মানসিক অস্থিরতা কমাতে ভ্রমণ করুন। ছবি: সংগৃহীত

মানসিক অস্থিরতা ব্যক্তির স্বাভাবিক জীবনকে ব্যাহত করে। মনের মধ্যে স্থিতিশীলতা না থাকলে, শরীরও ঠিকঠাক কর্মক্ষম থাকে না। ফলে কাজের ক্ষেত্রে চলে আসে ধীরতা। মনের মধ্যে নানা কারণে অস্থিরতা বোধ তৈরি হতে পারে। যেমন- আর্থিক সংকট, সম্পর্কে বিচ্ছেদ, ভুল বোঝাবুঝি, কর্মজীবনে অবনতি, শিক্ষাজীবনে অধঃপতন ইত্যাদি। এসবের ফলে মানুষ প্রচণ্ড পরিমাণে অস্বস্থি এবং বিরক্তি বোধে ভোগে। কেউ কেউ জীবন সম্পর্কে উদাসীন হয়ে যায়। জীবনটাকে কারো কারো কাছে অর্থহীনও মনে হয়। সামান্য মানসিক অস্থিরতা শেষ পর্যন্ত বড় ধরণের মানসিক রোগে পরিণত হয়। তাই এরকম অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া জরুরী হয়ে পড়ে। চলুন জেনে নিই, ঠিক কী কাজগুলো করলে কমে যাবে মনের অস্থিরতা।

ব্যায়াম করা

যদি কোনো গুরুত্বর কারণে অতিরিক্ত চিন্তিত অবস্থায় থাকেন, তাহলে কিছু সময় হাঁটাহাঁটি করে নিন। মিনিট দশেক হাঁটলেই মন শান্ত হবে। এছাড়া  দৈনিক হালকা ব্যায়াম করুন। সুশৃঙ্খল জীবনযাপনে অভ্যস্ত হতে হবে। সকল প্রকার নেশা জাতীয় দ্রব্য থেকে দূর থাকুন।

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে বিরতি নিন

বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহার এবং তাতে দেখা বিভিন্ন অপ্রীতিকর ছবি কিংবা লেখা পড়ে মন অশান্ত এবং অস্থির হয়ে ওঠে। তাই আপনার উচিত মাঝে মধ্যে তথ্য প্রযুক্তির এই জগৎ থেকে কিছুটা বিরতি নেয়া। এই বিরতিকালে নিজের বন্ধু বান্ধব, আত্মী-স্বজনদের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে পারেন। এটা মনের অস্থিরতা কমাতে সাহায্য করবে। এছাড়াও যেসব কারণে মন অস্থির তা অন্যদের সঙ্গেও বলতে পারেন।

আলাদা কিছু করার চেষ্টা করা

যা আপনার অস্থিরতা বাড়িয়ে দিচ্ছে তা থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করতে হবে। সেজন্য পছন্দের কোনো খেলা খেলতে পারেন, শপিং এ যেতে পারেন বা নতুন কিছু করার চেষ্টা করা যেতে পারে। দৈনিক পরিকল্পনায় নিজের জন্য কিছু আলাদা সময় রেখে চোখ বন্ধ করে গান শুনতে পারেন কিংবা কবিতা পড়া বা অন্য যেকোনো কিছু করলে মন ভালো থাকবে। যদি এসবেও কাজ না হয়, তাহলে দূরে হোক কিংবা কাছে কোথাও একটু বেড়িয়ে আসতে পারেন। ভ্রমণ মানুষের জীবনের ক্ষুদ্রতা সংকট নিয়ে দারুণ কিছু শিক্ষা দিতে পারে।

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

নিজের বলতে যা কিছু আছে কিংবা আপনি যেমন আছেন তা নিয়ে জীবনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন। এতে মন অনেক শান্ত হয়ে আসে। এছাড়া অতিরিক্ত অস্থিরতা দেখা দিলে মেডিটেশনও করতে পারেন। সেজন্য ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নিতে হবে। দম কিছু সময় আটকে রেখে আবার আস্তে আস্তে শ্বাস ছাড়তে হবে। দৈনিক সকালে এই প্রাথমিক পর্যায়ের ধ্যান করার চর্চার মধ্যে দিয়ে অস্থিরতা দূর করতে পারবেন।

আজকের পত্রিকা/ কেএইচআর/ এআরকে