ইলিশ

আজ ৯ অক্টোবর রাত ১২টার পর থেকে সারা দেশে এক যোগে মা ইলিশ মাছ ধরার ওপর সরকারীভাবে নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে যা ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত বলবদ থাকবে। আর এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের জন্য একদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হচ্ছে ব্যপক প্রস্তুুতি।

অপরদিকে ব্যপক উৎসাহ উদ্দিপনায় সকল প্রস্তুুতি নিয়ে সরকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ নিধনের জন্য নিষিদ্ধ সময়ের প্রহর গুণছে মানিকগঞ্জের মৌসুমি জেলেরা। এসব জেলেরা যার-যার স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বার, সকল পর্যায়ের সরকার দলীয় কয়েকজন নেতা কর্মী, দৈনিক বেতনে ২৫/৩০জন তথ্য সরবরাহকারী ও কতিপয় অসাধু সাংবাদিক পরিচয়ধারীদের সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছে মা ইলিশ নিধনের এক সমন্বিত সিন্ডিকেট। প্রতিবছরই এসব মৌসুমি জেলেরা সারা বছর নদীতে মাছ না ধরলেও এ সময়ে ২/৩ লাখ টাকা করে কামাবে এ টার্গেট নিয়েই নদীতে নামে মা ইলিশ ধরতে।

বিগত এক সপ্তাহ ধরে ব্যাপক অনুসন্ধান ও পদ্মা-যমুনার কয়েকটি চরা ল সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, এক সুবিশাল নেটওয়ার্ক ও মা ইলিশ নিধনে মহোৎসব এর আয়োজনের কথা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মানিকগঞ্জে শিবালয়, তেওতা, জাফরগঞ্জ, চরশিবালয় , গঙ্গা প্রসাদ, আলোকদিয়া, ত্রিসুন্ডি, চরকাটারী, বাচামারা, বাঘুটিয়া, মধ্যনগর, পাবনার কাজিরহাট, ঢালারচর, রাজবাড়ির চরদৌলতদিয়া, ও কুশিয়াহাটাসহ নদী তীরবর্তী এলাকার শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছে, তাদের নিজ নিজ এলাকার ২/৩শ মানুষ নিষিদ্ধ সময়ে মা ইলিশ নিধনে ব্যাপক প্রস্তুুতি নিয়েছে। এসব প্রস্তুুতির মধ্যে প্রতিটি নৌকার মালিক ও ৫/৬জন ভাগিদাররা মিলেমিশে এক সাথে মা ইলিশ নিধন করার জন্য সর্বনিম্ন ৪ সেট করে কারেন্ট জাল কিনে রেখেছে। তারা জানে যে, অভিযানে তাদের ধরা হলে জাল পুড়িয়ে ফেলা হবে।

তাই যাতে এক- দুই সেট জাল পোড়ালেও মা ইলিশ ধরা যাতে বাধাগ্রস্থ না হয় তার জন্যই এমন প্রস্তুুতি নিয়েছে সকল মৌসুমি জেলেরা। এসব কারেন্ট জাল চড়াদামে সংগ্রহ করা হয়েছে আরিচা ঘাট, জাফরগঞ্জ, দৌলতদিয়া ও কাজিরহাটের বেশ কয়েকটি দোকান থেকে। এসব দোকানদাররা মৌসুমি জেলেদের জাল পুড়ানো হলেও পুনরায় বাকীতেই জাল সরবরাহ করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছে বলে সুত্রটি দাবী করেছেন। যার ফলে শুধুমাত্র কারেন্ট জাল পুড়িয়েই ইলিশ নিধন যজ্ঞ বন্ধ করা যাবেনা বলে সচেতন মহল মনে করছেন।

তারা আরো বলেছেন, মৌসুমি জেলেদের নৌকা জব্দ করা গেলে ইলিশ নিধন ফেরানো সম্ভব হবে। অন্যথায় অভিযান করে তেমন সফলতা পাওয়া যাবেনা বলে তারা জানান। বিগত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে এসব মৌসুমি ইলিশ নিধনকারীরা ঘাট এলাকার কিছু প্রভাবশালী নেতাকর্মীর সাথে নৌকা প্রতি ২০/২৫হাজার টাকার চুক্তি করে নদীতে নৌকার ভাসায় ইলিশ নিধনের জন্য এবং নদী পাড় হতে পুলিশ বা অন্য কোন বাহিনী নদীতে অভিযানে নামলে সাথে সাথেই তাদের মোবাইল করে জানিয়ে দেয়ার জন্য ৭/৮শ টাকা দিয়ে দিন মজুর দেয়া হয় ওইসব তথ্যদাতাদেরকে ।

এসব দিন মজুরের কাজ হচ্ছে এলামেলোভাবে নদী পাড় দিয়ে ঘুরে এবং ঘাট এলাকায় ওৎপেতে থাকে ইউএনওর নের্তৃত্বে নির্বাহী ম্যাজেস্ট্রিট, মৎস বিভাগ, পুলিশ বা অন্য কোন বাহিনী নদীতে অভিযানে নামলেই মোবাইল করে মা ইলিশ নিধনকারীদেরকে সাবধান করে দেয়া। তারপরও যদি কোন মা ইলিশ নিধনকারী ম্যাজিস্ট্রের হাতে ধরা পড়ে তাদের ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য আছে উল্লেক্ষিত সিন্ডিকেট। যে সিন্ডিকেটের সদস্যরা আটককৃতদের সবাইকে গরিব,অসহায়,দুস্থ ,বৃদ্ধ এবং ক্ষেত্র বিশেষে ছাত্র ইত্যাদি বলে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হতে আটককৃতদের ছাড়ানোর চেষ্টা করে এবং এতেও ব্যর্থ হলে শুধুমাত্র ২/৩হাজার টাকা জরিমানা অন্যথায় ৫/৭দিনের কারাদন্ড দেয়ার সুপারিশ করে থাকে সিন্ডিকেটভুক্ত দালালরা ।

বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই সিন্ডিকেটের লোকজন সফল হয়। যার ফলে প্রশাসনিক পর্যায় থেকে জোরদার অভিযান পরিচালিত হলেও তেমন সফলতা আসেনা মা ইলিশ রক্ষায়। তাই অভিযানের সফলতা আনতে মৌসুমি মা ইলিশ নিধনকারীদের নৌকাগুলো এক মাসের জন্য জব্দ করার প্রতি জোড় দাবী জানান অভিজ্ঞমহল, প্রকৃত মৎসজীবি ও হালদার সম্প্রদায়।

এসব বিষয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ,এফ,এম ফিরোজ মাহমুদ বলেন, আগামী ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ২২দিন মা ইলিশ মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। এব্যাপারে আমাদের সকল ধরনের প্রস্তুুতি নেয়া হয়েছে। মৎস্য শিকারী এবং ব্যবসায়ীদের নিয়ে আরিচায় সচেতনতামুলক সভা এবং আলোকদিয়ার চরে পথ সভা করা হয়েছে। আরো দু’তিনটি সভা করা হবে বলে তিনি জানান। চব্বিশ ঘন্টা মোবাইল টিম কাজ করবে। মা ইলিশ মাছ নিধনে কোন ধরনের সম্পৃক্ততা থাকলে তাকে ছেড়ে দেয়া হবে না বলে তিনি জানান।

শাহজাহান বিশ্বাস/মানিকগঞ্জ