উপজেলা চেয়া্রম্যানের মতে কোনো নারীকে জড়িয়ে ধরা তার দৃষ্টিতে অস্বাভাবিক কিছু নয়। ছবি : সংগৃহীত

বান্দরবান জেলার আলীকদমে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এক নারীকে জড়িয়ে ধরেন উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আবুল কালাম। ২৪ মার্চ রবিবার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ২৫ মার্চ সোমবার এ নিয়ে মুখ খুলেছেন ওই নারীর পরিবার।

আগের দিন ভাইরাল হওয়া ছবিতে ওই নারীর এমন অভিব্যক্তি ফুটেছে যে তাকে বিব্রত ও অসহায় মনে হয়েছে। যেন নিজেকে তিনি ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেও পারছেন না। তাৎক্ষণিকভাবে ওই ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে। কিন্তু ২৫ মার্চ সোমবার আরো বেশকিছু ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে মেয়েটিকে স্বাভাবিক, হাসিখুশি অবস্থায় দেখা যায়।

বিষয়টিকে স্বাভাবিক মেনে নিয়ে মেয়েটির ভাই জানান, চেয়ারম্যান সাহেব তাদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের মতো তার বোনকে জড়িয়ে ধরে ছবি তুলেছেন। তিনি ও তার বোন, তাদের পরিবার ও সমাজের কেউ এতে কোনো অশালীনতা এবং সম্মানহানির বিষয় হিসেবে দেখছেন না।

চেয়ারম্যান সাহেব জোর করে বা ইচ্ছার বিরুদ্ধে এ ছবি তুলেছেন বিষয়টি তেমন নয়। তাদের কাছে বিষয়টি অত্যন্ত স্বাভাবিক বলে জানিয়েছেন তার ভাই। তার বোনের ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার জন্যও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।

ওই নারীর ভাই আরও জানান, চেয়ারম্যান আবুল কালামের নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছেন মেয়েটি। আবুল কালাম সাহেবের সাথে দীর্ঘদিন তাদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও যাতায়াত রয়েছে। সে কারণে তারা মেয়েটিকে দিয়ে চেয়ারম্যান সাহেবকে ফুলের মালা গলায় পরায় এবং এ সময় তাদের পাড়ার অসংখ্য লোক উপস্থিত ছিল।

এদিকে, বিরোধীপক্ষ অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে নির্দোষ এই ছবি ছড়িয়ে কুৎসা রটনা করছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ও নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম। উল্লেখ্য, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়।

চেয়ারম্যানের আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও অনেকে চেয়ারম্যানের সঙ্গে ম্রো তরুণীর ছবি ছড়িয়ে দেওয়াকে তরুণীটির জন্য ‘মর্যাদাহানিকর’ বলে মন্তব্য করেছেন। কেননা ছবিটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় যা ইচ্ছে তা বলা যেতে পারে কিন্তু মেয়ের ছবিটি ঘোলা করে দেয়া যেত বলে নেটিজেনদের অভিমত।

আজকের পত্রিকা/এমএআরএস/জেবি