নিখোঁজ আব্দুল্লাহ্ আল মামুন।ছবি : সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাতক্ষীরার গ্রামের বাড়িতে ফেরার পথে নিখোঁজ ইবি ছাত্র আব্দুল্লাহ্ আল মামুনকে মুক্তিপন দিয়ে ফিরে পেয়েছে তার পরিবার। ১২ জুন বুধবার রাত ১০টার দিকে সাতক্ষীরার বিনেরপোতা এলাকার বাইপাস সড়কের পাশে অপহরণকারীরা হাত-পা বেঁধে ফেলে যায় মামুনকে। এর আগে গত শনিবার দুপুরে যশোর থেকে নিখোঁজ হয় ইবির আল কোরআন বিভাগের ছাত্র আব্দুল্লাহ্ আল মামুন। সেই থেকেই তার কোন সন্ধান মিলছিল না। তবে সোমবার রাত ১২টার দিকে ও মঙ্গলবার সকালে মামুনকে ফেরৎ পেতে তার পরিবারের কাছে মোবাইল কলের মাধ্যমে ৪০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা।

ইবি ছাত্র মামুনের বাবা সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ি ইউনিয়নের ঘোলা গ্রামের সিদ্দিক মোল্লা বলেন, বুধবার রাত সাড়ে দশটার দিকে মামুন বাড়িতে ফোন করে জানায় আমি সাতক্ষীরায় রয়েছি। তখন বাড়ি থেকে মোটর সাইকেল নিয়ে তাকে বাড়িতে আনা হয়। মামুন জানিয়েছে, যশোর পর্যন্ত আসার পর একটি মাইক্রোবাস তাকে সাতক্ষীরায় নামিয়ে দেবে বলে জানায়। ভাড়া বেশী দিতে হবে না। তখন মামুন মাইক্রোবাসটিতে উঠে। গাড়িতে আরও তিনজন ছিল।

যশোর ঝিকড়গাছা পর্যন্ত সচেতন থাকলেও তারপর থেকে অচেতন হয়ে পড়ে। বাকি কিছুই বলতে পারছে না। চারদিন তাকে একটি ছোট ঘরের মধ্যে আটকে রাখা হয়েছিল। পাউরুটি ও কলা খেতে দিয়েছে। মামুনকে উদ্ধারের জন্য অপহরণকারীদের টাকা দিতে হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, পাচ হাজার টাকা বিকাশে দিয়েছিলাম। এর বেশী দেয়নি। যখন গাড়ি থেকে নামিয়ে দিয়ে যায় তখন তারা তিনজন ছিল বলে জানিয়েছে মামুন।

আব্দুল্লাহ্ আল মামুন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আল কোরআন বিভাগের ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় পার্শ্ববর্তী একটি মসজিদের ঈমামের দায়িত্ব পালন করেন। নিখোঁজ হওয়ার পর ইবি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন মামুনের বাবা। মামুন কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নয় বলেও জানায় তার বাবা।অপহৃত ইবি ছাত্র মামুন উদ্ধারের কোন তথ্য সদর থানায় নেই জানিয়ে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনাটি কেউ থানায় জানায়নি।

আজকের পত্রিকা/বৈশাখী,সাতক্ষীরা/রাফাত/আ.স্ব