হাতে গ্লাভস আর মাথায় হেড পট ছাড়াই খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে।

হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর পৌর শহরের নামিদামী হোটেল গুলোতে বিক্রি করা হচ্ছে নিম্নমানের খাবার। দেখার যেন কেউ নেই। হোটেল গুলোর রান্না করার জায়গাটিও অপরিচ্ছন্ন।

মাছি উড়তে দেখা যায় সারাক্ষণ। খাবারের দাম ও নেওয়া হচেছ গলাকাটা। খাবারের তুলনায় দাম অনেক বেশি বলে অনেক ক্রেতা জানিয়েছেন। খাবারের নেই কোন মূল্য তালিকা। কয়েক টি টেবিলে পুরাতন কিছু ম্যানুর দাম লেখা থাকলে ও বাস্তবে এর সাথে মিল নেই। যার ফলে হোটেল কতৃপক্ষ নিজেদের মনগড়ামত বিল করেন।

গলাকাটা রেটে ব্যবসা করে মাধবপুর বাজারে কয়েক বছর হোটেল চালিয়ে অনেকে দুই থেকে তিনটি হোটেলের মালিক হয়ে গেছেন।

হোটেল কুঠুমবাড়ি ও অতিথি রেস্তোরাতে গিয়ে দেখা গেছে খাবারের টেবিল গুলোতে সব সময় উড়ছে মাছি। রান্না করার পাশেই বাথরুম। রান্নার জায়গাটিও অপরিচ্ছন্ন। হোটেল বয়দের কোন প্রকার হাত গ্লাপস ও মাথায় নেই হেড পট। যার ফলে প্রায় সময় খাবারে চুল পরতে দেখা যায়। মাঝে মাঝে খাবারে চুল দেখা গেলেও হোটেল কর্তৃপক্ষ খাবার ফেরত নিতে চান না।

শেখ জাহান রনি নামে এক যুবক জানান, কুঠুমবাড়ি ও অতিথি হোটেলে গলাকাটা দাম রাখা হয়। খাবারের মানও ভাল নয়। হোটেল বয়দের হাতে লেগে থাকে ময়লা। মাথায় হেড পট ও হাতে হ্যান্ড গ্লাপস থাকে না। প্রায় সময় খাবারে চুল ও মাছি দেখা যায়। রান্নার পরিবেশও অত্যন্ত নোংরা।

পৌর শহরের বাসিন্দা জামাল উদ্দিন জানান, মাধবপুরে বাজারে কয়েক বছর হোটেল ব্যবসা করতে পারলে অনেকেই গাড়ি বাড়ির মালিক হয়ে যান। একটি হোটেল থেকে অনেকে ২/৩ টি হোটেলের মালিক হয়ে গেছে। হোটেল কুঠুমবাড়ি ও অতিথি হোটেলে গেলে দেখা যায় স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের অবাধে আড্ডা। শিক্ষার্থীরা আড্ডা দিতে থাকলে হোটেল কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নেন না।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্যানিটেশন কর্মকর্তা মুহিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পৌর সভার ভিতর যে হোটেল গুলো রয়েছে সে গুলো দেখেন পৌর স্যানিটেশন কর্মকর্তা।

পৌর স্যানিটেশন কর্মকর্তা সরজিত রায় জানান, শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে।

মাধবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) আয়েশা আক্তারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, শিঘ্রই অপরিচ্ছন্ন হোটেল গুলোতে অভিযান চালানো হবে।

-আরডিআর