মামলায় জিততে মজনু মিয়ার একঘর হওয়ার অভিনয়

জমির বাটোয়ারা ও মামলায় জিততে নিজেরই চাচাতো ভাই ও গ্রামবাসীকে ফাঁসাতে অভিনব কৌশলে নাটক সাজানোর অভিযোগ উঠেছে মজনু মিয়ার বিরুদ্ধে। তিনি বিভিন্ন স্থানে নিজেই নিজেকে একঘরা হিসাবে জাহির করছেন বলে অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী।

বুধবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে ধামরাইয়ের সোমভাগ ইউনিয়নের ফুকুটিয়া মহল্লার লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, মজনু মিয়া ও তার চাচাতো ভাইদের সাথে একটি জমির বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো প্রায় ৫ বছর ধরে।

এ নিয়ে এলাকায় শালিশ হয়েছে একাধিক বার। যেখানে সব সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে পর দিন থেকেই আবার ঝামেলা বাঁধাতো সে। এর পর থানায় শালিশ হলেও একই ভাবে পরদিনে ভুলে যায় মজনু।

মজনু মিয়ার চাচাতো ভাই বলেন, বাটোয়ারা ইচ্ছামত চায় মজনু। তার ইচ্ছামত বাটোয়ারায় বিরোধ করলে তাদের বিরুদ্ধে ৮ টি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। তার মিথ্যা মামলা চালাতে গিয়ে আমরা আজ নিস্ব। ৮টি মামলার মধ্যে ৫ টি মামলা মিথ্যা প্রমান হওয়ায় খারিজ করেছে আদালত। আরোও তিনটি মামলা চলমান রয়েছে।

এলাকাবাসী ইউপি সদস্য আবুল হোসেন, মোঃ হারুন, মঙ্গল আলী, রুশনা আলীসহ অন্যান্যরা বলেন, তিনি খারাপ মানুষ, প্রতারক ও মিথ্যাবাদী। তাই তার সাথে কেউ কথা বলে না। তার সাথে কথা বললেই বিপদে পরার আশঙ্কা আছে। জেনে বুঝে কেউ বিপদে পরতে চাইবে না। তিনি ব্যবসা করছেন, নিয়মিত মসজিদে নামাজ পড়ছেন। গত শুক্রবারও মসজিদে নামাজ পড়েছেন। আর বিভিন্নভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছেন এই গ্রামের। এই নাটকে গ্রামের ভাবমুর্তি নষ্ট হচ্ছে দাবি করে এ থেকে পরিত্রান চান গ্রামবাসী।

রাস্তায় যেতে যেতে কথা হয় এক রিকশাওয়ালা কালামের সাথে। তিনি বলেন, মজনু মিয়া আসলেই খারাপ। সে একাই ভালো আর গ্রামের সবাই খারাপ এরকমটা তো হয় না। তার নিজের ভাইদের বিরুদ্ধে ৮ মামলা দায়ের করে, সে কতটা ভালো হতে পারে। তিনি বলেন, এক ঘরা কাকে বলে? যদি মজনু নামাজ পরতে না পারতো, বাহিরে বের হতে না পারতো তাহলে তাকে একঘরা বলে। সে স্বাভাবিক জীবন যাপন করছে, আর মামলা ও বাটোয়ারায় জিততে এরকম অপপ্রচার চালাচ্ছে।

এব্যাপারে মজনু মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি তো খারাপ মানুষ, আমাকে বিশ্বাস করার দরকার নাই, এলাকার মানুষের কাছে শোনেন আমি একঘরার মতই বাস করছি।

এব্যাপারে সোমভাগ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজহার উদ্দিন বলেন, তাদের মধ্যে জমির বাটোয়ারা নিয়ে ঝামেলা চলছিল ৪ থেকে ৫ বছর ধরে। তাদের একটি শালিশে আমিও উপস্থিত ছিলাম। কিন্তু একঘরার বিষয়টি আমার জানা নাই। সে কখনও অভিযোগও করেনি।

ধামরাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, বিষয়টি শুনে তাকে আমরা থানায় ডেকেছিলাম কিন্তু এরকম কোন অভিযোগ মজনু করে নি।

মাহিদুল মাহিদ/সাভার