ছবি: আজকের পত্রিকা

আল্লাহ’র দোহাই, মুক্তিযোদ্ধাদের আর ছোট করবেন না। হেয় করবেন না।বাংলাদেশে এমন কিছু ব্যক্তি আছেন যারা কিছু হলেই মুক্তিযোদ্ধাদের নামে যা খুশি তাই বলে। দেশে নানা কিছু ঘটছে, তার জন্য কি শুধু মুক্তিযোদ্ধারা দায়ী?যাদের উপর যাচাই করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাদের কি কিছুই অন্যায় হয়নি? তারা বিভিন্ন জায়গায় অর্থকড়ি নিয়েছেন, এমন অভিযোগও আছে।

আমার মনে হয় তালিকাভুক্ত হয় নাই- এমন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা আর নেই। সুতরাং নতুন করে আর তালিকার প্রয়োজন নেই।আর যদি কোনো মুুক্তিযোদ্ধা ভূয়া বলে প্রমানিত হন, তবে তাদের কঠোর শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।তাহলে এ কাজে আর কেউ পা বাড়াবে না।

মুক্তিযোদ্ধারা জাতির সূর্য সন্তান। তাদের ছোট করে জাতি বড় হতে পারে না। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা দেওয়ার পর বীরমুক্তিযোদ্ধারা জীবনের মায়া ত্যাগ করে জাতি ও জনগণকে রক্ষা ও মুক্ত করার জন্য যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। দেশ স্বাধীনতা লাভ করে, আমরা মুক্ত হই। এখন আমরা কেউ মন্ত্রী, কেউ এমপি, কেউ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।মুক্তিযোদ্ধারা যেখানে ছিলেন সেখানেই পড়ে আছেন। সুতরাং তাদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব।

এ ব্যাপারে আমার কিছু প্রস্তাবনা আছে। এ প্রস্তাবনাগুলো আমি গুরুত্ব অনুসারে সাজিয়ে দিচ্ছি-
১. মুক্তিযোদ্ধাদের নয়া তালিকার প্রয়োজন নেই।
২. তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের স্মার্টকার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।
৩. মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক (বিশেষ করে অসুস্থ ও গরীব মুক্তিযোদ্ধাদের সরকারি হাসপাতাল এবং বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা সরকারকে করতে হবে। এখানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভূমিকা রাখতে হবে।
৪. মাসিক সম্মানী ভাতা বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা করা হোক। তাহলে একজন মুক্তিযোদ্ধা বেকার থাকলেও কোনোভাবে বাঁচতে পারবেন। যেসব মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি নেই, তাদের বাড়ি করে দেওয়া হোক।অথবা বাড়ি করার জন্য সুদ মুক্ত ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।
৫. বাংলাদেশের বিভিন্ন ঋতুতে এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে মুক্তিযোদ্ধাদের বোনাস দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।
৬. মুক্তিযোদ্ধা অথবা তাদের ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনি যাতে সুষ্ঠুভাবে চাকুরি পায়, সে ব্যবস্থা করতে হবে।দেখা যায় অনেকেই মুক্তিযোদ্ধা অথবা মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনি হিসেবে চাকুরি গ্রহন করছে। আসলে তারা নিজেরাই মুক্তিযোদ্ধা না।এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে অত্যন্ত সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের বয়স বাড়ছে ফলে তাদের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। আমার মনে হয় এক্ষেত্রে সরকারকে একটু ছাড় দিতে হবে।

মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে কর্মক্ষম মুক্তিযোদ্ধা হলেই সে চাকুরি পেতে পারে- এ ব্যবস্থা করতে হবে। এক্ষেত্রে অন্যদের মনে করার কিছু নেই। এটা তাদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব। অনেক কর্মক্ষম মুক্তিযোদ্ধা বয়সের কারণে আবেদনই করতে পারছেন না।একটি মুক্তিযুদ্ধের সরকারই পারে এ ধরণের সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে।
৭. লেখাপড়ার ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের বিশেষ সুবিধা দিতে হবে।মুক্তিযোদ্ধার সন্তান যাতে উচ্চ ডিগ্রি অর্জন করতে পারে, তার ব্যবস্থা করতে হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বিশেষ ভূমিকা রাখতে হবে।

আলোচিত বিষয়গুলো খুব ভালো করে দেখে যদি ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তাহলে খুব শিগগিরই মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাপারে আমরা কিছু করেছি- এটা বলা যাবে। আসলে নানা প্রতিবন্ধকতার কাছে মুক্তিযোদ্ধারা খুবই অবহেলা এবং দূর্গতির মধ্যে বসবাস করছেন।তাদের সংখ্যা দ্রুত কমে আসছে। মুক্তিযোদ্ধারা দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে চায়। কিন্তু সে সুযোগ তাদের নেই।আমাদের দেশে এক শ্রেণির লোক আছে, তারা নিজেরা কিছু করে না, অন্যদের কাজকর্মও তারা পছন্দ করে না।

আশা করি, আমার এ লেখা প্রকাশের পর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে আর অহেতুক সমালোচনা হবে না।গঠনমূলক সমালোচনা থাকলে অবশ্যই করবেন। এখানে আরও একটা বিষয় আলোচনা করা যেতে পারে।ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাদের কঠোর শাস্তি দেওয়ার ঘোষণা সরবে দিতে হবে। শাস্তি দেওয়া ঘোষণা আসলেই অনেকে এ পথ থেকে সরে যাবে। আজ এখানেই শেষ করছি।

লেখক: মো. এমদাদুল হক
মুক্তিযোদ্ধা এবং সাবেক প্রধান শিক্ষক, ইসলামী আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়, মিরপুর-২, ঢাকা