ময়মনসিংহের বাস টার্মিনালে বাস।

বিআরটিসির বাস চলাচল নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ময়মনসিংহে গতকাল সোমবার দুই পক্ষের হাতাহাতিতে তিনজন শ্রমিক আহত হয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে ও বিআরটিসি বাস বন্ধের দাবিতে ময়মনসিংহ থেকে সব পথে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।

বাস বন্ধ থাকায় ময়মনসিংহের বিভিন্ন উপজেলার পাশাপাশি ঢাকাসহ সব জেলাগামী যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। তারা বিকল্প বিভিন্ন গণপরিবহনে বাড়তি ভাড়া দিয়ে এখন গন্তব্যে যেত বাধ্য হচ্ছে।

সর্বশেষ গত রোববার ময়মনসিংহ থেকে নেত্রকোনা সড়কে আরও ১০টি বিআরটিসি বাস চালু হয়। কিন্তু পরিবহন শ্রমিকদের বাধায় চার ঘণ্টার মাথায় ওই বাস সার্ভিস বন্ধ হয়ে যায়।

শ্রমিকদের দাবি, বিআরটিসির বাস নিয়ম না মেনে চলছে। এতে সাধারণ গণপরিবহনে যাত্রী কমেছে। পাশাপাশি বিআরটিসির বাস যত্রতত্র পার্কিং করায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

বিআরটিসির বাসগুলো ময়মনসিংহ নগরের পাটগুদাম আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল হয়ে চলাচল করে। গতকাল সকালে ওই এলাকায় গিয়ে বিআরটিসির বাস চলাচলে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন সাধারণ গণপরিবহনের শ্রমিকেরা। এ নিয়ে সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পাটগুদাম টার্মিনাল এলাকায় বিআরটিসি বাসের শ্রমিকেরা তিনটি বাস রেখে চলে যান। এতে ওই সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ নিয়ে দ্বিতীয় দফায় উত্তেজনার সময় হাতাহাতিতে তিনজন শ্রমিক আহত হন।

ময়মনসিংহ জেলা মোটর শ্রমিক সমিতির সভাপতি আবদুস ছালাম জানান, বিআরটিসির বাস চলাচলের একটা নিয়ম আছে। সেটা হচ্ছে, বাসগুলো বিআরটিসির ডিপো থেকে ছেড়ে গিয়ে অন্য কোনো ডিপোতে যাত্রা শেষ করবে। কিন্তু এখানে সেই নিয়ম মানা হচ্ছে না। বিআরটিসির বাসগুলো সাধারণ গণপরিবহনের টার্মিনালের সামনে থেকেই যাত্রী নিচ্ছে। এতে সাধারণ শ্রমিকেরা ক্ষিপ্ত হয়েছেন।

এদিকে নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ পথে চালুর মাত্র চার ঘণ্টার মাথায় বিআরটিসির বাস বন্ধের প্রতিবাদে গতকাল মানববন্ধন করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ।

নেত্রকোনা জেলা শহরের মোক্তারপাড়া এলাকায় এই কর্মসূচি থেকে বক্তারা বলেছেন, এই পথে দ্রুত বিআরটিসির বাস চালু না হলে মালিক সমিতির কোনো বাসও চলতে দেওয়া হবে না।

ময়মনসিংহ ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (প্রশাসন) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে এ ব্যাপারে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।