অবশেষে সুনামগঞ্জের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মজলিশ মিয়ার সন্তান ভাতা বঞ্চিত মোঃ আব্দুল মালেক কে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পিতার সম্মানী ভাতার টাকা আদায়ের জন্য আবেদন করার তাগিদ দিয়ে পত্র দিয়েছে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট।

ট্রাস্ট্রের ৮৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা ঢাকা-১০০০ (স্বাধীনতা ভবন) থেকে পত্রটি ডাকযোগে প্রেরন করা হয় শহিদ মুক্তিযোদ্ধার পুত্র বঞ্চিত আব্দুল মালেকের কাছে।

গত ১৩ জানুয়ারি ২০২০.০৯ নং স্মারকে ট্রাস্ট্রের পরিচালক (কল্যাণ) ও সচিব সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দর ঐ পত্রটি প্রেরন করেন। পত্রে উল্লেখ করা হয়,বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন ২০১৮ অনুযায়ী শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী এবং পিতামাতার অবর্তমানে শহিদের সন্তানগণ ভাতা পাওয়ার হকদার বিধায় আবেদনপূর্বক আব্দুল মালেক ভাতা গ্রহন করতে পারবেন।

জানা যায়, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের নলুয়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মজলিশ মিয়া ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে পাকবাহিনীর সাথে সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হন। মুক্তিবার্তা তালিকায় তার নং ০৫০২০১০৫৬৫।

এছাড়া ২০০৫ ইং সনের ৪ জানুয়ারির গেজেট নং ৩২৪ এ শহীদের নাম হিসেবে মজলিশ মিয়ার নামটি লিপিবদ্ধ আছে। শহীদের বিধবা স্ত্রী ফুলবানু বিবি জীবদ্ধশায় সুনামগঞ্জ অগ্রনী ব্যাংক শাখার হিসাব নং ০০৭৫২১৭ পরবর্তীতে ০২০০০০১৪৫৮২৮৬ নং হিসাব এর মাধ্যমে নিয়মিত সরকার প্রদত্ত সম্মানী ভাতা উত্তোলন করেন।

২০১৫ সালের ১২ জুন স্ত্রী ফুলবানু বিবি জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মারা যাওয়ার পর ৫৪,৯৯৭টাকা তার ব্যাংক হিসেবে জমা পাওয়া যায়। কিন্তু লোভী ভাইবোনেরা জাল জালিয়াতির আশ্রয়ে আব্দুল মালেককে বঞ্চিত করে এ টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে পুরো টাকা হজম করে।

একপর্যায়ে আদালতে সাকসেশন মামলা করে ব্যাংকে জমা থাকা ৫৪,৯৯৭ টাকার মধ্যে আব্দুল মালেক তার হিস্যার ৭/২ আনা হিসেবে ১৫,৭১৩ টাকা প্রাপ্ত হন। পরে তার সহোদর আব্দুল জলিল বোন সূর্যবানুকে উত্তরাধিকারী সাজিয়ে সম্মানি ভাতা মঞ্জুর করত: নিজেরা ভাতার টাকা একতরফাভাবে ভোগ করে আব্দুল মালেককে তার ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত করেন।

একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে প্রতারক জিল্লুর রহমানসহ ৮ জনকে বিবাদী করে সুনামগঞ্জের সিনিয়র সহকারী জজ আদালত সদর জোনে স্বত্ত ১১৬/২০১৮নং মামলা দায়ের করেন আব্দুল মালেক।

মামলায় মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট এর মহাসচিব,সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক,সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার, শহীদ মজলিশ মিয়ার জেষ্ট পুত্র আব্দুল জলিল,কন্যা সূর্যবানু স্বামী জিলু মিয়া,সফরবানু স্বামী সফর বানু সাং সৌয়দপুর, ইউপি সুরমা, থানা ও জেলা সুনামগঞ্জ এবং হাছেন বানু স্বামী রফিকুল ইসলাম সাং নলুয়া সহ মোট ৮ জনকে বিবাদী করা হয়।

মামলায় বিজ্ঞ আদালত,মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টকে শোকজ করার প্রেক্ষিতে ট্রাস্ট ভাতা গ্রহনের জন্য বঞ্চিত শহিদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আব্দুল মালেক কে আবেদন করতে বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়ে পত্র প্রেরণ করে।

-আল-হেলাল