প্রায় একই সময়ে উৎপন্ন হওয়া দুটি ডিম্বাণু থেকে যমজ বাচ্চাদের উৎপত্তি হয়ে থাকে। ছবি : সংগৃহীত

সাধারণত মানুষ একবারে একটি সন্তানেরই জন্ম দেয়। কিন্তু কখনো কখনো অনেক গর্ভবতী নারী একের অধিক সন্তান জন্ম দিয়ে থাকেন। গর্ভে একের অধিক সন্তান ধারন করা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু যমজ সন্তান ধারণের ক্ষেত্রে কাজ করে কিছু কারণ। কিন্তু সেই কারণগুলো কী?

একটি ডিম্বাণু ভেঙে দুটি হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও যমজ বাচ্চা জন্ম হতে পারে। ছবি : সংগৃহীত

স্ত্রী দেহের ডিম্বাণু ও পুরুষের শুক্রাণুর মিলনে তৈরি হয় ভ্রূণ। প্রতি ঋতুচক্রে নারী শরীরে একটি ডিম্বাণু উৎপন্ন হয়। কিন্তু কখনও কখনও দু‍টি ডিম্বাণুও উৎপন্ন হতে পারে। প্রায় একই সময়ে উৎপন্ন হওয়া দুটি ডিম্বাণু থেকে যমজ বাচ্চাদের উৎপত্তি হয়ে থাকে। না, শুধু এটাই কারণ নয়, একটি ডিম্বাণু ভেঙে দুটি হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও যমজ বাচ্চা জন্ম হতে পারে।

পরিসংখ্যান বলছে যে গত কিছু বছরে যমজ সন্তান জন্মানোর হার অনেক বেড়েছে।  প্রতি ৬৫ জনে একজন মায়ের সাধারণ প্রক্রিয়াতেই যমজ সন্তান হতে পারে। মায়ের পরিবারে কেউ যমজ থেকে থাকলে এর সম্ভাবনা বেশি থাকে। চিকিৎসকরা এরকম হওয়ার কারণ হিসাবে দায়ী করেছেন বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসার জন্য যে ওষুধ ব্যবহার করা হয় সেই ওষুধকে। সেই ওষুধের সাইড এফেক্টের জন্যই যমজ সন্তানের জন্ম হচ্ছে। যেহেতু সব ওষুধেরই কিছু না কিছু সাইড এফেক্ট থাকে। এই ওষুধ দীর্ঘদিন সেবনের ফলে দুটি ডিম একসঙ্গে নিষিক্ত হয়। ফলে প্রসবকালে জন্ম হয় যমজ সন্তানের।

যমজ সন্তান হওয়ার অন্য আর একটি কারন হল টেস্ট টিউব বেবি। টেস্ট টিউব বেবির ক্ষেত্রে একাধিক ভ্রুন মায়ের গর্ভে সঞ্চার করা হয়। এই ক্ষেত্রে যমজ সন্তান জন্ম হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। একাধিক ভ্রুন গর্ভে সঞ্চার করার ফলে একের বেশি দুটি ভ্রুন নিষিক্ত হয়ে যায়। আর জন্ম হয় যমজ সন্তানের।

যমজ সন্তান হওয়ার আরও একটি বড় কারণ পেয়েছেন চিকিৎসকরা। তারা বলছেন যে বেশি বয়সে মা হওয়া আরও একটি কারণ। অনেকেই স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বয়সে গর্ভবতী হন। তাদের ক্ষেত্রে এরকম সমস্যা দেখা দিতে পারে।

যমজ সন্তান প্রসবের সময় মায়ের যেসব সমস্যা দেখা দিতে পারে

গর্ভবতী মা। ছবি : সংগৃহীত

এসময় মা এবং সন্তান দুজনের শরীরেই কিছু জটিলতা দেখা দিতে পারে। প্রি টার্ম ডেলিভারির ক্ষেত্রে অনেক সময় মায়ের মৃত্যুও হতে পারে। এসময় যে সমস্যাটি খুব সাধারন সেটি হল মায়ের শরীরে রক্তের স্বল্পতা দেখা দেয় আর ব্লাড প্রেসার বেড়ে যায় তার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট শুরু হতে পারে। ডেলিভারির পর রক্তস্রাব বেশি হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে।

ডেলিভারির সময় বাচ্চার যেসব সমস্যা হতে পারে

ডেলিভারির সময় অনেক বাচ্চার ক্ষেত্রে ওজন কম হয়। ছবি : সংগৃহীত

পরিনত শিশু, বাচ্চার ওজন কম হওয়া, নানা ধরনের জন্মগত ত্রুটি, এছাড়া জন্মের সময় কিছু কিছু বাচ্চার মৃত্যুও হতে পারে।

চিকিৎসা

মাকে পরিমাণ মত বিশ্রাম নিতে হবে। পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। শরীরে অ্যানিমিয়ার সমস্যা যাতে না হয় তার জন্য শরীরে আয়রন ও ফলিক অ্যাসিডের পরিমান বাড়াতে হবে।

আজকের পত্রিকা/কেএইচআর/