চরফ্যাশন উপজেলার চরনাজিম উদ্দিন গ্রামের কাঁচা সড়কটিতে কাদাঁ মাটিতে একাকার যাতায়াতকারী মানুষের দুর্ভোগের দৃশ্য।

চরফ্যাশনের গ্রামে কিছু কাঁচা রাস্তার অবস্থা খুবই নাজুক। সড়ক না চাষের জমি চেনাই মুশকিল। অপরিচিত কেউ দেখলে আতকে উঠে। বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই সড়কটি কাঁদা-মাটিতে একাকার হয়ে পানি থই থই করছে। একেবারে কৃষি আবাদের উপযোগী হয়ে পড়েছে। এমন একটি সড়কের নাম চরমাদ্রাজের চরনাজিমুদ্দিন গ্রামের জামান সড়ক।

চরফ্যাশন পৌর শহরের আজম খান সড়ক দিয়ে একটু দক্ষিণে গিয়ে সোজা পূর্ব দিকে মাদ্রাজের উত্তর চর নাজিম উদ্দিন গ্রামের ৮ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে মেঘনা পাড়ের বেঁড়িবাধে গিয়ে মিশেছে জামান সড়ক নামের কাঁচা সড়কটি। কয়েকটি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার পথযাত্রী এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন পায়ে হেটে চলাচল করতে হচ্ছে চলতি মৌসুমে ।

কাঁদা পানির কারণে কোন যানবাহন তো দূরের কথা কেউ হেটে যেতেই আতকে উঠেন। অথচ ইচ্ছা না থাকা সত্বেও এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন আবাল, বৃদ্ধ, বনিতা, স্কুল মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীরাসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ চলাচলে বাধ্য হচ্ছে।

ওই এলাকায় বসবাসকারি পত্রিকা এজেন্ট ও বিক্রেতা মোঃ কবির জানায়, এ গ্রামের মানুষ যদি কোন রোগী কিংবা দূর্ঘটনায় পড়ে তাহলে ওই সব লোক কেবল কোলে পিঠে করে বা রথ যাত্রা ছাড়া কোন স্বাস্থ্য সেবা নিতে পারে না। একটু বর্ষ হলেই পানি জমে থাকে চাষাবাদের উপযোগি হয়ে যায়।

এ সড়ক দিয়ে মেঘনার মনোরম দৃশ্য দেখার জন্য শুকনো মৌসুমে পর্যটকদের ঢল নামে। জেলেরা নদীতে মাছ শিকার করে দেশের বিভিন্ন জেলায় মৎস্য রপ্তানী করে আসছে। বর্ষা হলেই তা অসম্ভব হয়ে পড়ে। সড়কের কোল ঘেষে স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীরা যাতায়াতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। তারা কাঁদা মাটির জন্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে না গিয়ে বাড়ীতে অলস সময় কাটাচ্ছেন বলেও অভিভাবক সূত্রে জানা গেছে।

সড়কের পাশে বসবাস কারী নাজিমুদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আমিনুল ইসলাম মালতিয়া জানান, প্রায় কয়েক যুগ পূর্বে থেকেই এ কাঁচা সড়কটি বেহাল দশা। কোন সরকারের নজরেই আসেনি এ সড়কটি। তবে বর্তমান সরকারের আমলে মাদ্রাজ ইউনিয়নে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। যাহা পূর্বে কোন সরকারের আমলে হয়নি। বেঁড়িবাধ ভেঙ্গে মেঘনার পানি প্রবেশ করার কারণে সড়কের ব্যপক ক্ষতি হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বন পরিবেশ মন্ত্রনালয়ে সাবেক উপমন্ত্রী আলহাজ্ব আব্দুল্যাহ আল-ইসলাম জ্যাকব এমপি’র একান্ত প্রচেষ্টায় সড়কের ব্যপক উন্নয়ন হলেও এ কাঁচা সড়কটি তার নজরে আসেনি।

ওই এলাকার সাবেক মেম্বার জাকির আখন জানান, সড়কটি দ্রুত পাকা না করলে দুর্ভোগের সীমা থাকবে না। স্থানীয় গ্রাম পুলিশ ফারুক চৌকিদার বলেন, আমরা এই সড়কটি নিয়ে বড়ই বিপাকে পড়েছি। সড়ক দিয়ে পায়ে জুতা পড়ে কেউ উপজেলা সদরে যেতে পারেনা। সড়কে পানি সবসময় জমে থাকে। সাধারণ মানুষের কাছে আমারা প্রশ্নের সম্মুখিন হয়ে থাকি।

চরফ্যাশন উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি)‘র রেজাউল করিম বলেন, সড়কটির কথা আমি শুনছি তবে আমাদের সহকারী প্রকৌশলী সরেজমিন গিয়ে দেখবে। পরবর্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রুহুল আমিন জানান, সড়কটি পাকা করনের কাজ প্রক্রিয়াধীন। সড়কটির দ্রুত পাকা করার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করেন ওইসব এলাকার ভূক্তভোগী জনগন ।

আমির হোসেন/চরফ্যাশন