প্রতীকী ছবি

যশোরে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে শহিদুল ইসলাম শহিদ (৩৩) নামের এক জুটমিল শ্রমিক নিহত হয়েছেন। নিহত শহিদ মাগুরা সদর উপজেলার হাজরাপুর গ্রামের লোকমান হোসেন কাজীর ছেলে এবং যশোরের বিরামপুর এলাকার আফনান জুটমিলের শ্রমিক।

২০ মে সোমবার দুপুরে সদর উপজেলার বাহাদুরপুর জেসগার্ডেন এলাকায় আফনান জুটমিলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ এ ঘটনায় মেহেদী হাসান টফি নামে একজনকে আটক করেছে। আটক টফি উপশহর বিরামপুর এলাকার আসলাম হোসেনের ছেলে।

নিহত শহিদের সহকর্মী শাহীন জানান, শহিদ সোমবার দুপুরে আফনান জুটমিলে ডিউটি শেষ করে বের হন। গেট থেকে একশ’ গজ দূরে টিটুর চায়ের দোকানের সামনে পৌঁছানো মাত্র আনসার আলী ওরফে আমছার আলী, হাবু ওরফে আবু, জিয়ারুল এবং মেহেদী হাসান টফি তার পথরোধ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমছারের কোমরে থাকা চাকু বের করে শহিদের সারা গায়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে।

এরই মধ্যে শহিদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে ওই দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

আটক মেহেদী হাসান টফি জানিয়েছেন, তার মামা আমছার আলীর স্ত্রী জুলেখার সাথে শহিদের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে গত শুক্রবার স্থানীয় ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ওই সালিশে কোন সুষ্ঠু সমাধান না হওয়ায় আমছার আলী শহিদকে খুন করার পরিকল্পনা করে।

এদিন দুপুর আড়াইটার দিকে আমছার আলী, মেহেদী, জিয়ারুল ও আবু ওরফে হাবুকে কথা আছে বলে মিলগেট থেকে ডেকে নেয়। টিটুর দোকানের সামনে পৌছানো মাত্র আমছারের কোমরে থাকা চাকু দিয়ে শহিদকে এলোপাতাড়িভাবে আঘাত করে। সাথে থাকা অন্যরাও তাকে মারপিট করে।

মেহেদী হাসান আরো জানিয়েছেন, তার মা এবং মামি ওই মিলে কাজ করেন। বেশ কিছুদিন ধরে টফির মাকে ডিউটি নিয়ে ঝগড়াঝাটি করতেন শহিদ। এনিয়ে উভয়ের মধ্যে টানাপোড়েন যাচ্ছিল।

এ খবর পেয়ে উপশহর পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই শরিফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে মেহেদী হাসান টফিকে আটক করেন।

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অপূর্ব হাসান জানিয়েছেন, শহিদ হত্যার সাথে জড়িত অন্যদের আটকের জন্য অভিযান শুরু হয়েছে।

আজকের পত্রিকা/এইচ আর তুহিন/যশোর/রাফাত