মৌলভীবাজারের বর্ষিজুড়া ইকো পার্ক। ছবি-শাহাব উদ্দিন আহমেদ

‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ির দেশ’ মৌলভীবাজার জেলার পর্যটনের উন্নয়নে ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে মৌলভীবাজার বন বিভাগ।

মৌলভীবাজার বন রেঞ্জের আওতাধীন মৌলভীবাজার জেলা ও হবিগঞ্জ জেলার তিনটি পার্ক ও উদ্যানে পুরাতন অবকাঠামোর সংস্কার কাজ, পথচারীদের স্বাচ্ছন্দে চলাফেরার জন্য ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ, লেক ও ছড়ার অবকাঠামো উন্নয়নসহ পর্যটকদের আর্কষণের জন্যই মূলত এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছে বনবিভাগ ।

মৌলভীবাজার বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ৮৮৭ একর সংরক্ষিত বনভূমি নিয়ে বর্ষিজুড়া হিল রিজার্ভ ফরেস্ট গঠিত। ইকো ট্যুরিজমের বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ২০০৬ সালের জুলাই মাসে বিশাল এই ফরেস্টকে ইকোপার্ক হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

পরবর্তীতে ২০০৬ সালের জুলাই মাস থেকে ২০১১ সালের জুন পর্যন্ত এই পার্কে কিছু উন্নয়ন কাজ করানো হয়। সে সময় ২ কক্ষ বিশিষ্ট ইকো কটেজ, ৪টি পিকনিক স্পট, ২টি অবজারভেশন টাওয়ার, ৪টি সিকিউরিটি পোস্ট, ৫টি পাবলিক টয়লেট, টিকেট কাউন্টার এবং ১টি ক্যান্টিনসহ কয়েকটি বেঞ্চ নির্মাণ করা হয়।

কিন্তু দীর্ঘদিনে এগুলো সংস্কার না হওয়াতে স্থাপনাগুলো আগাছায় ভরে গেছে। বর্তমানে এখানে এসে বসা বা ঘোরাফেরার উপযুক্ত পরিবেশ নেই বললেই চলে। তাই এ স্থানটিকে আকর্ষণীয় পরিপূর্ণ মনোরম পর্যটন স্থানে পরিণত করার লক্ষ্যে নতুন অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যমান পুরাতন অবকাঠামোসমূহ মেরামত ও উন্নয়ন কাজ করার জন্য একটি প্রস্তাব বন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে বন বিভাগ।

এদিকে, জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত ১২৫০ হেক্টরের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে নতুন ২টি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ, উদ্যানের পাশের বাগমারা লেকের অবকাঠামো উন্নয়ন, লাউয়াছড়া উদ্যানের ভেতর দিয়ে বয়ে চলা রেললাইনের উপরে দিয়ে পর্যটকরা চলাচলের সুবিধার্থে ঝুলন্ত সেতু (কেনোপি) নির্মাণসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কাজ করানো হবে।

এছাড়া হবিগঞ্জ জেলার ৬০০ হেক্টর এলাকা নিয়ে সাতছড়ি উদ্যানটি অবস্থিত। এই উদ্যানটি মৌলভীবাজার বন রেঞ্জের আওতাধীন তাই উদ্যানের ভেতর দিয়ে পর্যটকদের পায়ে হাঁটার পথ নির্মাণ, মিষ্টি পানির জন্য নতুন কয়েকটি পুকুর খনন, উদ্যানের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত ছড়াগুলোর ভাঙন রোধ কাজ, ওয়াশরুম, লেকসহ সকল পুরাতন ও নতুন অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মুজিবুর রহমান জানান, অনেকটা অযত্নে অবহেলায় পড়ে আছে বর্ষিজুড়া ইকো পার্কটি। লাউয়াছড়াসহ অন্যান্য পর্যটন এলাকাগুলো সময়ে সময়ে সংস্কার হলেও এই পার্কটি হয়নি। তাই এই পার্কটির সৌন্দর্য্যবর্ধনসহ অবকাঠামো উন্নয়ন হলে পর্যটক সংখ্যা এখানে বাড়বে।

এদিকে, বনবিভাগের এই প্রকল্প হাতে নেয়ায় এলাকার আশেপাশের শিক্ষার্থী ও মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। তারাও পুরাতন অবকাঠামো সংস্কার ও পর্যটকদের উপযোগী করে ইকো পার্কটিকে গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন।

কালেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আলমগীর আলম জানান, যদি ইকো পার্ককে উন্নয়ন করা হয়; তাহলে অত্র এলাকার উন্নয়নের জন্য মডেল হিসেবে পার্কটি কাজ করবে। পার্কটি অবহেলা ও অবহেলিত হওয়ায় ভূতুড়ে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। আশপাশের এলাকার বিভিন্ন সড়কের সাথে সংযুক্ত হবে। ফলে এখানকার জমির মালিকরাও পর্যটন ব্যবসায় উৎসাহিত হবে।

এ বিষয়ে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ (সিলেট) এর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু মোছা শামসুল মোহিত চৌধুরী জানান, প্রকল্পের এই অর্থ মৌলভীবাজারের বর্ষিজুড়া ইকো পার্ক ও লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এবং হবিগঞ্জের সাতছড়িতে ব্যয় করার জন্য বন মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।

তিনি জানান, প্রস্তাবনার ভিত্তিতে ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে একটি টিম সরেজমিন এই তিনটি স্পট পরিদর্শন করে বাস্তবতা যাচাই-বাছাই করে গেছে। বর্তমানে প্রস্তাবনাটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অচিরেই অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে বনবিভাগ আশা করছে।