অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তা।

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এক তরুণীকে দুই দিন আটকে রেখে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ইয়াবা সেবন ও একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তের সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। ভুক্তভোগী ওই তরুণী ১১ ফেব্রুয়ারি সোমবার রাতে অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাটুরিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

অভিযোগে জানা গেছে, ২০ বছর বয়সী ভুক্তভোগী ওই তরুণী তার এক খালার সাথে ৬ ফেব্রুয়ারি বুধবার বিকালে আশুলিয়া থেকে সাটুরিয়া থানার এসআই সেকেন্দার হোসেনের কাছে প্রায় তিন লাখ পাওনা টাকা নেয়ার জন্য আসেন। সেখান থেকে ওই পুলিশ কর্মকর্তা দুইজনকে নিয়ে সাটুরিয়া ডাক-বাংলোতে যান। কিছুক্ষণ পর বাংলাতে উপস্থিত হন একই থানার এএসআই মাজহারুল ইসলাম। ওই তরুণীর অভিযোগ, দুই পুলিশ কর্মকর্তা বাংলাতে তাকে ও তার খালাকে আলাদা ঘরে আটকে রাখেন। এক পর্যায়ে তাকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ইয়াবা সেবনে বাধ্য করে ২দিন আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। শুক্রবার সকালে ৫ হাজার টাকা দিয়ে দুই জনকে ডাকবাংলো থেকে বের করে দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী ওই তরুণী দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রোববার লিখিত অভিযোগ দিলে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করে ২ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

মানিকগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাফিজুর রহমান ও ডিএসবির সহকারী পুলিশ সুপার হামিদুর রহমান সিদ্দিকী আজকে দিনভর প্রাথমিক তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন। ওই তরুণী অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে আসামী করে আজ রাতে সাটুরিয়া থানায় মামলা করেছেন। মামলাটি তদন্ত করবেন সাটুরিয়া থানার (ওসি তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ। এ ঘটনায় পুরো জেলায় সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় বইছে। নারী সংগঠনসহ নানা সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে সুষ্ঠ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবী জানানো হয়েছে।

পরিবেশবিদ এড. দীপক কুমার ঘোষ, জেলা উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক ও গণজাগরণ মঞ্চের জেলা শাখার আহ্বায়ক মো. মোস্তাফিজুর রহমান মামুন, জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান লহ্মী চ্যাটার্জী, জেলা উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সভাপতি ও জেলা মহিলালীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী শিউলীসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম জানান, অভিযুক্তরা পুলিশ সদস্য বলে কোন ছাড় পাবে না। আজকে রাতে ভুক্তভোগী ওই তরুণী অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাটুরিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন। আর মামলাটি স্বাভাবিক নিয়মেই চলমান থাকবে।

মো. ইউসুফ আলী/মানিকগঞ্জ