জয়ের পর সমর্থকদের ফুলেল সংবর্ধনায় নরেন্দ্র মোদি। ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচনে জেতার জন্য যে কারিশমা দেখাতে হয় তা কিন্তু কংগ্রেস দেখাতে পারেনি। আবার গত টার্মে বিজেপি এমন খুব বড় ভুল করেনি যে,যার জন্য তাদের জনপ্রিয়তা তলানিতে যাবে। আর সবচেয়ে বড় বিষয় ভারত একজন ভালো বক্তা প্রধানমন্ত্রীকে পেয়েছে । যে কিনা সকল পরিস্থিতিতে খুব ভালো বক্তৃতা দিতে পারে। যার কারণে মোদির জনপ্রিয়তা কোনোভাবেই কমে যায়নি। বরং তাকে যারা অপছন্দ করে তারাও তার ভক্তে পরিণত হয়েছে তার সহনশীল আচারণ ও বক্তৃতার কারণে।

এখানে আমার মনে হয় না ধর্মের কোনো বিষয় আছে । কারণ কেউ যদি জয়ী হওয়ার মত যথেষ্ট জনপ্রিয়তা তৈরি না করতে পারে তার জন্য ধর্মকে টানা ঠিক হবে বলে মনে হচ্ছে না ।

মোদির জয়ের বিপক্ষে নানা যুক্তি দিয়ে বিজেপিকে ধর্মীয় উগ্র দল বলে বাংলাদেশের মানুষ কি বোঝাতে চান এই দেশ ধর্মনিরপেক্ষ দেশ? ধর্মীয় দলকে ক্ষমতায় আনে না এমন কিছু বা জাতি হিসাবে ধর্মনিরপেক্ষ বোঝানো? মমতাও ধর্মীয় একটি জাতিগোষ্ঠীকে খুশি রাখতে রাজনীতির খেলায় অনেক নাটক দেখিয়েছেন ।

বাংলাদেশে কি কেউ ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতি করে ? কোনো দল বা মানুষ? জানতে ইচ্ছে করে খুব । সংবিধানে কি লেখা আছে তাহলে প্রথমে ? বাংলাদেশে একটা কথা শিক্ষিত অশিক্ষিত সবাই বলে শুনি প্রায়ই । বিজেপি নাকি বাংলাদেশের জামাত, একই দল । শুনে হাসি পায় কারণ বিজেপি অবশ্যই ধর্মীয় উগ্রবাদী দল এইটা চরম সত্য মেনেই নিয়ে বলছি বিজেপি তা হয়েও দেশপ্রেমিক ভারতপন্থী দল আর জামাত ও ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদী দল কিন্তু তারা দেশপ্রেমিক ও বাংলাদেশপন্থী নয় তারা পাকিস্তানপন্থী দেশদ্রোহী গণহত্যাকারী ও অন্য ধর্ম বিদ্বেষী একটা দল । তাই আমি জামাতের সাথে বিজেপিকে কোনোভাবেই মেলাতে পারি না। বিজেপি থেকে শিবসেনা আরও খারাপ দল। তাদের আমি প্রচণ্ড ঘৃণা করি । মমতার চাইতে মোদিকে ভালো লাগার ভারতীয় জনগণের অনেক কারণ আছে বলে মনে করি ।

বিজেপি শিবসেনা যে ধর্মীয় উগ্রবাদী দল পরিষ্কার কিন্তু আমাদের দেশে কোনো দলই রাষ্ট্রীয় বা রাজনৈতিক দলীয়ভাবে ধর্ম নিরপেক্ষ দল কিনা তা পরিষ্কার নয়। ৪৭ বছরে ধর্মীয় উগ্রতা আর উগ্রতাহীন সব দলের দখলদারীত্ব অত্যাচার নিপীড়নে এই দেশ ত্যাগ করেছে একটি জাতিগোষ্ঠী । বাম দল তো এই দেশে আরো ভয়ংকর কারণ তাদের চেনা কঠিন রাজনীতিতে। এতকাল এদের দেখে আমার ভাবনা তাই ।

ভুলি নাই ১৯৯০ সাল, ভুলি নাই ২০০১ সাল আর মাঝখানে রাজনীতির সব খেলাধুলায় সংখ্যালঘুদের নানাভাবে ব্যবহারের নমুনা ! ভালো থাকুক প্রিয় স্বদেশ আমার জন্মস্থান বাংলাদেশ ।

লেখক : কমল দাশ। আলোকচিত্রী, সাংবাদিক