্যাসিনো চলছে। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাকে যুবলীগের ওপর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘ঢাকায় অবৈধভাবে ক্যাসিনো ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে যুবলীগ নেতারা। আমার কাছে সবার সব তথ্য আছে।’

এরপর ১৪ সেপ্টেম্বর শনিবার দলের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় যুবলীগ নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। যুবলীগ দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকায় ক্যাডার চাঁদাবাজ বাহিনী গড়ে তুলে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে সে। আমার সংগঠনে চাঁদাবাজ দরকার নেই।’

আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, দায়িত্বশীল একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে, রাজধানীতে যুবলীগের বিভিন্ন অপতৎপরতা চলছে। শেখ হাসিনাকে অবহিত করা হয়েছে ঢাকায় অন্তত ১০০টি ক্যাসিনো চলছে যুবলীগের তত্ত্বাবধানে। পুলিশের এই প্রতিবেদন পেয়ে যুবলীগের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

শেখ হাসিনার উদ্ধৃতি দিয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বলেন, রাজধানীর সর্বত্র যুবলীগের নেতাদের ক্যাসিনো গড়ে উঠেছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যেখানে নেপাল থেকে ক্যাসিনো পরিচালনার জন্য মেয়ে পর্যন্ত আনা হয়েছে। ওইসব ক্যাসিনোর জন্য নিরাপত্তা প্রহরীও আনা হয়েছে নেপাল থেকে। দলের সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে তথ্য আছে, রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকায় যুবলীগ নিয়ন্ত্রিত ক্যাসিনো-বার রয়েছে ৬টি। এর সঙ্গে যুবলীগ দক্ষিণের প্রভাবশালী নেতাসহ অন্যরা রয়েছে।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, আমার কাছে আরও তথ্য আছে, রাজধানীর সব সুউচ্চ ভবনের ছাদ দখল নিয়েছে যুবলীগের নেতারা। সেখানে ক্যাসিনো খোলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুবলীগের সবার আমলনামা আমার হাতে এসেছে। আমি সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলে দিয়েছি।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য বলেন, গত শনিবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায়ও যুবলীগের প্রতি প্রধানমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ওই নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ যুবলীগের মহানগর উত্তর-দক্ষিণের প্রায় সব নেতা ঢাকায় ক্যাসিনো পরিচালনা করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। আর এর ভাগ যুবলীগের সবার পকেটে যায়।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে যুবলীগের মাসব্যাপী কর্মসূচি পালনের বিষয়টি অবহিত হলে শেখ হাসিনা বলেন, চাঁদাবাজির টাকা হালাল করতে আমার জন্মদিন উপলক্ষে কর্মসূচি নিয়েছে যুবলীগ। আমি এসব দোয়া চাই না।

সভাপতিমণ্ডলীর ওই সদস্য আরও বলেন, যুবলীগের নেতারা চাঁদাবাজি করে কে, কত টাকার মালিক হয়েছে সব হিসাব আমার কাছে আছে। দলের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য বলেন, যুবলীগ মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিন গাড়ি অস্ত্র থাকে তার বহরে।

তিনি আরো বলেন, আমার দলে চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসী দরকার নাই। এরা দলকে, রাজনীতিকে কিছু দেয় না। এরা দলের বোঝা। সংশোধন না হলে এ দেশে জঙ্গি যেভাবে দমন করেছি সন্ত্রাসী বাহিনীও সেভাবে দমন করব।

আজকের পত্রিকা/কেএফ