হাঙ্গামার পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ।

মা‌নিকগ‌ঞ্জের সাটু‌রিয়া উপ‌জেলায় এন‌জিওর ঋণের কি‌স্তির টাকা প‌রি‌শোধ না করায় ঋণ গ্রহীতা‌কে অাট‌কে রে‌খে মার‌ধোর করেছে আম্বালা ফাউ‌ন্ডেশন নামের এক এন‌জিও কর্মী‌রা। এ ঘটনার পর ওই গ্রাহককে উদ্ধার করে চার এনজিও কর্মীকে আটক করেছে থানা পুলিশ।

বুধবার বি‌কেল সা‌ড়ে ৫ টার দিকে অাম্বালা ফাউ‌ন্ডেশ‌নের চর সাটু‌রিয়া কার্যালয় থে‌কে নজরুল ইসলাম নামের এক গ্রাহককে উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় জিজ্ঞিসাবাদের জন্য অাম্বালা ফাউ‌ন্ডেশনের এরিয়া ম্যা‌নেজার মো. কামরুজ্জামান (৪০), সাটু‌রিয়া শাখা ম্যা‌নেজার মারুফ (৩১), সাটু‌রিয়া শাখার ক্রে‌ডিট অ‌ফিসার সাগর (২৬) ও এন্টাপ্রাইজ অ‌ফিসার মাহবুব (২৮) আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বরাইদ ইউনিয়‌নের বড় পয়লা গ্রা‌মের মৃত হযরত অালীর ছেলে মো: নজরুল ইসলাম (৩৪) অাম্বালা ফাউ‌ন্ডেশনের সাটু‌রিয়া শাখা থে‌কে ২০১৭ সা‌লের ২৭ ন‌ভেম্বর মা‌সিক কি‌স্তি‌তে ২ বছর মেয়াদী ২ লক্ষ টাকা ১৪ শতাংশ জ‌মির দ‌লিল ও ক‌য়েক‌টি খা‌লি চেক দি‌য়ে ঋণ গ্রহন ক‌রে।

প্রথ‌মে ঋণের কি‌স্তি নিয়‌মিত প‌রি‌শোধ কর‌লেও সম্প্র‌তি আর্থিক অনট‌নের কার‌নে ক‌য়েক মা‌সের কি‌স্তি বা‌কি প‌রে নজরু‌লের। পরে বুধবার অাম্বালা ফাউ‌ন্ডেশনের সাটু‌রিয়া শাখায় আসলে তা‌কে আটক ক‌রে মার‌ধোর করে আটকে রাখে এন‌জিও‌র কর্মীরা।

ঋণ গ্রহীতা‌ মো: নজরুল ইসলাম জানান, ২ লক্ষ টাকা নেবার পর এ পর্যন্ত ১ লক্ষ ৪৮ হাজার টাকা প‌রি‌শোধ ক‌রা হয়। এন‌জিও‌টি‌তে তার ২০ হাজার টাকা সঞ্চয় ও ৭ হাজার টাকা ডি‌পিএস আছে। বুধবার সকাল ১০ টার দি‌কে জমা রাখা জ‌মির কাগ‌জ নি‌তে অাস‌লে টাকা দা‌বি ক‌রে আম্বালা ফাউ‌ন্ডেশনের সাটু‌রিয়া শাখায় তা‌কে তালা দি‌য়ে রু‌মে অাট‌কে রে‌খে মার‌ধোর ক‌রে অ‌ভিযুক্ত ব্য‌ক্তিরা।

অাম্বালা ফাউ‌ন্ডেশনের সাটু‌রিয়া শাখার ম্যা‌নেজার মারুফ জানায়, ঋণ গ্র‌হিতা সকা‌লে না দুপু‌রে সাটু‌রিয়া শাখায় আসলে তাকে রু‌মে ব‌সি‌য়ে রাখা হ‌য়ে‌ছিল। অার ঋণ গ্র‌হিতাকে মার‌ধো‌রের বিষ‌য়টি অস্বীকার ক‌রে ম্যা‌নেজার মারুফ।

সাটু‌রিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান জানান, এন‌জিওর ঋণের কি‌স্তির টাকা প‌রি‌শোধ না করায় ঋণ গ্রহীতা‌কে অাট‌কে রে‌খে মার‌ধোর করার অ‌ভি‌যোগ পে‌য়ে ঘটনাস্থ‌লে গি‌য়ে ভিক‌টিম‌কে উদ্ধার ও অ‌ভিযুক্ত ৪ এন‌জিও কর্মী‌কে অাটক ক‌রে থানায় নি‌য়ে অাসা হ‌য়ে‌ছে। এ ঘটনায় এখনো কোন মামলা হয়নি।

শাহজাহান বিশ্বাস, মানিকগঞ্জ