আদালত। প্রতীকী ছবি

এক মাস আগে মাদরাসাছাত্রী জয়নব খাতুনের (১৩) সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন মজিবুল ইসলাম। তার ডাকে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ভাঙ্গুড়া এলাকার একটি পুকুরপাড়ে দেখা করেন জয়নব। সেখানে তারা কথাবার্তা বলতে বলতে এক পর্যায়ে শারীরিক সম্পর্ক হয়। জয়নব তখন বিয়ের জন্য মজিবুলকে চাপ দেন।

জয়নব বলেন, বিয়ে না করলে বাড়ি যেতে পারবে না। তখন ক্ষিপ্ত হয়ে জয়নবকে গলা টিপে ধরে মজিবুল। মারা গেছে ভেবে পানিতে ফেলে দেয়। কিন্তু তখনও মরেনি জয়নব। কিছুক্ষণ পর পানির মধ্যে থেকে তুলে এনে বাঁচানোর চেষ্টা করে। এরপর মজিবুলের কোলের মধ্যেই মারা যান জয়নব। এরপর লাশ মাছের ঘেরের পানিতে ফেলে ঢাকায় পালিয়ে যান মজিবুল।

এভাবে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন মজিবুল ইসলাম (২৫)। মঙ্গলবার দুপুরে যশোরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনি জবানবন্দি দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাঘারপাড়া থানার ওসি জসিম উদ্দিন। তিনি আরও জানান, ঢাকা-কক্সবাজার ঘুরে আবার যশোর ফিরে আসেন মুজিবুল।

গত ৯ নভেম্বর যশোর সদর উপজেলার হামিদপুর গ্রামে এসে নিজেই নিজের হাতপা বেঁধে রেখে পরিবারের লোকজনকে জানান তাকে কেউ বেঁধে রেখেছে। পরিবারের লোকজন পুলিশকে খবর দিলে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতাল থেকে গত সোমবার ছাড়পত্র দেয়া হয়।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) তৌহিদুল ইসলাম জানান, গত ৪ নভেম্বর বিকেলে যশোরের বাঘারপাড়া থানার পুলিশ জয়নব খাতুনের লাশ উদ্ধার করে।

পরের দিন নিহতের বাবা নড়াইল সদর উপজেলার বিছালী গ্রামের জিয়াউর রহমান শেখ বাঘারপাড়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামি করা হয় যশোর সদর উপজেলার চাঁনপাড়া গ্রামের মজিবুল ইসলাম। ঘটনার পর তিনি পলাতক ছিলেন।

৯ নভেম্বর আসামি মজিবুলকে গ্রেফতার করা হয়।

মজিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভিকটিমের দুলাভাই আসাদুজ্জামান যশোর সদর উপজেলার চাঁনপাড়া গ্রামের একটি মসজিদের ইমামের চাকরি করেন। সেই
সুবাদে মসজিদের কোয়ার্টারে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। ভিকটিম জয়নব মাঝেমধ্যে দুলাভাইয়ের বাসায় বেড়াতে আসতেন। ওই বাসার পাশেই মজিবুলের
বাড়ি।

হত্যার এক মাস আগে মজিবুল ও জয়নবের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।

ঘটনার পর লাশ পানিতে ফেলে পালিয়ে যান। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার হয়ে আবার যশোর এসে অপহরণের নাটক সাজায়। সেখান থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

এইচ আর তুহিন/যশোর