মানিকগঞ্জে জমে উঠেছে বৈশাখী বাজার। ছবি : শাহজাহান বিশ্বাস

বাংলা এবং বাঙালির ঐতিহ্যের প্রতীক, প্রাণের উৎসব ‘বৈশাখ’। বৈশাখ মানেই বাঙালির সর্বজনীন উৎসব। বৈশাখকে ঘিরে বাঙালির চেতনা জুড়ে রয়েছে অন্য রকম আবেগ। উৎসাহ ও দেশীয় সংস্কৃতিকে ধারণ করার আবেগ-অনুভূতি এ বৈশাখী আনন্দকে অর্থবহ করেছে। বৈশাখ মানে উত্তাপ আর উৎসবের আমেজ। চারদিকে সাজসাজ রব। দেশের সব প্রান্তের মানুষের মনকে আলোড়িত করে, করে উচ্ছ্বসিত।

নারী-শিশুসহ সকলেই প্রস্তুতি নিচ্ছে বৈশাখ উৎসব পালনে। সাধ্যানুযায়ী কেনা হচ্ছে বৈশাখী নতুন পোশাক। বাজারের কাপড় ব্যবসায়ীরা তাদের দোকানে নারীদের জন্য বৈশাখী শাড়ি, পুরুষদের জন্য গামছা-পাঞ্জাবি এবং শিশুদের জন্য রঙবেরঙের হরেক রকমের বৈশাখী নতুন পোশাক তোলে দোকান সাজিয়ে বসে আছেন। পহেলা বৈশাখে পছন্দের পোশাকটি কিনতে দোকান এবং শপিংমলগুলোতে এখন ক্রেতাদের ভিড়। প্রত্যেকেই নিজস্ব রুচির পোশাকটি কিনে নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে গ্রামাঞ্চলে বৈশাখের আগের দিন মূল বেচা-বিক্রি শুরু হবে বলে জানিয়েছেন দোকানিরা।

মানিকগঞ্জে বৈশাখী নতুন পোশাক। ছবি : শাহজাহান বিশ্বাস

আর মাত্র একদিন পরেই শুরু হবে বাংলা নতুন বছরের যাত্রা। আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে বাঙালি বরণ করে নেবে নতুন বছরকে। সকালের নাস্তায় থাকবে পান্তা-ইলিশ আর পরনে থাকবে বৈশাখী নতুন পোশাক। ক্রেতাদের এই পোশাকের চাহিদা মেটাতে মানিকগঞ্জ শহর ও উপজেলার বিভিন্ন মার্কেটের দোকানগুলোতে শোভা পাচ্ছে রঙ-বেরঙের বর্ণিল রং ও নকশার বৈশাখী পোশাক। তবে ঝড়-বৃষ্টির কারণে গ্রামাঞ্চলের দোকানগুলোতে বেচা-কেনায় কিছুটা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দোকানিরা।

মানিকগঞ্জ শহর ও শিবালয় উপজেলার আরিচা ঘাট, বরংগাইল, টেপড়া ও উথলী বাজার ঘুরে দেখা মিলেছে বৈশাখী কেনা-কাটার ব্যস্ততা। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে প্রায় প্রতিটি দোকানেই আনা হয়েছে নতুন নতুন রং ও ডিজাইনের শাড়ি সালোয়ার-কামিজ কুর্তা, ফতুয়া,টি-শার্ট, গামছা, পাঞ্জাবি ও ওড়না। বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা গেছে, পোশাকের বাজার এবার সাদা রঙের দাপট। তবে লাল-সাদা রঙের পোশাকের চাহিদা আগের মতোই রয়ে গেছে বলে জানান বিক্রেতারা। বর্ণিল রঙের পোশাক-পরিচ্ছদের উপস্থিতিও বেশ নজর কাড়ার মতো। নিম্ন আয়ের মানুষগুলো ভিড় করছেন ফুটপাতের দোকানগুলোতে। বিক্রেতারা বলছেন, ‘পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে এক সপ্তাহ আগে থেকে দোকানে পোশাক তুলতে শুরু করেছেন তারা। ইতিমধ্যে বিভিন্ন ধরনের নকশার পোশাক চলে এসেছে। বিক্রি হচ্ছে মোটা-মোটি।’

