ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিলেন হলিউড অভিনেত্রী পামেলা অ্যান্ডারসন। পরিবেশের সুরক্ষায় ভারত সরকারের সব বৈঠক ও অনুষ্ঠানে শুধুই নিরামিষ খাবার পরিবেশনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) এই চিঠি পৌঁছেছে মোদির হাতে।

আমেরিকাভিত্তিক প্রাণী অধিকার সংরক্ষণের সংগঠন পিপল ফর দ্য এথিক্যাল ট্রিটমেন্ট অব অ্যানিমেলস তথা পেটার সাম্মানিক পরিচালক পদে আছেন পামেলা। প্রাণীদের চামড়া ও দাঁত দিয়ে বানানো পণ্য ও মাংস-দুগ্ধজাত দ্রব্য এড়িয়ে চলতে পেটার বিভিন্ন প্রচারণায় সক্রিয় থাকেন তিনি।

মোদিকে পাঠানো চিঠিতে পামেলা উল্লেখ করেন, দুগ্ধজাত দ্রব্য, মাংস ও ডিমের পেছনে পড়ে থাকায় ২০ শতাংশ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হয়। তার কথায়, ‘ভারত উদ্ভাবনী ও কৃষি খাতে সফল রাষ্ট্র। এখানে বৈচিত্র্যময় অনেক খাবার আছে যা সহজেই এসব ক্ষতিকারক খাবারের পরিবর্তে অভ্যস্ত হতে পারে মানুষ।’

৫২ বছর বয়সী এই তারকার মন্তব্য, নিরামিষভোজী হওয়ার ক্ষেত্রে ভারত জুতসই দেশ। রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস’-এ অতিথি ছিলেন তিনি। তাই এখানকার নিরামিষ খাবার সম্পর্কে ভালোই জানা তার। তিনি বলেন, ‘জাফরান ভাতের রঙ ও ভেজিটেবলস বিরিয়ানির লোভনীয় সুগন্ধ এখনও নাকে লেগে আছে। ভারতীয় এসব খাবারের তুলনা হয় না।’

চিঠিতে নিউজিল্যান্ড, চীন ও জার্মানির নিরামিষের সপক্ষে থাকার উদাহরণ টেনেছেন পামেলা। ভারতও একইরকম উদ্যোগ নিতে ও সেরাটা দিতে পারে বলে মনে করেন তিনি। ‘বেওয়াচ’ তারকা উল্লেখ করেন, পরিবেশের সুরক্ষায় সারাবিশ্বকে নিরামিষ খাবারে অভ্যস্ত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে জাতিসংঘ।

পামেলার মন্তব্য, নিরামিষ খাবার খেলে ডায়াবেটিস, কোলন ও স্তন ক্যান্সার এবং হৃৎপিণ্ডে সৃষ্ট রোগের চিকিৎসা ব্যয় কমানো যায়। একইসঙ্গে প্রাণীরা রক্ষা পায়।

ভারতের রাজধানী দিল্লির বায়ুদূষণ নিয়েও চিঠিতে উদ্বেগের কথা জানান পামেলা। তিনি বলেন, ‘দিল্লির মারাত্মক বায়ুদূষণে প্রাণীদের নিয়ে দুশ্চিন্তা হচ্ছে। কারণ তারা নাক ঢেকে কিংবা ঘরের ভেতরে থাকতে পারে না।’