মানুষ স্বপ্ন নিয়েই বেঁচে থাকে। কিন্তু সেই স্বপ্নের খুব কাছে গিয়েও যদি মুখ থুবড়ে পড়তে হয়, তবে বেঁচে থাকাটা নেহাৎই উপহাস মনে হয়। এই রকম এক স্বপ্নের কাছাকাছি পৌঁছেও থমকে আছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চককীর্তি ইউনিয়নের রানীবাড়ি গ্রামের খাদিজা খাতুনের জীবন।

২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস কোর্সের প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে রংপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন খাদিজা। কিন্তু দিনমজুর পিতার এই সন্তান অর্থের অভাবে মেডিকেলে ভর্তি নিয়ে পড়েছেন অনিশ্চয়তায়। দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া খাদিজার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে কিনা, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে হতাশা। দিনমজুর বাবার পক্ষে ভর্তিসহ খাদিজার লেখাপড়ার খরচ চালানো সম্ভব নয়। এ অবস্থায় সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তিদের দিকে তাকিয়ে আছে খাদিজার পরিবার।

মেয়ে ভালো ফলাফল করায় চোখে ঘুম নেই দিনমজুর বাবা জালাল উদ্দিন ও মা জোছনা বেগমের। মেয়েকে মেডিকেল কলেজে ভর্তি ও লেখাপড়ার খরচ জোগানোর চিন্তায় হতাশ হয়ে পড়েছেন তারা। খাদিজা খাতুনের বাবা জালাল উদ্দিন জানান, বাড়ির জায়গাটুকু ছাড়া কিছুই নেই তার। বাঁশের বেড়ার তৈরি ছোট্ট একটি ঘরে পরিবারের সাত সদস্যের বসবাস। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। দিনমজুরের কাজ করে সাত সদস্যের খাবারের জোগান দিতেই হিমশিম খেতে হয় তাকে। এরপরও ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখা করিয়েছেন।

জালাল উদ্দিনের বড় ছেলে আনোয়ার হোসেন রাজশাহী কলেজ থেকে মাস্টার্স পাস করে চাকরি খুঁজছে। বড় দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে এবং ছোট ছেলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। ছোট মেয়ে খাদিজা ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী। অনেক কষ্ট করে মেয়ে খাদিজাকে পড়ালেখা করিয়েছেন জালাল উদ্দিন। এখন সে মেডিকেলে সুযোগ পেলেও তাকে মেডিকেলে ভর্তি এবং পড়ালেখার খরচ চালানোর মতো সামর্থ্য দিনমজুর বাবার নেই।

জালাল উদ্দিন বলেন, রানীবাড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে খাদিজা। মানুষের কাছ থেকে সাহায্য-সহযোগিতা নিয়ে এতদিন তার পড়ালেখার খরচ চালিয়েছি। কিন্তু এখন একসঙ্গে অনেক টাকা লাগবে। এ অবস্থায় আমার পক্ষে তার লেখাপাড়ার খরচ চালানো সম্ভব নয়। সমাজের বিত্তবানরা যদি সহযোগিতা করেন তাহলে খাদিজা ডাক্তার হবে, না হয় এখানেই তার পড়ালেখার সমাপ্তি ঘটবে। মেয়েকে ডাক্তার বানানোর স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে।

ছোটবেলা থেকে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নে বিভোর খাদিজা অভাব-অনটনের সংসারে নিজের স্বপ্ন পূরণের জন্য লেখাপড়ার পাশাপাশি অনেক কষ্ট করেছেন। ভালোভাবে লেখাপড়ার সুযোগ না পেয়েও এসএসসি এবং এইচএসসিতে দুটোতেই পেয়েছেন জিপিএ-৫। এরই ধারাবাহিকতায় মেডিকেলে চান্স পেয়েছেন তিনি।

স্বপ্নের দিকে এত পথ হাঁটার পরও শুধুমাত্র সামান্য কিছু টাকার অভাবে খাদিজার পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যাবে, এটা কারোই কাম্য হওয়ার কথা নয়। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খাদিজার এই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে সমাজের বিত্তশালীরা এগিয়ে এলে একটি মেধাবীর ডাক্তার হওয়ার পথ সহজ হবে। খাদিজা খাতুনকে সহযোগিতা করতে চাইলে এই নম্বরগুলোতে অর্থ প্রদানের আহ্বান জানায় তার পরিবার-

রকেট অ্যাকাউন্ট-০১৭৯৪৬৫৮৫৮৯৮ ও খাদিজার বড় ভাই আনোয়ার হোসেনের বিকাশ অ্যাকাউন্ট নম্বর-০১৭৮০৫৯৭৫৩৫।

আজকের পত্রিকা/সিফাত