বাঙালীর ঐতিহ্যের অংশ পান্তাভাত। ছবি : সংগৃহীত

গ্রীষ্মের খরতাপে অতিষ্ট জনজীবন। এমন গরমে শরীর, মন মেজাজ ঠান্ডা রাখতে ঘরোয়া সবচেয়ে সহজ ও উপকারী খাদ্য হচ্ছে পান্তাভাত। বাঙালির প্রাচীন ঐতিহ্যের অংশ এই পান্তা ভাত। একটু লবণ, শুকনা মরিচ পোড়া অথবা কাঁচা মরিচ এবং পিঁয়াজ, যেকোনো ভর্তা সঙ্গে থাকলে আচার ও ইলিশ ভাঁজা দিয়ে পান্তাভাত অমৃতের মতোই লাগে। বাংলাদেশ সহ পূর্ব এবং দক্ষিণ ভারতে এ খাবারের প্রচলন চলে আসছে প্রাচীন কাল থেকে। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের পরিবারে।

চলুন জেনে নেয়া যাক পান্তাভাতে কি কি উপকার পাওয়া যাবে-

১. পান্তা ভাত খেলে শরীর হালকা থাকে এবং কাজে বেশি শক্তি পাওয়া যায়।

২. রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে।

৩. পেটের ব্যথা ভালো হয় এবং শরীরে তাপের ভারসাম্য বজায় রাখে।

৪. মেজাজ ভাল থাকে।

৫. মানব দেহের জন্য উপকারি বহু ব্যাকটেরিয়া পান্তা ভাতের মধ্যে বেড়ে যায়।

৬. কোষ্ঠবদ্ধতা দূর হয় এবং শরীর সতেজ থাকে।

৭. সব রকম আলসার দূরীভূত হয়।

৮. শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

৯. এলার্জির সমস্যা থাকলে পান্তা ভাত তা কমাতে সাহায্য করে,ত্বকও ভালো রাখে।

১০. মন মেজাজ ভালো রাখে।

(তবে সর্দির সমস্যা এবং বয়স্কদের পান্তাভাত না খাওয়াই ভালো)

গবেষণায় দেখা যায় যে, পান্তা ভাতের মধ্যে রয়েছে ভিটামিন বি-৬ এবং ভিটামিন বি-১২। এ ভাতের মধ্যে রয়েছে অনেক উপকারি ব্যাকটেরিয়া যা খাদ্য হজম করতে সহায়তা করে এবং বহু রোগ প্রতিরোধ করে। এ ভাতে রয়েছে হাড় ও পেশি শক্তি বৃদ্ধির উপাদান এবং বার্ধক্য প্রতিরোধ ক্ষমতা। ১০০ গ্রাম পান্তা ভাতে (১২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখার পর) ৭৩.৯১ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে, যেখানে সম-পরিমাণ গরম ভাতে থাকে মাত্র ৩.৪ মিলিগ্রাম। এছাড়া ১০০ গ্রাম পান্তাভাতে পটাশিয়ামের পরিমাণ বেড়ে হয় ৮৩৯ মিলিগ্রাম এবং ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বেড়ে হয় ৮৫০ মিলিগ্রাম, যেখানে সম-পরিমাণ গরম ভাতে ক্যালসিয়াম থাকে মাত্র ২১ মিলিগ্রাম। এছাড়া পান্তা ভাতে সোডিয়ামের পরিমাণ কমে হয় ৩০৩ মিলিগ্রাম যেখানে সম-পরিমাণ গরম ভাতে সোডিয়াম থাকে ৪৭৫ মিলিগ্রাম। পান্তা ভাত ভিটামিন বি-৬ এবং ভিটামিন বি-১২ এর ভালো উৎস।

আজকের পত্রিকা/মির/এমএইচএস