মাধবপুরে সংখ্যালঘুর জায়গায় ঘর নির্মাণের চেষ্টা

হবিগঞ্জের মাধবপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা স্বত্ত্বেও সংখ্যালঘুর জায়গায় ঘর নিমান করার চেষ্টা করছে প্রভাবশালী মহল । এ ঘটনায় সুভাষ পাল নামের এক ব্যাক্তি হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের নিকট একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, মাধবপুর পৌর সভার কাটিয়ারা মৌজার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার সাতবর্গ গ্রামের সুভাষ চন্দ্র পালের পৈত্রিক সম্পত্তিতে জাল দলিল সৃষ্টি করে ঘর নির্মান করে নাসিরনগর উপজেলার গুনিয়াউক গ্রামের সৈয়দ মোঃ আব্দুল মালেক একই উপজেলার রুস্তমপুর গ্রামের মোঃ নুরুল হক, হরিপুর গ্রামের আবু ছায়েদ সহ কয়েকজন প্রভাবশালী।

এ ঘটনায় সুভাষ পাল হবিগঞ্জ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার নং স্বত্ত্ব ০৪/২০০৮। মামলাটি আদালতে চলমান আছে।

সম্প্রতি মাধবপুর সবুজভাগ থেকে উপজেলা পরিষদের সামনে পাইবাস রাস্তা নির্মান করার প্রক্রিয়া শুরু হলে গত ০৫ সেপ্টেম্বর মাধবপুর উপজেলা প্রশাসন রাস্তা পাশে থাকা বিভিন্ন ঘর ও দোকান উচ্ছেদ করে। এ সময় প্রশাসন সুভাষ পালের পৈত্রিক সম্পত্তিতে প্রভাবশালীদের নির্মিত ঘর ভেঙ্গে ফেলে।

ঘর ভেঙ্গে ফেলার পর প্রভাবশালীরা আবার এই জায়গায় ঘর নির্মাণ করার উদ্যোগ নিলে সুভাষ পাল হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক , মাধবপুর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা নিকট লিখিত অভিযোগ করেন।

সুভাষ পাল জানান, কটিয়ারা মৌজার জেএলনং-৭৯, এসএ -১০৮ নং খতিয়ান ভুক্ত এসএ ৫০৫ দাগ ভাটা ১১২৯ নং দাগের ভুমিটি তার পিতা নরেন্দ্র চন্দ্র পাল ১৯৫৫ ইং সালের মাধবপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিষ্ট্রিকৃত ১৫১১ ও ১২৯৫ নম্বর সাব কবলা দলিল মূলে মালিক। পিতার ওয়ারিশান সুত্রে সুভাষ পাল ও তার ভাই মালিক হন।

কয়েক বছর পূর্বে নাসিরনগর উপজেলার গুনিয়াউক গ্রামের সৈয়দ মোঃ আব্দুল মালেক সীতাকুন্ড সাব রেজষ্ট্রি অফিসের ১৯৭০ ইং সালে ৩১০ নং দলিল দেখিয়ে জায়গার মালিকানা দাবি করেন।

পরবর্তীতে সীতাকুন্ড সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে খবর নিয়ে জানা যায় ৩১০ নং দলিলের কবলা দাতা আফি উদ্দিন ,পিতা – রহম আলী, সাং- মহালঙ্গা, থানা-সীতাকুন্ড, জেলা –চট্রগ্রাম। ৩১০ নং দলিল যে আব্দুল মালেকের না এ বিষয়ে চট্রগ্রাম সাব রেজিষ্ট্রি অফিসার একটি প্রত্যায়ন দেন।

এ ঘটনায় সৈয়দ আব্দুল মালেক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ জজ কোর্টে ও হাই কোর্টে পৃথক মামলা করা হয়। মামলাটি এখনও চলমান আছে। অপরদিকে আব্দুল মালেক তার স্ত্রী রিনা আক্তার কে বাদি করে ২০০১৮ সালে সুভাষ পাল ও তার ভাই নিরঞ্জ পাল কে আসামী করে মাধবপুর থানায় একটি সাধারন ডায়রি করেন।

পুলিশ কোন প্রকার তদন্ত না করে আব্দুল মালেক থেকে সুবিধা নিয়ে সুভাষ পাল ও তার ভাই নিরঞ্জন পালের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দেন।

আব্দুল মালেক চালিয়াতি চক্রের বড় সদস্য। ২০০১ সালে চট্রগ্রামে আব্দুল মালেকসহ ৩ জন গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন। চট্রগ্রামের স্থানীয় দৈনিক বীর চট্রগ্রাম ম পত্রিকায় ২০০১ সালের ১৪ অক্টোবর আব্দুল মালেকের ছবি সহ সংবাদ প্রকাশিত হয়। সুভাষ পাল জানান, প্রভাবশালীদের ভয়ে তিনি ও তার পরিবার আতংকে দিন কাটাচ্ছেন। যে কোন সময় প্রভাবশালী মহল সুভাষ পাল ও তার পরিবারের লোকজনদের ক্ষতি করতে পারে।

মাধবপুর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) মতিউর রহমান খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সরকারি সম্পত্তি তে ঘর নির্মান করার কারনে আমরা অভিযান চালিয়ে ঘর গুলো উচ্ছেদ করি। সুভাষ পাল নামে একজন অভিযোগ দিয়েছেন। কাগজপত্র দেখে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাধবপুর উপজেলা নিবার্হী কর্মকতার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

মাধবপুর পৌর মেয়র হিরেন্দ্র লাল সাহার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, প্রশাসন অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে আমাদের রাস্তা করার জন্য তৈরী করে দিয়েছেন।

এই জায়গাটি মালিকানাধিন কিনা এ বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে যতদুর শুনেছি আব্দুল মালেক গংরা চট্রগ্রামের একটি দলিল দেখিয়ে জায়গার মালিকানা দাবি করছে। মাধবপুরের জায়গা চট্রগ্রাম দলিল হয় কি করে তিনিও বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ পোষন করেছেন।

-আরডি