জুকারবার্গ। ছবি : সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের সিইও মার্ক জুকারবার্গের একটি একক উদ্দেশ্য হচ্ছে বিশ্বজুড়ে মানুষের সাথে যোগাযোগ করা। তার এই উদ্দেশ্যের কারণেই ২০১৮ সালে তিনি একটি ফেসবুক ভিত্তিক বই ক্লাব চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। যেখানে বিভিন্ন সংস্কৃতি, বিশ্বাস, ইতিহাস, এবং প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে একটি পাঠ্য তালিকা থাকবে।

যদিও মার্কের মেয়ের জন্মের পর প্রতি দুই সপ্তাহে একটি বই পড়ে শেষ করার উদ্দেশ্য থেকে কিছুটা বিরত রয়েছেন তিনি। তবুও বছর শেষে তিনি তার ‘অ্যা ইয়ার অব বুকস রিডিং গ্রুপ’ এ ২৩টি নির্বাচিত বইয়ের তালিকা দিয়েছেন।

মার্ক জুকারবার্গের নির্বাচিত বইগুলোর তালিকা দেওয়া জেনে নিন-

১) ইবনে খালদুনের ‘দ্যা মুকাদ্দিমা’– ১৩৭৭ খ্রিস্টাব্দে ইসলামী ইতিহাসবিদ খালদুনের লেখা ‘দ্য মুকাদ্দিমা’র অনুবাদিত বই হচ্ছে ‘দ্য ইন্ট্রোডাকশন’। এটি ঐতিহাসিক রেকর্ডের পক্ষপাতদুষ্ট বিষয়গুলো এবং মানবতার অগ্রগতিতে সর্বজনীন উপাদানের সন্ধান করার একটি প্রচেষ্টা।

২) মিশেল আলেকজান্ডারের দ্য নিউ জিম ক্রো আলেকজান্ডার ওহিও স্টেট ইউনিভার্সিটির আইনের একজন অধ্যাপক। নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা এ আইনজীবী এবং অধ্যাপক তাঁর বইটিতে যুক্তি দেন, ‘ঔষধের যুদ্ধ’ এমন একটি সংস্কৃতির উদ্দীপক করেছে, যেখানে অহিংস কালো পুরুষদের জেলখানায় অতিরিক্ত প্রতিনিধি হিসেবে দেখানো হয়েছে। তাদেরকে মুক্তি দেওয়ার পরেও দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হয়।

১৩৭৭ খ্রিস্টাব্দে ইসলামী ইতিহাসবিদ খালদুনের লেখা ‘দ্যা মুকাদ্দিমা’ এর অনুবাদিত বই হচ্ছে ‘দ্যা ইন্ট্রোডাকসন’। ছবি : সংগৃহীত

৩) ডারন এসমোগ্লু এবং জেমস এ রবিনসনের ‘হোয়াই নেশনস ফেইল’ – এমআইটি অর্থনীতিবিদ ডারেন এসমোগ্লু এবং হার্ভার্ডের রাজনৈতিক বিজ্ঞানী জেমস রবিনসনের ১৫ বছরের গবেষণার সংক্ষিপ্তসার হচ্ছে ‘হোয়াই নেশনস ফেইল’ যা ২০১২ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। লেখক যুক্তি দেন যে “নিষ্ক্রিয় সরকার” কিছু নির্বাচিত শক্তিগুলির ক্ষমতায়ন করার জন্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যবহার করে। আর “সক্রিয় সরকার” উন্মুক্ত বাজার তৈরি করে যেখানে নাগরিকরা বিনামূল্যে অর্থ ব্যয় এবং অর্থ বিনিয়োগ করতে পারে। অর্থনৈতিক বৃদ্ধি সবসময় দীর্ঘমেয়াদি সুষ্ঠ দেশকে নির্দেশ করে না।

৪) ম্যাট রিডলির ‘দ্য র‍্যাশনাল অপটিমিষ্ট’ – বিজ্ঞানের জনপ্রিয় লেখক ম্যাট রিডলি বইগুলির মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সম্ভবত সবচেয়ে বিতর্কিত বই ‘দ্য র‍্যাশনাল অপটিমিষ্ট’ ২০১০ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। বইয়ে লেখক যুক্তি দেন, বাজারের ধারণাই হচ্ছে মানব অগ্রগতির উৎস। বাজারকে যতটা সম্ভব উন্মুক্ত রাখা যায়, অগ্রগতি ততটাই ত্বরান্বিত হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি এবং অত্যধিক জনসংখ্যা সত্ত্বেও ধারণাগুলির ফলে সৃষ্ট বিবর্তন ধারাবাহিকভাবে মানবজাতিকে তার বাস্তবসম্মত অবস্থার উন্নতি করতে দিবে।

