মালচিং চাষ পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ।ছবি:সংগৃহীত

উপকূলীয় দক্ষিণ জন পদের পিরোজপুরের ঐহিত্যবাহী ভা-ারিয়ায় মালচিং চাষ পদ্ধতিতে তরমুজ চাষে সফল কৃষক আবুবকর। তরমুজ খেতে যেমন সুস্বাধু তেমনি এর ওষধী গুন ও রয়েছে। যে ভাবে তরমুজ চাষ শুরু করে আবু বকর। সে পেশায় একজন মাদ্রাসার শিক্ষকও। অভাবি সংসারের হাল ফেরাতে শিক্ষকতা পেশার পাশাপাশি স্বল্প পরিসরে বারির আঙিনায় কৃষি কাজের যাত্রা শুরু করে উপজেলার মাটিভাঙ্গা গ্রামের আবুবক্কর(বি.এ,বি.এড)।হাটি হাটি পা পা করে এর ব্যপকতা বেড়ে যায়। আর এ কাজের জন্য স্থানীয়,জেলা,বিভাগ এমনকি কৃষিতে কৃতিত্তের জন্য জাতীয় পর্যায়ে বরিশাল বিভাগের মধ্যে ২০১৭সালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুস্কার লাভ করে সে। এবছর উত্তর অঞ্চলে তরমুজের ফলন ভালো হলেও বৃষ্টিতে তা বিনস্ট হয়। যার প্রভাব পড়ে দক্ষিণাঞ্চলের হাট বাজার গুলোতে।সংকট দেখা দেয় রসালো ফল তরমুজের। ঠিক সে সময় এক বর্ষীয়াণ রাজনিতিকের পরামর্শানুযায়ী উত্তর অঞ্চলের তরমুজ চাষিদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলো আবু বকর। বাঁধা হয়ে দাড়ায় জমি ও অর্থের।

মালচিং চাষ পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ।ছবি:সংগৃহীত

পরে ভা-ারিয়া পৌরসভার পূর্ব ভা-ারিয়ার বাসিন্দা আবুবকরের মাতৃসমা তাসমিমা হোসেন এর কাছ থেকে জমি ও অর্থের যোগান দিয়ে সহায়তা করায়। সাহস নিয়ে আবুবক্কর স্থানীয় মাপের স্থানীয় মাপের ৪বিঘা (২০কাঠায় ১বিঘা) জমির মধ্যে ৫৫ তশাংস জমিতে গেল বছরের চৈত্র মাসে মালচিং পদ্ধতিতে শুরু করে তরমুজ চাষের। দিন রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে সফল সে। সরেজমিনে গেলে দেখা যায় বাজর জাত করার জন্য ক্ষেতে পরিচর্যা করছে। তবে ক্ষেতে বসে স্থানীয় এক ব্যক্তির নিকট পরীক্ষা মূলক ৩টি তরমুজ ১১শ টাকায় বিক্রি করেন। যার ওজন ১১কেজি ৩০০গ্রাম। তবে এ তরমুজ পরিপক্ক অবস্থায় ১থেকে ৫কেজি ওজন পর্যন্ত হবে। যা বাজারে বিক্রি হবে প্রকার ভেবে ৭০/৮০/১০০টাকা পর্যন্ত কেজি দরে বিক্রি হবে ।

এসময় আলাপ হয় আবুবকরের সাথে তিনি এ রসালো ফলের চাষ সম্পর্কে জানান। ৫৫শতাংস জমিতে ৭ফুট গ্যাপ রেখে ৪ফুট করে এক একটি বেড কেটে মোট ১৬টি বেডে ১৩০০বীজ বপন করে। চাষে সার,বীজ,কিটনাশক,শ্রমিক মজুরীসহ তার মোট খরট হয় ১লাখ ২০হাজার টাকা । আর গাছে যে ফলন ধরেছে তা বিক্রি করলে প্রথম দফায় ২লাখের উপরে বিক্রি হবে। এসময় আবু বকর আরো জানান যে এই মালচিং পদ্ধতিতে দক্ষিণাঞ্চলে প্রথম শুরু করে সে। তরমুজের পাশাপাশি সবরি কলাসহ অন্যান্য সবজী চাষের জন্যও জমি প্রস্তুুত করতে দেখা গেছে। এদিকে আবুবকেরর তরমুজ ক্ষেত দেখে এখন অনেকেই ঝুকছে তরমুজ চাষে। তরমুজ সাধারনত কার্নিয়া ও সুইট গ্লাক্সো এ দুই প্রজাতির হয়ে থাকে।

আলাপকালে উপজেলা কৃষি অফিসার আবদুল্লা আল মামুন বলেন , তরমুজ একটি বিশেষ ফল। এটিতে মানব দেহের উপকারী অনেক উপাদান রয়েছে। যেসব উপাদান রয়েছে তা হল তরমুজে কোলস্টোরল ও সোডিয়াম ০%,পটাসিয়াম ও কার্বোহাইড্রেট ৩%,প্রটিন ১%,ভিটামিন এ ১১%,ভিটামিন সি ১৩%,আয়রন ১%,মেগনেসিয়াম২%। গ্রীষ্¥কালীন ফল তরমুজে পরঃৎঁষষরহব নামক এক প্রকার এমাইনো এসিড আছে যা শরীরের নাইট্রিক অক্সাইডের এর লেভেল বৃদ্ধি করে।নাইট্রক অক্সাইড রক্তনালীর সম্প্রসারনে সাহায্য করে। যা ব্লাড প্রেসার(উচ্চ রক্তচাপ)নিয়ন্ত্রনে রাখে।

এছাড়া এতে ভিটামন ও মিনারেল যা হৃদযন্ত্রের জন্য খুবই উপকারী। তরমুজের বিটাকেরোটিন দৈহিক শক্তি বৃদ্ধিতে ব্যাপক ভাবে সহায়তা করে।এদিকে আবুববকর তরমুজের ফলন ভালো হওয়ায় সে এ চাষ পদ্ধতিটি দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা উপজেলার কৃষকদের মালচিং চাষে উদ্ভূদ্ধ করার চিন্তা করছেন। কারন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ শুধু এক ফসলি ধান চাষের উপর ই বেশির ভাগ নির্ভরশীল। তাই এক ফসলী জমি ২/৩ফসলী আবাদ করতে পারেলে দেশকে একটি উন্নত দেশে পরিনত করকে খুব বেশি সময় লাগবেনা। কারন এতে এক দিকে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানী করা যাবে। তাতে বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন করা যাবে।

আজকের পত্রিকা/মশিউর রহমান রাহাত/পিরোজপুর/রাফাত