দিনাজপুরে শিক্ষার্থীদের বাঁধভাঙ্গা উচ্ছাস।

এসএসসির ২০১৮ সালের রেজাল্টে যশোর শিক্ষা বোর্ডে সবচেয়ে ভাল করেছিল নড়াইল জেলার ছাত্রছাত্রীরা। সেবার বোর্ডের ১০ জেলার মধ্যে এ জেলাটির অবস্থান ছিল শীর্ষে। কিন্তু এক বছরের ব্যবধানে ২০১৯ সালের রেজাল্টে বোর্ডের মধ্যে তাদের অবস্থান দশমে। এবার শীর্ষে অবস্থান করছে খুলনা জেলা।

৬ মে সোমবার যশোর বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল পর্যবেক্ষণে এ চিত্র উঠে এসেছে।
বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্র বলেন, খুলনা জেলায় পাসের হার ৯৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এ জেলা থেকে ২৭ হাজার ৩৮২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ২৫ হাজার ৬৭১ জন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সাতক্ষীরা জেলা। এ জেলা থেকে ২০ হাজার ৬০৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ১৯ হাজার ১৫৭ জন। পাসের হার ৯৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

তৃতীয় অবস্থানে আছে বাগেরহাট জেলা। এ জেলা থেকে ১৫ হাজার ৫২৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ১৪ হাজার ৩২৫ জন। পাসের হার ৯২ দশমিক ৯৪ শতাংশ। চতুর্থ মাগুরা জেলা। এ জেলা থেকে ১১ হাজার ৭৩৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ১০হাজার ৭২৮ জন। পাসের হার ৯১ দশমিক ৯৮ শতাংশ। পঞ্চম অবস্থানে যশোর জেলা। এ জেলা থেকে ৩০ হাজার ৮৬৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ২৭ হাজার ৭৬১ জন। পাসের হার ৯০ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

ষষ্ঠ অবস্থানে মেহেরপুর জেলা। এ জেলা থেকে ৮ হাজার ৫৭৫জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ৭ হাজার ৬৯৪ জন। পাসের হার ৯০দশমিক ২৭ শতাংশ। সপ্তম অবস্থানে চুয়াডাঙ্গা জেলা। এ জেলা থেকে ১১ হাজার ৭১৬জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ১০ হাজার ৪৫০ জন। পাসের হার ৮৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ। অষ্টম অবস্থানে ঝিনাইদহ জেলা। এ জেলা থেকে ২২ হাজার ৫২৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ২০ হাজার ৯ জন। পাসের হার ৮৯ দশমিক ৬১ শতাংশ। নবম হয়েছে কুষ্টিয়া জেলা। এ জেলা থেকে ২৫ হাজার ২৯৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ২২ হাজার ৮৬ জন। পাসের হার ৮৭দশমিক ৯৮ শতাংশ। আর দশম অবস্থানে নড়াইল জেলা।

এ জেলা থেকে ৯ হাজার ৩৫০জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ৭ হাজার ৮০৭ জন। পাসের হার ৮৪ দশমিক ১৫ শতাংশ। ।

যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্র বলেন, এ বছর যশোর বোর্ডে মোট ১ লাখ ৮২ হাজার ৩১০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। এদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৮৮ জন। পাসের হার ৯০ দশমিক ৮৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৯৪৮ জন। তবে এবার তিনটি বিভাগেই ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের পাসের হার বেশি।

তিনি আরও জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তি বেড়েছে। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে নির্বাচনী পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণদের বোর্ড পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে না দেয়ায় এবার ভালো ছেলেমেয়েরা চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেয়। এজন্য পাসের হার বেড়েছে। এছাড়া স্কুলগুলো আন্তঃপরীক্ষায় বোর্ডের প্রশ্ন ব্যাংকের প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভিত মজবুত হয়। এজন্যও পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট হয়েছে।

এইচ আর তুহিন/যশোর