মানিকগঞ্জের শিবালয়ে ফুটফুটে এক পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছেন মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী। রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো ওই নারীর পরিচয় জানে না কেউ।

শিবালয় উপজেলার আরিচা ঘাটের পুরাতন ট্টাক টার্মিনাল এলাকায় বুধবার ওই নারী পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। সকালে জন্ম হয়েছিলো বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিশুটির নাম রেখেছেন সূর্য।

সূর্যকে দত্তক নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন অনেকেই। বর্তমানে স্থানীয় এক নারীর হেফাজতে শিশুটিকে রাখা হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় পাগলীকে ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে।

স্থানীয় নিহালপুর গ্রামের কালা সেখের স্ত্রী জানাহারা বেগম জানান, আরিচা বন্দরে তিনি ঝাড়ুদারের কাজ করেন। মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে প্রতিদিনের মতো ঝাড়ু দেয়ার জন্য বাজারে আসেন। এসময় হঠাৎ পাগলির চিৎকার শুনতে পান। পুরাতন ট্টাক টার্মিনালে গিয়ে দেখেন কাঁদা-মাটির মধ্যে গড়াগড়ি করছেন তিনি ।

সন্তান প্রসবের আগ মুর্হুর্তে পাগলির এমন কষ্ট দেখে গ্রামের ধাত্রি মেহেরুন নেছা, সুলতানাসহ আশপাশের কয়েকজন নারীকে ঘুম থেকে ডেকে তুলেন জাহানারা। রাতভর চেষ্টার পর ভোরের দিকে সন্তান প্রসব করান তারা।

মা আর সন্তান তখন কাঁদামাটিতে একাকার হয়ে যায়। গুরুতর অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় সকালে স্থানীয় এক চিকিৎসককে ডেকে এনে পাগলিকে স্যালাইন দেন ওই নারীরাই। পাগলির সন্তানকে দেখতে ভীড় জমান কয়েকশ’ নারী-পুরুষ।

জাহানারাসহ যে সকল নারীর চেষ্টায় পাগলি ও তার সন্তান বেঁচে যান তাদের প্রশংসা করেন স্থানীয়রা। অনেকেই মানসিক প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণকারীকে খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান।

খবর পেয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এফ এম ফিরোজ মাহমুদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পাগলিকে উদ্ধার করে শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান তিনি।

ইউএনও নবজাতকের নাম রাখেন সূর্য। সূর্যের পরিচর্যার জন্য হামিদা নামের এক নারীকে দায়িত্ব দেয়া হয়। এসময় তিনি আর্থিক সাহায্যও করেন।

শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এফ এম ফিরোজ মাহমুদ জানান, স্থানীয়দের কাছে জানতে পারি নবজাতকের যখন জন্ম হয় তখন আকাশে সূর্য্য উকি দিচ্ছিল। সেই মুহুর্তকে ধরে রাখার জন্যই শিশুটির নামও রাখা হয়েছে সূর্য।

তিনি আরো জানান, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে শিশুটিকে ঢাকায় ‘ছোট মণি’ নবজাতক সেইফ হোম-এ পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সূর্যকে দত্তক নিতে অনেকেই আগ্রহ দেখালে, তাদেরকে যথাযথ আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অগ্রসর হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় ৫/৬ বছর ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারীকে আরিচা ঘাট এলাকায় ঘুরাঘুরি করতে দেখা যায । রাতে পুরাতন টার্মিনালে খোলা আকাশের নিচে ঘুমাতে দেখা যায় তাকে।

আজকের পত্রিকা/রাফাত