গ্রীষ্মকালীন বিষণ্ণতা খুবই বিরল, কিন্তু এটি দেখা যায় বসন্তের শেষ থেকে শীতের শুরুর দিকে। ছবি: সংগৃহীত

মৌসুমী বিষণ্নতা, যা মৌসুমী প্রতিক্রিয়াশীল ব্যাধি (এসএডি) নামেও পরিচিত। ঋতু পরিবর্তনের ফলে ঘটে এমন বিষণ্নতা। এই অবস্থা সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে শীতকালে। গ্রীষ্মকালীন বিষণ্ণতা খুবই বিরল, কিন্তু এটি দেখা যায় বসন্তের শেষ থেকে শীতের শুরুর দিকে। বছরের নির্দিষ্ট এ সময়ে তাদের মনোভাব এবং মেজাজ পরিবর্তন হয়। যদিও বিজ্ঞানীরা সঠিক কারণটি জানেন না। তবে তাদের মতে শীতের মাসগুলিতে সূর্যালোকের অভাব থাকার ফলে মস্তিষ্কের সেরোটোনিন এর পরিমান কমে যায়। সেরোটোনিন এক প্রকার হরমোন, যা মেজাজকে নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়াও বিষণ্নতা ও ওজন বৃদ্ধি করে।

মৌসুমি বিষণ্ণতা পুরুষদের তুলনায় মেয়েদের বেশি হয়ে থাকে। এটা প্রাপ্তবয়স্ক থেকেই শুরু হয়। যা ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং কাজের কার্যকারিতার উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। গ্রীষ্মপ্রধান দেশগুলোতে এই অবস্থার পরিমান নেই বললেই চলে। এই শীতকালীন বিষণ্ণতার লক্ষণগুলোর মধ্যে ক্লান্তি বৃদ্ধি, ক্ষুধা, ঘুমের চাহিদা বৃদ্ধি এবং বিচ্ছিন্নতা অন্তর্ভুক্ত। আর গ্রীষ্মকালে তার বিপরীত হয়। কম ক্ষুধা, ওজন কমানো, এবং ঘুমের সমস্যা অন্তর্ভুক্ত।

মৌসুমী বিষণ্নতা কাটানোর জন্য একটি সুষম খাদ্য তালিকা এবং প্রতিদিন ব্যায়াম করা জরুরি। ছবি: সংগৃহীত

এই লক্ষণগুলো দেখা দিলেই ডাক্তারের সহায়তা নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। চিকিৎসা ব্যবস্থায় রয়েছে বিষণ্ণতা কাটানোর ওষুধ। এই অবস্থার জন্য কেবলমাত্র একটি এফডিএ অনুমোদিত ঔষধ রয়েছে, যা বুপোপিয়ান এক্সএল নামে পরিচিত। এই ওষুধটি বিষণ্ণতার উপসর্গগুলি হ্রাস করতে সাহায্য করে। ফটোথেরাপির মতে, এই অবস্থায় প্রাকৃতিক সূর্যালোকের পাশাপাশি থাকা ভালো। দৈনিক ১০-১৫ মিনিট সূর্যের আলোতে বসে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়। সূর্যালোকের অভাব আমাদের শরীরের মেলাতোনিন নামে পরিচিত হরমোনকেও প্রভাবিত করে।

মৌসুমী বিষণ্নতা কাটানোর জন্য একটি সুষম খাদ্য তালিকা এবং প্রতিদিন ব্যায়াম করা জরুরি। কাজের মধ্যে থাকাটাও জরুরি। যদি এই লক্ষণ প্রতি বছর একই সময় ঘটে, তাদের আবার তাদের আবার ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত। খোলাখুলিভাবে আপনার অনুভূতি সম্পর্কে আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলতে হবে।

আজকের পত্রিকা/রিয়া/এমএইচএস