বিদ্যা সিনহা মিম। ছবি: সংগৃহীত

শুক্রবার ৪০টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে কামাল আহমেদ প্রযোজিত ও তারেক শিকদার পরিচালিত ‘দাগ হৃদয়ে’ সিনেমা। এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন বাপ্পী চৌধুরী ও বিদ্যা সিনহা মিম। তবে এই সিনেমায় প্রচারণায় দেখা যায়নি নায়ক নায়িকাকে। সম্প্রতি এই বিষয় নিয়ে সিনেমাটির প্রযোজক ও কাহিনীকার কামাল আহমেদ নিজের ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। যেখানে তিনি মিমের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও অপেশাদার আচরণ অভিযোগ তুলেছেন।

প্রযোজক তার ফেসবুকে লিখেছেন, আমি যখন শিল্পীদের কাষ্টিং করি, বিশেষ করে বাপ্পি, মিম ও আঁচল প্রত্যেকের প্রতিই আমার অনুরোধ ছিল তারা যেন রিলিজের সময় স্বতঃস্ফুর্ত অংশ নেয়। সবাই আমাকে আস্বস্তও করেছিল। এই তিন শিল্পীর কারো পেমেন্ট ডিমান্ড নিয়ে আমি দর কষাকষি করিনি।

পরবর্তীতে প্রথম লটের শুটিং শুরু হলে বাপ্পি তার ব্যাক্তিগত কারণে একাধিকবার শুটিং স্পট থেকে চলে এসেছিল। পরের লটে বৃষ্টির কারণেও একাধিকবার আমরা শুটিং প্যাক আপ করে চলে আসতে বাধ্য হয়েছিলাম। এসব কারণে আমার প্রচুর টাকা নষ্ট হয়েছিল। ফলে ছবিটি যথা সময়ে সম্পন্ন হয়নি এবং সেই কারণেই রিলিজ দিতে এতটা দেরি হয়েছে।

মিমের সাথে আমার কন্টাক্ট অনুযায়ী সম্পূর্ণ পেমেন্ট করা ছিল শুটিং শেষ হওয়ার আগেই। যখন বাকি শুটিংয়ের ডেট চাওয়া হলো সে আরো পঞ্চাশ হাজার টাকা অতিরিক্ত দাবি করলো। টাকা ছাড়া সে শুটিং ডেট দিবে না। আমি পঞ্চাশ হাজার টাকা দিলাম। শ্রীমঙ্গলে শুটিং করতে গেলাম। পরের দিন বাপ্পি অসুস্থ হয়ে পড়লো। তাকে মৌলভীবাজার হাসপাতালে চিকিৎসরা করানোর পরও সে পরিপূর্ণ সুস্থ না হওয়ায় অসুস্থ শরীরে একদিন শুটিং করে ঢাকায় ফিরে আসে। এ নিয়ে বাপ্পির সাথে আমার কিছুটা ভুল বুঝাবুঝিও হয়েছিল। তার পরের দিনই মিমের শ্রীমঙ্গলে যাওয়ার কথা ছিল। বাপ্পি ফিরে আসায় মিমের আর যাওয়া হলো না।

পরবর্তীতে ডেট চাওয়া হলে মিম এডভান্স আরো পঞ্চাশ হাজার টাকা ছাড়া ডেট দিবে না বলে বেঁকে বসে। তার আচরণ শিল্পী সুলভ ছিল না। শিল্প ও চলচ্চিত্রের প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটেনি। একজন শিল্পীর চলচ্চিত্রের প্রতি যে দরদ আমরা অনুভব করি, তা তার মধ্যে দেখা যায়নি। তার এই আচরণে আমি বিস্মিত ও মনঃক্ষুণ্ন হই। শিল্পীর এমন আচরণে আমি চলচ্চিত্রটি রিলিজ করার প্লান থেকেই সরে আসি। পরবর্তীতে অন্যান্যদের অনুরোধে রিলিজ দিতে সম্মত হয়।

ছবিটি লক করার আগের সপ্তাহে মিমকে ডাবিং করতে আসার জন্য অনুরোধ করি। সে ডাবিং করবে না বলে জানিয়ে দেয়। আমি তাকে ডাবিং না করলেও ছবিটি একবার দেখে যেতে অনুরোধ করি। সেটাও সে করেনি। আমি বাধ্য হয়ে ছবিটি ওই অবস্থায় রিলিজ করি।

একজন শিল্পীকে বেশি পেমেন্ট করা বা অতিরিক্ত পেমেন্ট করা যেতেই পারে, কিন্তু সেটার জন্য শিল্প ও চলচ্চিত্রের প্রতি দায়িত্ববোধ ও ন্যায়পরায়নতার মাধ্যমে ভালোবাসা অর্জন করতে হয়। যেটা আমি মিমের মধ্যে পাইনি।

রিলিজে ছবিটি হলে পাঠানোর আগে প্রচারণার জন্য আবার তার সাথে কথা হয়। সে আবারো অতিরিক্ত টাকা দাবি করে। আমি শুধু তাকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘ছবিটি কি শুধু আমারই, তোমাদেরও না ? ঠিক আছে টাকা দিবো, তুমি পাবলিসিটি ঠিক মতো করো, বিপিএল খেলা হচ্ছে, ওখানে একবার সবাই যাবো।’ সে বলল, আমি শুধু টিভি চ্যানেলে যাবো, আর কোথাও পাবলিসিটি করবো না, অন্য কোনো ছবিতেও আমি করিনি। কথাটা শুনে এতটাই বিস্মিত হলাম যে আর কিছু না বলেই কথা বন্ধ করে দিই। বই মেলাসহ অফ লাইনে প্রায় ১৫/২০ দিন আগে থেকে মেগা পাবলিসিটির প্লান ছিল। যেহেতু আঁচল ও মিম নাই, আমি পাবিলিসিটি থেকে সরে আসি।

একটি ছবিতে কিছু কিছু শিল্পী চুক্তিবদ্ধ হওয়ার সময় যেমন আচরণ করে ছবিটির পোস্ট প্রডাকশন চলাকালীন ও রিলিজের সময় তারা ঠিক তার বিপরীত আচরণ করে। এমন কথা অনেক প্রযোজক ও পরিচালক আমাকে বলেছিল। আমি মিমের মাধ্যমে তার প্রমাণ পেলাম। শিল্পীরা যদি মাত্র পঞ্চাশ হাজার টাকার জন্য শুটিং, ডাবিং, পাবলিসিটি থেকে দূরে সরে গিয়ে হীন মনমানসিকার পরিচয় দেয়, তাহলে একজন প্রযোজক বিনা লাভে কোটি টাকা লগ্নি করে কেন চলচ্চিত্র বানাবে? আমি বিশ্বাস করি, প্রযোজকরা মূলত শিল্পকে ভালবেসেই চলচ্চিত্র বানাতে আসেন, তাদের প্রতি এমন আচরণ চলচ্চিত্রের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে না।

আজকের পত্রিকা/এমআরএস