যশোরের অভয়নগর উপজেলায় গরু চুরি করতে এসে গণপিটুনিতে প্রাণ হারানো তিনজনের মধ্যে দুইজনের পরিচয় মিলেছে। আর এক গরু চোরকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ এলাকায় অভিযান চালিয়ে গরু চোর জনি শেখকে (২৩) গ্রেফতার করে। তিনি বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট থানার কাটাখালি লকপুর গ্রামের ওহাব শেখের ছেলে।

জনি ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে নিহতদের মধ্যে দুজনের পরিচয় পুলিশকে জানিয়েছেন। এরা হলেন- খুলনা মহানগরীর খানজাহান আলী থানার রেলগেট এলাকার সোহেল (২৭) ও একই এলাকার সৈকত (৩০)। তবে নিহত অপর চোরের পরিচয় তিনি জানাতে পারেননি।

সোমবার ভোরে উপজেলার প্রেমবাগ গ্রামের মজুমদার পাড়ায় রেলক্রসিয়ের সামনে গণপিটুনির ঘটনা ঘটে। পরে চোরাই ৩টি গরু উদ্ধার করা হয় এবং চোরদের ব্যবহৃত নম্বরবিহীন টাটা পিকআপ উত্তেজিত জনতা ভাঙচুর করে। এদিকে সোমবার বিকেলে নিহতদের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে আনা হয়। আর সন্ধ্যায় এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে কোতয়ালি থানায় চুরি ও অভয়নগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভোর চারটার দিকে একটি পিকআপে কয়েকজন চোর যশোর সদর উপজেলার গাইদগাছি গ্রামের খোরশেদ আলমের গোয়ালে ঢুকে তিনটি গরু চুরি করে পালাতে শুরু করেন। এ সময় বাড়ির মালিকের চিৎকারে এলাকাবাসী জড়ো হয়ে চোরদের ধাওয়া করেন।

পরে এলাকার মসজিদের মাইক থেকে গরু চুরির বিষয়ে জানানো হয়। প্রায় দুই কিলোমিটার তাড়িয়ে এনে অভয়নগর উপজেলার প্রেমবাগ গ্রামের মজুমদার পাড়ায় রেলক্রসিয়ের সামনে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তিন চোরকে ধরে গণপিটুনি দেয়া হলে ঘটনাস্থলে দুজন মারা যান। অপরজনকে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে মারা যান।

এদিকে জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়েছে, অভয়নগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলের আশপাশে তল্লাশি করে জনি শেখকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জ জেলায় একটি ডাকাতির প্রস্তুতি এবং অপর একটি চোরাইপণ্য উদ্ধার মামলা আছে।

আরও জানানো হয়েছে- চোরাই উদ্ধারকৃত ৩টি গরু এবং চোরদের ব্যবহৃত উত্তেজিত জনতা কর্তৃক ভাঙচুর করা নম্বরবিহীন টাটা পিকআপ পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। এলাকায় আইন-শৃংঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়নসহ গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে খবর পেয়ে সকালেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ, পুলিশ সুপার আশরাফ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সালাউদ্দিন শিকদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ সার্কেল) জামাল আল নাসের প্রমুখ।

-এইচ আর তুহিন