প্রতীকি ছবি

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে কর্দমাক্ত মাঠে ছোটদের ফুটবল খেলার সময়ে এক মহিলার শরীরে কাদা-পানির ছিটা পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে দীন ইসলাম (৪৮) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

এছাড়া উভয় পক্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে অন্তত পাঁচ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

তাদের কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার সকালে উপজেলার কাটখাল ইউনিয়নের হাসিমপুর গ্রামে প্রাণঘাতী এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

নিহত দীন ইসলাম হাসিমপুর গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, হাসিমপুর গ্রামের সরকার বাড়ির সুরুজ মিয়ার পক্ষের সাথে মীর বাড়ির হাসান মীরের পক্ষের এলাকায় আধিপত্য বিস্তারসহ নানা বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।

ঈদের পরদিন বৃহস্পতিবার বিকালে স্থানীয় মাঠে ছোট ছেলেরা ফুটবল খেলছিল। এ সময় সরকার বাড়ির এক ছেলের ফুটবলে দেয়া শটে কাদা-পানি ছড়িয়ে সেখান দিয়ে যাওয়া মীর বাড়ির এক মহিলার শরীরে গিয়ে পানির ছিটা পড়ে।

এতে ওই মহিলা ক্ষিপ্ত হয়ে বিষয়টি বাড়ির লোকজনদের জানান।

এ নিয়ে মীর বাড়ির লোকজনের সাথে সরকার বাড়ির লোকজনের উত্তেজনা তুঙ্গে উঠে।

শুক্রবার দুই পক্ষ এ নিয়ে মুখোমুখি হলে সালিশ দরবারের ফয়সালার শর্তে সেদিনের মতো তারা ক্ষান্ত দেয়। কিন্তু শনিবার সকালে এ নিয়ে পুনরায় উত্তেজনা দেখা দিলে সাড়ে ৮টার দিকে দু’পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই সুরুজ মিয়ার পক্ষের দীন ইসলামের মৃত্যু হয়।

এছাড়া লিটন মিয়া (৪৮). জাহের মিয়া (৪৫), গিয়াস উদ্দিন (৩৮) ও আব্দুছ ছালাম (২৯) সহ উভয় পক্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হয়। তাদের মধ্যে লিটন মিয়া. জাহের মিয়া, গিয়াস উদ্দিন ও আব্দুছ ছালামের অবস্থা গুরুতর।

মিঠামইন থানার ওসি মো. জাকির রব্বানী জানান, তুচ্ছ বিষয় নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে। পুনরায় যেকোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে হাসিমপুর গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

আজকের পত্রিকা/সিম্মী আহাম্মেদ/কিশোরগঞ্জ/রাফাত