৫) ড্যরিল কলিন্স, জোনাথন মর্দুচ, স্টুয়ার্ট রাদারফোর্ড এবং অরল্যান্ডা রুথভেনের ‘দ্য পোর্টফোলিওস অব দ্য পুওর’ – ড্যরিল কলিন্স, জোনাথন মর্দুচ, স্টুয়ার্ট রাদারফোর্ড এবং অরল্যান্ডা রুথভেন নামের কয়েকজন গবেষকরা ১০ বছর ধরে বাংলাদেশ, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বনিম্ন শ্রেণির আর্থিক জীবন বিষয়ে অধ্যয়ন করেন। ‘দ্য পোর্টফোলিওস অব দ্য পুওর’ বইতে তারা একটি মৌলিক আবিষ্কার অন্তর্ভুক্ত করেছেন যে, যেসব এলাকায় লোকজন ডলারের উপর ডলার খরচ করেন বা যেখানে লেনদেনের একের পর এক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেখানে মানুষ হতদরিদ্র থাকে না বা দারিদ্রতা বাড়ে না। বরং মানুষের সঞ্চয়কৃত অর্থ রাখার আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অভাব যেখানে রয়েছে সেখান দারিদ্রতা বাড়তে থাকে।

৬) হেনরি কিসিঞ্জারের ওয়ার্ল্ড অর্ডার‘ – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সচিব হেনরি কিসিঞ্জারের ‘ওয়ার্ল্ড অর্ডার’ ২০১৪ সালে প্রকাশিত হয়। ৯১ বছর বয়সী এই বিশ্লেষক বইটি বিশ্লেষণ করেছিলেন, বিশ্বের বিভিন্ন অংশে কয়েক শতাব্দী ধরে সাম্রাজ্য ও রাজনৈতিক শক্তি ধারনা প্রচলিত রয়েছে এবং আধুনিক বৈশ্বিক অর্থনীতি তাদেরকে চিন্তিত বা সহিংস উপায়ে একত্র করেছে।

৭) উইলিয়াম জেমসের ‘দ্য ভ্যারাইটিজ অব রিলিজিয়াস এক্সপেরিয়েন্স’ – ধর্মীয় চেতনাকে আবিষ্কার করে এবং মানুষ কীভাবে ধর্মকে অর্থের উৎস হিসেবে ব্যবহার করে এর দ্বারা শক্তি ও উদ্দেশ্য নিয়ে চলমান জীবন যাপন করতে বাধ্য করে- এসব বিষয়বস্তু নিয়ে বইটি লিখা হয়েছে।

ফেসবুকের সিইও মার্ক জুকারবার্গের একটি একক উদ্দেশ্য হচ্ছে বিশ্বজুড়ে মানুষের সাথে যোগাযোগ করা। ছবি : সংগৃহীত

৮) এড কাটমুলের ‘ক্রিয়েটিভিটি, ইনকর্পোরেটেড’ – ব্যবস্থাপনা ও উদ্যোক্তাবাদের মূল্যবান জ্ঞান নিয়ে বইটি লিখেছেন এড কাটমুল।

‘অ্যা ইয়ার অব বুকস রিডিং গ্রুপ’ এ ২৩টি নির্বাচিত বইয়ের তালিকা দিয়েছেন। ছবি : সংগৃহীত

৯) ইয়ুভাল নোয়া হারারির ‘স্যাপিয়েন্স’ – ভবিষ্যতের স্ব-ক্ষমতাপ্রাপ্ত ‘দেবতা’ হিসেবে শিকারী-গোষ্ঠী থেকে হোমো স্যাপিয়েন্সের বিবর্তনকে প্রকাশ করতে নোয়া হারারি তাঁর এই বইটি ব্যবহার করেন।

১০) থমাস এস কুহনের ‘দ্য স্ট্রাকচার অব সাইন্টিফিক রিভোলিউসন্স’ – ফিলোসোফির জন্য শ্রেষ্ঠ বই হিসেবে বিবেচনা করা হয় এই বইকে।

