রাজনীতির মাঠে নেমেই বিশাল ছক্কা মারলেন এবং জয় ছিনিয়ে নিলেন নড়াইল এক্সপ্রেসখ্যাত বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। খেলোয়াড় থেকে রাজনীতিবিদ মাশরাফি দেশের সেবা করার জন্য প্রস্তুত। তাকে নিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখছে নড়াইলবাসী। তাদের প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রী মাশরাফিকে মন্ত্রী সভায় স্থান দিয়ে আরেকটি উদাহরণ সৃষ্টি করবেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নড়াইল-২ আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। নড়াইলের ইতিহাসে এত বেশি ভোটের ব্যবধানের বিজয় আর কেউ পাননি। শরীর পুরোপুরি ফিট না থাকা সত্ত্বেও গত ২১ ডিসেম্বর নড়াইলে এসে এক সপ্তাহ তার নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়িয়েছেন।

তিনি ও তার স্ত্রী সুমনা হক সুমি দেড় শতাধিক পথসভা ও উঠান বৈঠকে যোগ দিয়ে লাখো মানুষের মন জয় করেছেন। মানুষ যখন খবর পেয়েছেন, মাশরাফি এই পথ দিয়ে আসবেন তখন থেকেই তারা তার অপেক্ষার প্রহর গুনেছে তাকে এক নজর দেখার জন্য। তাকে দেখতে এসে ভিড় সামলাতে না পেরে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। যেখানে লাখ লাখ টাকা খরচ করলেও কর্মী খুঁজে পাওয়া যায় না, সেখানে মাশরাফির বেলায় সম্পূর্ণ উল্টো ঘটনা ঘটেছে।

শুধু তাই নয় দেশের প্রায় ২০টি জেলা থেকে ৩ শতাধিক তরুণ মাশরাফি ভক্ত নড়াইলে এসেছে এবং নিজ খরচে প্রিয় ম্যাশের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। আর তারুণ্যের সাথে একাকার হয়ে গিয়েছিলেন ম্যাশও।

আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগি সংগঠন ছাড়াও তরুণ সমাজ, সাধারণ ভোটার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তার জন্য ভোট চেয়েছেন। বিষয়টি এমন হয়ে গিয়েছিল যে ‘দল যার যার, মাশরাফি সবার’। নির্বাচনে ভূমি ধ্বস বিজয় পেলেন মাশরাফি। বিজয় লাভের পর সাংবাদিকদের এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানিয়েছেন, জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার টেকসই উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, খেলাধুলার উন্নয়নে কাজ করবেন।

নড়াইলে এখন একটি আস্থার নাম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন মাশরাফি। ইতোমধ্যে তা কিছুটা হলেও প্রমাণ করেছেন। ২০১৭ সালের ৪ সেপ্টেম্বর নড়াইলে তার নেতৃত্বে ‘নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশন’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী ও জনকল্যাণমূলক সংগঠন গড়ে উঠে সেবামূলক বেশ কিছু ভালো ভালো কাজ শুরু হয়। এসবের মধ্যে রয়েছে- দুস্থ মানুষকে স্বাস্থ্য সেবা ও শিক্ষার জন্য আর্থিক সাহায্য প্রদান, কম খরচে আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ‘থায়রো কেয়ার বাংলাদেশ লিমিটেড’ নামে একটি ডায়াগনোস্টিক ল্যাবরেটরির প্যাথলজিক্যাল টেস্ট কার্যক্রম, শহরের দু’টি পয়েন্টে ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবস্থা, তৃণমূল পর্যায় হতে ক্রিকেট, ফুটবল ও ভলিবল খেলোয়াড় অন্বেষন ও বাছাই করে তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া, শহরে অত্যাধুনিক একটি জিম নির্মাণ, গ্রিন ও ক্লিন নড়াইল করতে শহর ও লোহাগড়া পৌরসভার বিভিন্ন পয়েন্টে ১২০টি ডাস্টবিন স্থাপন, চলতি বোরো মৌসুমে জেলার ১ হাজার কৃষকের মধ্যে বিনা মূল্যে ধানের বীজ বিতরণ এবং নড়াইল শহর ও লোহাগড়া পৌর এলাকার ২৫টি পয়েন্টে সিসি ক্যামেরা স্থাপন। এসব সেবামূলক কাজ করার কারণে মাশরাফির ক্রিকেটার হিসেবে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি এখানকার রাজীতিবিদ, সাধারণ মানুষ এবং তরুণদের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা বেড়ে গেছে।

নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি তরিকুল ইসলাম অনিক বলেন, ‘ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খেলাধুলা, কৃষি, পরিবেশসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মাশরাফি বিন মর্তুজা এমপি নির্বাচিত হওয়ায় এখন এসব উন্নয়ন আরও সক্রিয় ও দৃশ্যমান হবে। আর তিনি যদি মন্ত্রী হন তাহলে তো কোনো কথাই নেই।’

নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খান নিলু বলেন, ‘নড়াইলের উন্নয়নে মাশরাফি ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারবে।’ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তাকে যদি মন্ত্রীত্ব দেন তাহলে অবহেলিত এ জনপদে ব্যাপক উন্নয়ন হবে বলে মনে করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, নড়াইল-২ আসন থেকে ২ লাখ ৭১ হাজার ২১০ ভোট পেয়ে মাশরাফি জয়ী হয়েছেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন মাত্র ৭ হাজার ৮৮৩ ভোট। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর একান্ত ইচ্ছায় ক্রিকেট দলপতি মাশরাফি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেন এবং তার রাজনীতিতে আগমন ঘটে