যশোরে আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসব শেষ হচ্ছে শুক্রবার

১৮ অক্টোবর শুক্রবার যশোরে শেষ হচ্ছে তৃতীয় আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসব। দ্রোহ, প্রেম ও ঐতিহ্যের স্বপ্নযাত্রায় গত ১২ অক্টোবর থেকে শুরু হয় এ নাট্যোৎসব। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ এমপি নাট্য উৎসবের উদ্বোধন করেন।

ইতিমধ্যে ভারতের দুটি দল ও আয়োজক নাট্য সংগঠন বিবর্তন যশোরসহ বাংলাদেশের ৩টি সনামধন্য নাট্যদল তাদের নাটক ম স্থ করেছে। উৎসবকে ঘিরে যশোরে নাট্যপ্রেমীদের মিলনমেলা বসে।

উৎসব কমিটির আহ্বায়ক ও বিবর্তন যশোরের সভাপতি সানোয়ার আলম খান দুলু জানান, বিবর্তন যশোর গত ১২ অক্টোবর ৩০ বছরে পা দিয়েছে। তিন দশকে পদার্পণ উপলক্ষে আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এর আগে বিবর্তন দুই বার আন্তর্জাতিক নাট্য উৎসবের আয়োজন করে। এবার তৃতীয়বারের মতো বির্বতনের আয়োজনে আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বিবর্তনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উৎসবের অনুষ্ঠান উপ কমিটির আহ্বায়ক এইচ আর তুহিন জানান, কলকাতার টালিউডপাড়ার অঞ্জনা বসু, বিপ্লব বন্দ্যোপাধায়, দেবশঙ্কর হালদার ও চৈতী ঘোষালের মত জনপ্রিয় অভিনেতা যশোরের নাট্যম মাতিয়েছেন।

এছাড়া বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা অনন্ত হীরা, রমিজ রাজু, নুনা আফরোজ ও লিয়াকত আলী লাকীদের অভিনয়ও দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন।

যশোর জেলা শিল্পকলা একাডেমির শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মে সাতদিনব্যাপী এ নাট্যোৎসব চলছে। এছাড়া ‘রাজনৈতিক, সামাজিক ও শৈল্পিকতায় নাট্যকর্মীদের দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে ১৮ অক্টোবর। সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা শিল্পকলায় এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন কোলকাতার নাট্য গবেষক ও সমালোচক অংশুমান ভৌমিক।

এইচ আর তুহিন আরও জানান, উৎসবের প্রথমদিন ম আলোকিত করে ঢাকার জনপ্রিয় ‘লোক নাট্যদল’। ‘আমরা তিনজন’ নাটক নিয়ে দলটি মাতায়।

বুদ্ধদেব বসুর গল্প অবলম্বনে এই নাটকের নির্দেশনা দিয়েছেন লিয়াকত আলী লাকী। দ্বিতীয়দিন সন্ধ্যায় আয়োজক সংগঠন বিবর্তন যশোর মঞ্চস্থ করে পাহাড়ি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের সাংস্কৃতিক জীবনধারা নিয়ে নির্মিত আলোচিত নাটক ‘মাতব্রিং’।

এ নাটকটি ২০১৮ সালের বিশ্ব থিয়েটার অলিম্পিয়ার্ডে অংশ নেয়ার সুযোগ পায়। সাধনা আহমেদের রচনায় এ নাটকের নির্দেশনা দিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক ইউসুফ হাসান অর্ক।

তৃতীয় দিন মঞ্চস্থ হয় ঢাকার জনপ্রিয় নাট্যদল ‘প্রাঙ্গণেমোর’র নাটক ‘ঈর্ষা’। সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের রচনায় এ নাটকের নির্দেশনা দিয়েছেন জনপ্রিয় টেলিভিশন ও ম অভিনেতা অনন্ত হীরা। চতুর্থদিন চুয়াডাঙ্গার অনির্বাণ থিয়েটার ম স্থ করে ‘জিষ্ণুযারা’। এ নাটকের নির্দেশনা ও ম পরিকল্পনায় করেছেন আনোয়ার হোসেন।

আর পঞ্চম মদিন ‘প্রাচ্য কলকাতা’র জনপ্রিয় নাটক ‘খেলাঘর’ মঞ্চস্থ হয়। হেনরিক ইবসেনের ‘এ ডলস হাউস’ গল্প অবলম্বনে খেলাঘরের নাট্যরূপ দিয়েছেন রতন কুমার দাস। নির্দেশনা দিয়েছেন কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেতা বিপ্লব বন্দ্যোপাধ্যায়। ষষ্ঠদিন পশ্চিমবঙ্গের ঋত্বিক বহরামপুর মঞ্চায়ন করে গ্রামীণ জীবনযাত্রার উপর নির্মিত কাব্য গীতিনাট্য ‘চম্পাবতী’। অমর কবি জসীম উদ্দীনের ‘বেদের মেয়ে’ অবলম্বনে সৈয়দ শামসুল হক এই নাটকের নাট্যরূপ দিয়েছেন। ম ভাবনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন বিপ্লব দে।

১৮ অক্টোবর সমাপনী দিনে পরপর দুইটি নাটক ম স্থ হবে। প্রথমে ম স্থ হবে কোলকাতার অঙ্গন বেলঘরিয়ার নাটক ‘ফিরে পাওয়া’। যার নাট্যকার বেবি সেনগুপ্ত। আলোক পরিকল্পনা ও নিদের্শনা দিয়েছেন অভি সেনগুপ্ত। এরপর মে আসবে পশ্চিমবঙ্গের ‘যুগের যাত্রী চন্দননগর’র নাটক ‘চাঁদসওদাগর’। শঙ্কর বসু ঠাকুরের রচনায় রামকৃষ্ণ মণ্ডল এ নাটকের নির্দেশনা দিয়েছেন।

এইচ আর তুহিন/যশোর