মান্দায় অপহৃতা স্কুলছাত্রী ৫ দিন পর ঢাকা থেকে উদ্ধার

নওগাঁর মান্দায় ভারশোঁ ইউনিয়নে স্কুলে আসার পথে অষ্টম শ্রেনীর শিক্ষার্থী নাহিদা আক্তার অপহরনের পাঁচদিন পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার সাথে যুক্ত যুবক রায়হানকে আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক রায়হান ভারশোঁ মধ্যপাড়ার বেলাল হোসেনের ছেলে। অপহৃত স্কুল ছাত্রী গ্রামের নাজিমুদ্দিনের মেয়ে এবং ভারশোঁ উচ্চ বিদ্যালয়ে ও কলেজের অষ্টম শ্রেনীর ছাত্রী। এর আগে গত ১৪ অক্টোবর নওগাঁ আদালতে শিক্ষার্থীর চাচা জুয়েল বাদী হয়ে চারজনকে আসামী করে অপহরন মামলা করেছেন।

আসামী হলেন, প্রেমিক রায়হান, তার বাবা বেলাল হোসেন, মা রেহেনা এবং মামা সাইদুল হোসেন।

ভূক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টায় পরীক্ষা দেয়ার জন্য স্কুলে আসে শিক্ষার্থী নাহিদা আক্তার। পরীক্ষা শেষে বাড়ি না ফিরায় দুপুরে শিক্ষার্থীর বাড়িতে জানানো হয় যুবক রায়হান নাহিদাকে তুলে নিয়ে গেছে। এরপর শিক্ষার্থীর পরিবার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেও পাওয়া যায়নি।

পরদিন নওগাঁ আদালতে শিক্ষার্থীর চাচা জুয়েল বাদী হয়ে একটি অপহরন মামলা করেছেন। এরপর মান্দা থানা পুলিশের সহযোগীতায় অপহরনের পাঁচদিন পুর শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে স্কুল শিক্ষার্থীকে উদ্ধার ও যুবক রায়হানকে আটক করা হয়।

ভূক্তভোগীর চাচা জুয়েল বলেন, বড়ভাই ব্যবসার সুবাদে পরিবারসহ দীর্ঘদিন থেকে ঢাকায় থাকেন। তার মেয়ে গ্রামে আমাদের কাছ থেকেই বড় হয়ে পড়াশুনা করছিল। ভাতিজি স্কুলে আসা যাওয়া পথে বিভিন্ন ভাবে রায়হান নামে ওই যুবক বিরক্ত করত। বিষয়টি একাধিক বার প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ ও যুবকের বাড়িত জানানো হয়। কিন্তু তারপর কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। সর্বশেষ ভাতিজি পরীক্ষা দেয়ার নাম করে স্কুলে আসলে তাকে অপহরণ করা হয়। এখন বিভিন্ন ভাবে আমাদের মামলা তুলে নেয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানের সভাপতি, অধ্যক্ষসহ কয়েক বিভিন্ন ভাবে চাপ প্রয়োগ করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। আমরা এ ঘটনার উপযুক্ত বিচার দাবী করছি।

প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ইমরুল কায়েশ বিপ্লব বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত ছিলাম না। তবে ভুক্তভোগীর পরিবারকে আপোষের জন্য কোন চাপ প্রয়োগ করা হয়নি। যদি কেউ অন্যায় করে থাকে তার প্রায়চিত্ত অবশ্য করতে হবে।

এব্যাপারে ভাঁরশো উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ এসএম আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। যেনো আগামীতে আর এমন অনাকাঙ্খিত ঘটনা না ঘটে।

মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, অপহৃত স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধারসহ অপহরনকারীকে আটক করা হয়েছে। রোববার সকালে আদালতের মাধ্যমে আসামীকে জেলহাজতে প্রেরন করা হয়েছে। সেইসাথে অপহৃত স্কুল ছাত্রীর জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মাহবুবুজ্জামান সেতু/নওগাঁ