নওগাঁর মান্দায় হঠাৎ করে আমন ধানের বাজারে ধস নেমেছে। ১ সপ্তাহের ব্যবধানে সব রকম ধানের দাম মণে কমে গেছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা।

২০ দিন আগে থেকে ধানের দাম বাড়তে থাকে। কিন্তু হঠাৎ শুক্রবার নতুন আমন ধানের দাম কমে যাওয়ায় কৃষকের চোখ কপালে উঠেছে।

দাম পড়ে যাওয়ায় কৃষকের চোখ-মুখে হতাশা ছাপ। প্রায় ২০ দিন আগে স্বর্না-৫ ধানের দাম ছিল ৭৫০ টাকা মণ,আর গুটি স্বর্না ধানের দাম ছিল ৬৫০ টাকা মণ,মান্দার সতীহাটসহ অন্যান্য হাটে সেই স্বর্না-৫ এর ধানের দাম কমে হয়েছে ৬৫০ টাকা এবং গুটি স্বর্না ধানের দাম কমে হয়েছে ৬০০-৫৫০ টাকা মণ। এমনি করে সকল জাতের ধানের মণপ্রতি কমেছে ১০০-১৫০ টাকা।

ধানের আড়ৎদাররা অনেকে জানিয়েছেন বাজারে চালের কেজিতে৩/৪ টাকা বেড়ে যাওয়ায় তারা নজর দারিতে আছে। অটো রাইস মিল মালিকরা ধান কিনে মজুদ করতে গেলে হয়রানীর স্বীকার হওয়ার আশঙ্কা থেকে ধান কেনা বন্ধ করে দেয়ায় ধানের বাজারে ধস নেমেছে।

আড়দৎদাররা অনেকটা ভয়ে ভয়ে আছে যে, বেশি ধান ক্রয় করে মজুদ করলে যদি কোন সমস্যা হয় তবে তাদের জরিমানা গুনতে হবে।

সেজন্য তারা অনেকটা হিসাব মিলিয়ে কম দামে ধান ক্রয়ের চেষ্টা করার চেষ্টা করছেন।

হাটে হাটে নতুন ধানের সরবরাহ বেড়েছে প্রচুর। শুক্রবার এবং শনিবার দেলুয়াবাড়ি সকালে মান্দা উপজেলার বড় হাট সতিহাট ঘুরে দেখা গেছে সরবরাহ বাড়লেও হাটে ক্রেতা ছিল কম। জেলা এবং উপজেলার বাহিরের ধানের ক্রেতাদের ভিড় থাকলেও স্থানীয় আড়ৎদারদের আনাগোন ছিল কম।

আড়ৎদাররা ধান কিনে মিলারদের কাছে বিক্রি করে থাকে। তবে হঠাৎ কেন ধানের দাম পড়ে গেল তার সঠিক জবাব মিলছে না।

এনিয়ে কৃষকদের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা অতিদ্রুত  সরকার কর্তৃক নির্ধারিত দামে ধান ক্রয়ের দাবি জানিয়েছেন।

-মাহবুবুজ্জামান সেতু