সিফাত বিনতে ওয়াহিদ
সিনিয়র সাব-এডিটর

৭ নভেম্বর ঘোষণা করা হয়েছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৭ ও ২০১৮ সালের বিজয়ীদের নাম। নাম ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং চলচ্চিত্র পাড়ায় চলছে তীব্র সমালোচনা এবং বিতর্ক। চাপা অসন্তোষ থেকে বের হয়ে অনেকেই এবারের বিজয়ীদের নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কেউ কেউ কথা বলছেন পুরস্কারের ক্যাটাগরি নিয়েও।

প্রথমবারের মতো পুরস্কারের শর্ত ভঙ্গ করে একজন বিদেশী নাগরিক এ বছর পুরস্কৃত হতে যাচ্ছেন। ২০১৭ সালের শ্রেষ্ঠ সম্পাদনার পুরস্কারটি পেয়েছেন ‘ঢাকা অ্যাটাক’ সিনেমার জন্য ভারতীয় নাগরিক মো. কালাম। জাতীয় চলচ্চিত্রের শর্তাবলীর মধ্যে স্পষ্ট আছে, ‘শুধুমাত্র বাংলাদেশি নাগরিকগণই জাতীয় পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হবেন।’ সে শর্ত ভঙ্গ করে কীভাবে একজন বিদেশি নাগরিক এ পুরস্কার বিজয়ী হন- তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।

বিতর্ক এখানেই শেষ নয়। সমালোচনা হচ্ছে ‘কমলা রকেট’ চলচ্চিত্রে মোশাররফ করিমকে শ্রেষ্ঠ কৌতুক অভিনেতা হিসেবে পুরস্কার দেওয়া নিয়েও। চলচ্চিত্র বোদ্ধারা কোনোভাবেই মোশাররফ করিমের এই চরিত্রটিকে কৌতুক অভিনেতা হিসেবে মেনে নিতে পারছেন না। খোদ এই সিনেমার চিত্রনাট্যকার খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক শাহাদুজ্জামান মোশাররফকে এই ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, “আজ জানলাম এ বছরের বাংলাদেশের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারের তালিকায় ‘কমলা রকেট’ ছবিটির জন্য জুটেছে এক অভিনব পুরষ্কার । পুরষ্কার শ্রেষ্ঠ কৌতুক অভিনেতার জন্য। চিত্রনাট্য যখন লিখি মোশাররফ করিমের চরিত্রটিকে আর যেভাবেই ভেবে থাকি না কেন কৌতুক চরিত্র ভাবিনি ঘুনাক্ষরেও। এমন একটা বহুস্তরী চরিত্রের এ ধরনের মুল্যয়নে আমি বেশ বিষ্মিত এবং খানিকটা কৌতুকাচ্ছন্নও।”

এ মুহূর্তে মোশাররফ করিম সপরিবারে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। জাতীয় পুরস্কার যে কারোর জন্য সম্মানজনক হলেও নিজের অভিব্যক্তি ব্যক্ত করতে গিয়ে এই অভিনেতা জানিয়েছেন, তাকে যেই বিভাগে পুরস্কারটি দেওয়া হয়েছে, চরিত্রটি সেই বিভাগের না হওয়ায়, তিনি পুরস্কারটি নিতে পারছেন না।’

যে কোনো পুরস্কার নিয়েই বিতর্কের সৃষ্টি হওয়াটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, তবুও কিছু সমালোচনা নানা কারণেই হয়তো যৌক্তিক হয়ে ওঠে। ২০১৭-২০১৮ সালের জাতীয় পুরস্কার বিজয়ীদের তালিকা অন্তত সেদিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আজকের পত্রিকা/সিফাত