মুক্তিযুদ্ধের গল্প নিয়ে নির্মিত হলো নাটক ‘নৈবেদ্য’। শ্যামল চন্দ্রের লেখা মুক্তিযুদ্ধের গল্প থেকে এর চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন মান্নান হীরা। নাটকটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন শাব্দিক শাহীন ও সিহানুর রহমান আসিফ। নাটকটির চিত্রগ্রাহক ছিলেন হৃদয় সরকার।

গত ২ ‍ও ৪ নভেম্বর এই নাটকের শুটিং শেষ হয়েছে বলে জানালেন নির্মাতা শাব্দিক শাহীন। নাটকটিতে এক বীরাঙ্গনার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা। তার স্বামীর চরিত্রে রওনক হাসান। আর এই নাটকে প্রথমবারের মতো পূজারি চরিত্রে অভিনয় করেছেন তারিক আনাম খান।

নাটকে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকবাহনীর হাত থেকে এই বীরাঙ্গনাদের উদ্ধার করতে দেখা যাবে টাঙ্গাইল-৪ আসনের সাংসদ সোহেল হাজারীকে। হঠাৎ করে অভিনয়ে আসা প্রসঙ্গে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমি আসলে রাজনীতিরই মানুষ। কিন্তু যখন এই নাটকের চিত্রনাট্য শুনি তখন অনেক ভালো লাগে। নির্মাতা সিহানুর রহমান ও শাহীন আমার পূর্ব পরিচিত। ওরা একদিন নাটকটির গল্প শেয়ার করছিলো আমার সঙ্গে। আমাকে অভিনয়ের অনুরোধ করে বসবে সেটা বুঝতে পারিনি। কিন্তু যখন বললো আমাকেও এই নাটকে অভিনয় করতে হবে, আমি রাজি হয়ে গেছি। এর কারণ হলো নাটকটি মুক্তিযুদ্ধের গল্প নিয়ে। আমি তো প্রফেশনাল অভিনেতা নই, মনের খোরাক থেকেই এই নাটকে অভিনয় করে ফেললাম। ছোটবেলায় গ্রামে নাটক-থিয়েটারের সঙ্গে জড়িত ছিলাম। প্রতি বছরই আমাদের এলাকায় নাটক মঞ্চায়ন করা হতো। সেসব নাটকে অভিনয় করতাম। অনেক দিন পরে অভিনয়ের সুযোগ আসলো, তাই ফেরায়নি।’

নৈবেদ্য নাটকে একজন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন সোহেল হাজারী। তার সঙ্গে আরও অভিনয় করেছেন তারিক আনাম খান, হাসান ইমাম, নুসরাত ইমরোজ তিশা, দিপক কর্মকার, সাইকা আহম্মেদ, শাহাজান সম্রাট প্রমুখ। এখানে একটা বিশেষ চরিত্রে দেখা যাবে রওনক হাসানকে।

নাটকটি নিয়ে নুসরাত ইমরোজ তিশা বলেন, ‘নাটকের গল্পটি অনেক ভালো লেগেছে। আর এমন চরিত্রে অভিনয় করাটা আমার জন্য সোভাগ্যের। আমাদের তরুণ প্রজন্ম নাটকটি দেখলে জানতে মুক্তিযুদের দিনগুলো সম্পর্কে। বিরাঙ্গনা চরিত্রে আগেও অভিনয় করেছি। তবে এই গল্পটা ছিলো অন্যরকম। আর প্রথমবারের মতো কাজ করা হলো এই নির্মাতা শাব্দিক ও সিহানের পরিচালনায়। আশাকরি সবার ভালো লাগবে নাটকটি।’

নির্মাতা শাব্দিক শাহীন জানালেন, আসছে ডিসেম্বর মাসে একটি টিভি চ্যানেলে বিশেষ নাটক হিসেবে প্রচার হবে ‘নৈবেদ্য’।

আজকের পত্রিকা/সিফাত