বুধবার দুপুরে আটক হাফিজুর রহমানকে যশোর কোর্ট হাজতে পাঠানো হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যশোরের শার্শায় হিফজুল কোরআন এতিমখানা মাদ্রাসার ছাত্র শাহপরাণ (১২) হত্যা মামলার আসামি মাদ্রাসা শিক্ষক ও মাদ্রাসা সংলগ্ন মসজিদের ইমাম হাফেজ হাফিজুর রহমানকে আটক করেছে পুলিশ।

যশোর নাভারণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জুয়েল ইমরান বুধবার সকাল ১১ টার সময় শার্শা থানায় এক সংবাদ সম্মেলন জানান মাহে রমজান শুরু হওয়ার ৩/৪ দিন পূর্বে রাতে আসামি শাহপরাণের সাথে সমকামিতার চেষ্ট করে ব্যর্থ হয়।

এ আক্রোশের জের ধরে ৩১ মে আসামি শাহ পরাণকে কৌশলে আসামির নিজ বাড়ি শার্শা থানার গোগা গাজিপাড়া গ্রামের বসত বাড়িতে নিয়ে যায়। এরপর শাহ-পরাণকে নির্মম ভাবে হত্যা করে এবং লাশ আসামির বসত ঘরের খাটের নিচে রেখে দেয়।

ঘটনার ৩ দিন পর গত ২ জুন সন্ধ্যায় শাহ-পরাণের পচা গলিত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গতকাল রাত সাড়ে ৮ টার সময় খুলনা জেলার দিঘলিয়া উপজেলার আরাবিয়া কওমি মাদ্রাসা থেকে কাগজ পুকুুর খেদা পাড়া হিফজুল কোরআন এতিমখানা মাদ্রাসার ছাত্র শাহ পরাণ (১২) হত্যা মামলার আসামি মাদ্রাসা শিক্ষক ও মাদ্রাসা সংলগ্ন মসজিদের ইমাম হাফেজ হাফিজুর রহমানকে আটক করেছে পুলিশ।

শার্শা থানা পুলিশের ইনচার্য এম মশিউর রহমান বলেন, গত ০২ জুন বিকাল ৪টায় মোবাইল ফোনে গোগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুর রশিদ জানান যে, গোগা ইউনিয়নের গাজীপাড়া গ্রামস্থ হাফেজ মোঃ হাফিজুর রহমান (৩৫), পিং-মৃত মজিদ মোল্যা এর বসতঘরের মধ্যে চৌকির নিচে একটি লাশ রহিয়াছে যা দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে সহকারী পুলিশ সুপার (নাভারন সার্কেল) আমি দ্রুত সংগীয় অফিসার ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌছাই এবং ঘটনাস্থলে প্রাপ্ত সংবাদের সত্যতা পাই। ঘটনাস্থল হইতে প্রাপ্ত লাশটি উদ্ধার করার পর ভিকটিমের ভাই মোঃ মামুন আলী সংবাদ পাইয়া ঘটনাস্থলে পৌছাইয়া লাশ সনাক্ত করে।

এ সংক্রান্তে শার্শা থানার মামলা নং-০৪, ধারা-৩০২/২০১ পেনাল কোড রুজু করা হয় এবং মামলাটির তদন্তভার এসআই মামুনূর রশিদের উপর অর্পন করা হয়।

মামলাটির তদন্তভার গ্রহন করিয়া তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মামুনূর রশিদ এর নিরলস অভিযান, সিডিআর যাচাই ও তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে তিনি জানতে পারেন যে, উক্ত মামলার আসামী হাফেজ মোঃ হাফিজুর রহমান খুলনা জেলার দিঘলিয়া উপজেলা এলাকায় আত্মগোপন করে রহিয়াছে।

এরপর এসআই মামুনূর রশিদ সংগীয় কনেষ্টবল নাইমুর রহমানকে নিয়া গত ০৮ জুন হইতে ছদ্মবেশে খুলনা জেলার দিঘলিয়া গ্রামের সম্ভাব্য সকল স্থানে উক্ত আসামীর সন্ধান করিতে থাকে। এক পর্যায়ে এসআই মামুনূর রশিদ ও কনেষ্টবল নাইমুর রহমান এর নিরলস অভিযানে ১১ জুন রাত অনুমান ৮টা ৩০ মিনিটে খুলনা জেলার দিঘলিয়া থানা পুলিশের সহায়তায় দিঘলিয়া গ্রামস্থ দিঘলিয়া আরাবিয়া কওমি মাদ্রাসা হইতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।

তিনি আরো বলেন, ধৃত আসামীর নিকট হইতে জানা যায়, রমজান শুরু হওয়ার ৩/৪ দিন পূর্বে রাত্রে আসামী তাহার মাথা টেপা’র জন্য ভিকটিম শাহ-পরাণ (১২)কে তাহার কক্ষে ডাকে। ভিকটিম শাহ-পরাণ(১২) তাহার কক্ষে যায় এবং আসামীর মাথা টিপে দিতে থাকে। একপর্যায়ে শাহ-পরাণ সেখানে ঘুমাইয়া পড়ে। ঐ রাত্রে উক্ত আসামী ভিকটিম শাহ-পরাণ(১২)এর সাথে সমকামিতায় লিপ্ত হয়। একপর্যায়ে ভিকটিম শাহ-পরাণ তাহার সহপাঠি এবং মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির নিকট উক্ত সমকামিতার কথা প্রকাশ করে। এরই জের ধরে ঘটনার তারিখ ও সময়ে উক্ত আসামী ভিকটিম শাহ-পরাণ(১২) কে কৌশলে উক্ত মাদ্রাসা থেকে শার্শা থানাধীন গোগা ইউনিয়নের গোগা গাজীপাড়া গ্রামস্থ তাহার বসত ঘরে নিয়া যায়। সেখানে ভিকটিম শাহ-পরাণ (১২) কে নির্মমভাবে হত্যা করে এবং তাহার লাশ বসত ঘরের মধ্যে চৌকির নীচে রাখিয়া দেয়।

বুধবার দুপুরে আটক হাফিজুর রহমানকে যশোর কোর্ট হাজতে পাঠিয়েছে।

আজকের পত্রিকা/ইয়ানূর রহমান/এআরকে