সমন্বিত উদ্যোগ না থাকায় যানজট তীব্র। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীকে যানজটমুক্ত করার জন্য গত ১০ বছরে বিভিন্ন প্রকল্পে সরকারের বিনিয়োগের পরিমাণ ৪২ হাজার ৯০৫ কোটি টাকা। একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের বিভিন্ন সময় জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব প্রকল্প ও ব্যয়ের তথ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, ‘এসব প্রকল্পগুলো নেয়া হয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে’।

ঢাকার যানজট নিরসনে বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ সত্ত্বেও পরিস্থিতির কাক্সিক্ষত উন্নয়ন হয়নি। বরং যানবাহনের গতি আরও কমেছে। ঢাকার যানজট এখন মানুষের কর্মপরিকল্পনা এবং সময় নষ্টেই সীমাবদ্ধ নেই, আক্রান্ত করছে মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, আক্রান্ত করছে ব্যবসা-বাণিজ্য তথা সার্বিক অর্থনীতিকে।
বিশ্বব্যাংকের দেয়া এক তথ্য বলছে, ২০০৪ সালে ঢাকায় যানবাহনের গড় গতি ছিল ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার। ২০১৮ সালে তা ঘণ্টায় সাত কিলোমিটারের নিচে নেমে এসেছে। যথাযথ পরিকল্পনা না করে শুধু একের পর এক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রকল্পসর্বস্ব এসব উন্নয়ন দিন শেষে বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এত টাকা খরচ করে ফ্লাইওভার বানানো হলো। এখন দেখা যাচ্ছে, ফ্লাইওভারের উপরেও যানজট হচ্ছে বলেও বিশ্বব্যাংকের দেয়া তথ্যে জানা গেছে।

সংসদে বিভিন্ন সময়ে সংসদ সদস্যরা বলেছেন, প্রকল্পসর্বস্ব উন্নয়নের পাশাপাশি বাস্তবায়নকারী বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়হীনতাই এর জন্য দায়ী। ঢাকার উন্নয়নে কাজ করছে সরকারের আট মন্ত্রণালয়ের ২৬টি বিভাগ। সংখ্যাটি বড় হলেও এগুলোর মধ্যে রয়েছে সমন্বয়ের ঘাটতি। ফলে জলাবদ্ধতা, যানজট ও অব্যবস্থাপনা থেকে মুক্তি পাচ্ছে না ঢাকাবাসী।

দিন দিন যানজট প্রকট আকার ধারন করছে। ছবি: সংগৃহীত

বিভিন্ন বিভাগ ও মন্ত্রণালয়ের ভেতরে সমন্বয়ের কাজটি না করা হলে গত ১০ বছরের বিপুল বিনিয়োগ যে বাস্তবিক অর্থেই জলাঞ্জলি যাবে সেটা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।

গত ১০ বছরে যে বিনিয়োগ হয়েছে তার কিয়দংশের সুফলও যদি নিশ্চিত করতে হয় তবে সরকারের উচিৎ হবে বিনিয়োগের সার্বিক বিষয়াদি মূল্যায়ন করা, সমন্বয়ের ত্রুটিগুলো শনাক্ত করা, নিরসন করা এবং সে অনুযায়ী সঠিক কর্মপরিধি নির্ধারণ করে ভবিষ্যৎ লক্ষ্য স্থির করা।

অনেক সংসদ সদস্যরা বলেছেন, ‘বিনিয়োগে কোন দুর্নীতি হয়েছে কিনা সেটা দেখতে পারে দুদক। শুধু স্কুলে গিয়ে রোলকল করা কিংবা হাসপাতালে গিয়ে ছোটখাটো অনিয়ম না খুঁজে সরকারি বিনিয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই দুদকের কর্তব্য হওয়া উচিত’।

যানজট নিরসনে প্রয়োজন সমন্বিত পদক্ষেপ। বিচ্ছিন্নভাবে একক পদক্ষেপ নিয়ে এ সর্বগ্রাসী সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। রাস্তার তুলনায় যানবাহনের আধিক্য যানজটের অন্যতম কারণ। এর পাশাপাশি রয়েছে ট্রাফিক নিয়ম না মেনে চলার প্রবণতা।

ফুটপাত দখল, রাস্তার অপব্যবহারও যানজটের আরেকটি প্রধান কারণ। ঢাকা মহানগরীতে ট্রাফিক পুলিশ রয়েছে তিন হাজারের মতো। মাত্রাতিরিক্ত যানবাহনের চাপে বেশিরভাগ এলাকায় যান্ত্রিক ট্রাফিক সিগন্যাল অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

সড়কপথের একটি বড় অংশ হকার এবং অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে এখন ব্যবহারের অযোগ্য। সড়ক ও ফুটপাত থেকে অবৈধ দোকানপাট উঠিয়ে দেয়া সম্ভব হলে যানজট এমনিতেই সহনীয় হয়ে উঠবে। এর পাশাপাশি কঠোরভাবে ট্রাফিক আইনের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব হলে যানজটের রাশ টেনে ধরা সম্ভব হবে বলে সংসদে অনেকেই এ মন্তব্য করেছেন।

আজকের পত্রিকা/আরবি/এমএইচএস