বৈশাখের আগের দিন মূল বিক্রির প্রত্যাশা করছেন ব্যবসায়ীরা। মানিকগঞ্জের বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে প্রায় একই চিত্র। পোশাকে বাঙালিয়ানা ফুটিয়ে তুলতে বিভিন্ন নকশা ব্যবহার করা হয়েছে। বিভিন্ন গান কবিতার লাইন, প্রাণী, ফুল, লতা-পাতা, নারীর অবয়ব, তালের পাখা, ঢাকঢোলের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে পোশাকের ডিজাইনে। কোনও কোনও পোশাকে আবার গ্রাম বাংলার চিরায়ত রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আরিচা ঘাটে আনন্দ সুপার মার্কেটের দোকানদার মানিক মিয়া জানান, ‘আমরা বৈশাখী পোশাকের মোটামোটি অনেক কালেকশনে রেখেছি। প্রথম অবস্থায় বিক্রি কম থাকলেও এখন একটু একটু করে বাড়ছে।’

মানিকগঞ্জে বৈশাখী নতুন পোশাক। ছবি : শাহজাহান বিশ্বাস

বৈশাখের আগের দিন অধিকাংশ পোশাক বিক্রি হয়ে যাবে বলে তিনি আশা করে উথলী ফরিদ সুপার মার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী মামুন মিয়া আজকের প্রত্রিকাকে জানান, ‘ঈদ, পূজার মতো পহেলা বৈশাখেও আমরা ভালো ব্যবসা করে থাকি। তাই আগেভাগেই বৈশাখী পোশাক এনে রেখেছি।’ বেচাবিক্রি কেমন হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দু,তিনদিন আগে থেকেই টুক-টাক বিক্রি শুরু হয়েছে। তবে এখন আগের চেয়ে বেড়েছে।’ আরিচা ঘাটের কাপড় ব্যবসায়ী আলামিন জানান, ‘আমার এখানে শিশু ও টেনএজ বয়সী ছেলেদের পোশাক উঠনো হয়েছে বেশি। বিশেষ করে গেঞ্জি, পাঞ্জাবি, প্যান্ট ও টি শার্ট বেশি বিক্রি হচ্ছে।’

ডাকবাংলো রোডের কাপড় ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তার দোকানে শিশু ও নারীদের পোশাক উঠনো হয়েছে বেশি। বৈশাকে ক্রেতাদের কাছে কোন ধরনের পোশাকের চাহিদা বেশি জানতে চাইলে তিনি বলেন, যে ধরনের কাপড়ই আমরা আনি, তা অধিকাংশই শেষ হয়ে যায়। তবে বৈশাখে যেহেতু আবহাওয়া গরম তাই সুতি কাপড়ের চাহিদা বেশি। খাদি, লিনেন ও তাঁতের কাপড়ও বিক্রি হচ্ছে। এসব পোশাকে এমব্রয়ডারি, ব্লক, স্কিন প্রিন্ট, হাতের কাজ ব্যবহার করা হয়েছে।’

আরিচা ঘাটের কাপড় ব্যবসায়ী বিশ্বনাথ কন্ডু জানান, ‘বৈশাখ উপলক্ষে এবার দোকানে অনেক আইটেমের কাপড়-চোপড় উঠানো হয়েছে। কিন্ত আরিচার বারোনির মেলা এবং প্রতিদিন বিকালে ঝড় আসায় বৈশাখী বেচা-কেনায় অনেক সমস্যা হচ্ছে। অন্যান্য বছর এ সময়ে যে পরিমাণ বিক্রি করি এবার সে পরিমাণ বিক্রি করতে পারছি না। আজ-কাল এ দুদিন বৈশাখী কেনা-বেচা হবে। এরপর এসব পোশাক আর কেউ কিনতে চাইবে না। ক্রেতা সোহেল বলেন, ‘ঈদের দিন নতুন পোশাক না পড়লে যেমন ঈদ মনে হয় না। তেমনি পহেলা বৈশাখে নতুন পোশাক না পড়লে মনে নতুনত্ব জাগে না। পহেলা বৈশাখে নতুন পায়জামা-পাঞ্জাবি পরে ঘুরে বেড়াতে খুবই মজা লাগে।’

আজকের পত্রিকা/শাহজাহান বিশ্বাস/মানিকগঞ্জ/প্রতিনিধি/আ.স্ব/জেবি

বৈশাখ নিয়ে আরও সংবাদ পড়তে ক্লিক করুন