উপকরণ পেলো প্রতিবন্ধীরা।

সুপ্রিম (৩০) জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। এর দুই পায়ের হাঁটুর নিচ থেকে নেই। চলাচলে খুব কষ্ট হয়। একটি হুইল চেয়ার তার খুব দরকার ছিল। তাকে ডেকে একটি হুইল চেয়ার দিয়েছে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন যশোর কার্যালয় কর্তৃপক্ষ। এটি পেয়ে তিনি খুবই খুশি। ১৮ বছর আগে মায়ের মৃত্যু হয়েছে। সেই থেকে বোন জাকিয়া সুলতানার কাছে থাকেন। ভাইকে নিয়ে নানা বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। তারপরও ভাইকে আগলে রেখেছেন।

মায়া-মমতায় তার কাছেই আছেন। জাকিয়া সুলতানা বলেন, প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। ওদেরকে আদর ভালোবাসা দিতে হবে। ওদের মধ্যেও প্রতিভা আছে। সেটি বিকশিত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

দাদী মরিয়ম বেগম ও দাদা আজিজ মোল্লার সঙ্গে এসেছেন তামিম (১৮)। তিনিও জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী। চলাফেরা করতে পারে না। তাকেও দেওয়া হলো একটি হুইল চেয়ার। নাতির চলাচলের জন্য একটি সহায়ক উপকরণ পেয়ে বেজাই খুশি মরিয়ম বেগম ও আজিজ মোল্লা। তবে তাদের আপেক্ষ প্রতিবন্ধী নাতির জন্য একটি কার্ড করার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরেও লাভ হয়নি। ওসমান আলী (৬৫) শারীরিক প্রতিবন্ধী। হাঁটতে পারেন না। অনেক কষ্টে ভিক্ষা করেই চলে তার সংসার। একটি ট্রাইসাইকেল পেয়ে খুব খুশি। জানালেন এই গাড়ি পাওয়া তার চলাচলে খুব সুবিধা হলো।

সুপ্রিম, তামিম কিংবা ওসমান আলীর মত ২২জন প্রতিবন্ধী সহায়ক উপকরণ পেয়ে খুশি। সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন যশোর কার্যালয়ের উদ্যোগে প্রতিবন্ধীদের মাঝে সহায়ক উপকরণ বিতরণ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক নূর ই আলম।

সমাজসেবা অধিদপ্তর যশোরের উপ-পরিচালক অসীত কুমার সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোরের সিভিল সার্জন ডা. দিলীপ কুমার সাহা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনছার উদ্দিন। স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা মুনা আফরিন ও কনসালট্যান্ট (ফিজিওথেরাপি) ডা. বাপ্পী কবি শেখর।

সঞ্চালনা করেন ক্লিনিক্যাল ফিজিওথেরাপিস্ট ডা. পারমিতা রায়। আলোচনা শেষে প্রতিবন্ধীদের মাঝে সহায়ক উপকরণ বিতরণ করেন অতিথিবৃন্দ। বিতরণকৃত উপকরণের মধ্যে রয়েছে হুইল চেয়ার ১১টি, ট্রাইসাইকেল ১টি, অক্সিলারি ক্রাচ ২টি, এ্যালবো ক্রাচ ২টি, হেয়ারিং এইড ২টি, ওয়াকার ২টি, কর্ণার চেয়ার ২টি।

এইচ আর তুহিন/যশোর