শিশু নিপা।

১ ঘণ্টা পর ১১ বছর বয়সি পা হারানো সেই আর্তনাদ করে বলে, ‘মা’ আমি আর স্কুলে যেতে পারবো না ? আমি বাড়ি যাবো ‘মা’। আমাকে বাড়ি নিয়ে চলো, বলে নিপা হাও মাও করে কেঁদে উঠলো। সেই সাথে কেঁদে উঠলো হাসপাতালের বেডের পাশে থাকা স্বজনেরা।

নিপা সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হবার পর থেকে মা মুসলিমাকে তার কাছে নেয়নি স্বজনরা। কারণ মেয়ের এই করুণ অবস্থা হয়তো সে সহ্য করতে পারবে না তাই স্বজনরা এ সিদ্ধান্ত নেই। মেয়ের অপারেশন পর জ্ঞান ফিরলে মাকে নিয়ে যাওয়া হয় তার পাশে। দুর্ঘটনার ১১ ঘণ্টা পর মাকে কাছে পেয়েই নিপা বলে ‘মা’ আমি আর স্কুলে যেতে পারবো না?

২০ মার্চ সকালে যশোরের নাভারনে এক সড়ক দুর্ঘটনায় ১১ বছর বছর বয়সি নিপার ডান পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সে এখন যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের বেডে শুয়ে কাতরাচ্ছে। বার বার চিৎকার করে উঠছে আর বলছে আমার পা কই। তার চিৎকারে নিপার স্বজনরা কোনো উত্তর দিতে না পারলেও তারা কেঁদেই চলেছে।

মেধাবী ছাত্রী নিপা শার্শার বুরুজ বাগান পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী। সে বাবা-মায়ের খুই আদরের সন্তান। মাত্র ১১ বছর বয়সি নিপা মাথায় কাপড় ছাড়া চলতো না। এ বয়সে ইসলামী আকিদা সে রপ্ত করে নিয়েছিল। কথাও কম বলতো। সব সময় পড়ালেখায় ব্যস্ত থাকতো। তার একটা ইচ্ছা বড় হয়ে সে আর্মি অফিসার হয়ে। ঘাতক পিকআপটি নিমিষেই তার সব স্বপ্ন পিচঢালা পথে মিশিয়ে দিল।

সড়ক দুর্ঘটনায় সে শুধু একটি পা হারায়নি। ভেঙেছে বাঁ পায়ের ২ স্থানে। ডান হাতের দুটি আঙ্গুল ও কব্জি। কেটেছে ডান হাতের কনিষ্ঠ আঙ্গুলের একাংশ। দরিদ্র পিতা রফিকুল ইসলাম একমাত্র কন্য নিপার এ অবস্থা দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

নিপার চিকিৎসার জন্য সকল সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে জেলা প্রশাসক, ইউএনও ও পুলিশ সুপার মহাদয়। কিন্তু নিপার ভেঙে যাওয়া স্বপ্ন কি কেউ ফিরিয়ে দিতে পারবে? এ প্রশ্ন এলাকাবাসীর।

উল্লেখ্য, গত ২০মার্চ সকালে স্কুলে যাবার পথে নিপা শার্শার নাভারন বাজারে স্কুলের পাশেই সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়।

ইয়ানূর রহমান/যশোর/জেবি