১১) হেনরি এম পলসন জুনিয়রের ‘ডিলিং উইথ চায়না’ – চীনের সাম্প্রতিক প্রবৃদ্ধি এবং কিভাবে এটি বিশ্বকে প্রভাবিত করে তা নিয়ে বইটি লিখা হয়েছে।

১২) ডেভিড ডুয়েসের ‘দ্য বিগেনিং অব ইনফিনিটি’ – বৈজ্ঞানিক বিপ্লবে মানবতার অগ্রগতি নিয়ে বইটি লিখা হয়েছে।

১৩) স্টিভেন পিঙ্কারের ‘দ্য বেটার এঞ্জেলস অব আওয়ার নেচার’ – ২৪ ঘণ্টার সংবাদ চক্র এবং সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব বেড়ে গেলেও সহিংসতা কতটা হ্রাস পেয়েছে, তা নিয়ে বইটি লিখা হয়েছে।

১৪) ম্যাট রিডলির ‘জিনোম’ – জেনেটিক্সের দৃষ্টিকোণ থেকে সমাজবিজ্ঞানকে নয়, বরং মানবতার ইতিহাসকে বদলে দেওয়ার ইতিহাস এই বইয়ে লিখা হয়েছে।

২৩ টি নির্বাচিত বইয়ের তালিকা দিয়েছেন। ছবি : সংগৃহীত

১৫) মোসেস নাঈমের ‘দ্য ইন্ড অব পাওয়ার’ – ক্ষমতার রদ বদল নিয়ে বইটি রচিত হয়েছে।

১৬) ইউলা বিসের ‘অন ইমিউনিটি’ – টিকা ও প্রতিষেধক বিষয়ে জানার কোনো বিকল্প নাই এই যুক্তি নিয়ে বইটি রচিত হয়েছে।

১৭) জন গার্টনারের ‘আইডিয়া ফ্যাক্টরি’ – বেল ল্যাবের ইতিহাস নিয়ে বইটি লিখা হয়েছে।

১৮) সিক্সিন লিউর ‘দ্য থ্রি বডি প্রবলেম’ – চীনের পরিবর্তিত সংস্কৃতি নিয়ে বইটি রচিত হয়েছে।

১৯) সুধীর ভেঙ্কটেশের ‘গ্যাং লিডার ফর এ ডে’ – অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিবন্ধকতায় যোগাযোগ ও বোঝাপড়ার অনুপ্রেরণা নিয়ে বইটি লিখা হয়েছে।

যদিও তার মেয়ের জন্মের পর প্রতি দুই সপ্তাহে একটি বই পড়ে শেষ করার উদ্দেশ্য থেকে কিছুটা বিরত রয়েছেন তিনি। ছবি : সংগৃহীত

২০) ইয়ান এম ব্যাংকের ‘প্লেয়ার অব গেমস’ – মানব চাহিদা পূরণের জন্য এবং মানব ক্ষমতা অতিক্রম করার জন্য উন্নত প্রযুক্তি তৈরি করা হলে, তখন একটি সভ্যতা দেখতে কেমন হবে তা অনুসন্ধান করে বইটি লিখা হয়েছে।

২১) পিটার হুবারের ‘অরওয়েল’স রিভেঞ্জ’ – উপন্যাসটি এমন একটি বিশ্বকে চিত্রিত করেছে যেখানে নাগরিকরা এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করে, যা একবার তাদের মুক্ত করার জন্য ক্রীতদাস করেছিল।

২২) ভাক্লাভ স্মাইলের ‘এনার্জি: অ্যা বিগিনার’স গাইড’ – শক্তির কাজ, আমাদের উৎপাদন এবং ব্যবহার কীভাবে বাড়তে পারে, কীভাবে জলবায়ু পরিবর্তনকে প্রভাবিত করে ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বইটি লিখা হয়েছে।

২৩) মাইকেল সুক-ইয়ং চেওয়ের ‘র‍্যাশনাল রিচুয়্যাল’ – বইটি পড়ে পাঠকরা কীভাবে সোশ্যাল মিডিয়ার ভালো ব্যবহার করা যায়, তা শিখতে পারবেন।

আজকের পত্রিকা/বিএফকে/সিফাত