মঙ্গলবার কৃষিমন্ত্রণালয়ে কৃষিমন্ত্রী ও খাদ্যমন্ত্রী ব্রিফ্রিং করেন। ছবি : সংগৃহীত

আওয়ামী লীগ সরকার শুরু থেকেই কৃষি গবেষণায় বিশেষ জোর দিয়ে এর বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড.মো. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, ‘দেশের কৃষি বিজ্ঞানীরা নতুন নতুন ফসলের জাত উদ্ভাবন এবং তা মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারিত হওয়ায় ফসলের ফলন উত্তোরত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘খাদ্য ঘাটতির দেশ হতে খাদ্য উদ্বৃতত্তের দেশে উপনিত হয়েছে। দেশের সকল মানুষের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ সুষম খাদ্য নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গিকার। সরকার কৃষির যান্ত্রিকিকরণে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ সহায়তা প্রদান করছে, প্রয়োজনে আরও সহায়তা বাড়ানো হবে’।

১১ জুন মঙ্গলবার সচিবালয়ে কৃষিমন্ত্রণালয়ের নিজ কার্যালয়ে কৃষিমন্ত্রীর সাথে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত মারি-অনিক র্বুদনি, স্পেনের রাষ্ট্রদূত আলভারো দে সালাস, জার্মানির রাষ্ট্রদূত মাইকেল শস্কুটহাইস এবং ইউরোপীয় মশিন এর কমউিনিটি ডেপুটি চিফ কনস্টান্টিনো ওযার্ডকিসের সাথে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে শেষে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফ্রিং কালে কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় খাদ্য মন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি উপস্থিত ছিলেন।

কৃষিমিন্ত্রী বলনে, ‘কৃষক এর উৎপাদন বেশি হলেই কৃষক প্রকৃত মূল্য পায় না। তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা একান্ত অপরিহার্য। এর জন্য প্রয়োজন কৃষির প্রক্রিয়াজাত ও বানিজ্যিকিকরণ এবং স্থানীয় ও আর্ন্তজাতিক বাজার,এই ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা প্রয়োজন’।

তিনি কৃষি যান্ত্রিকীকরণে সরকার ৩ হাজার কোটি টাকার কৃষি যন্ত্র ক্রয়ের জন্য একটি প্রকল্প প্রণয়নের সিদ্বান্ত নেয়া হয়েছে বলে তাদের জানান। আধুনিক ও বাণিজ্যিক কৃষির ক্ষেত্রে ফ্রান্স,স্পেন,জার্মানি ও ইউরোপিয় ইউনিয়নের সহায়তা চান কৃষিমন্ত্রী ।

কৃষি মন্ত্রী বলেন, ‘বোরো ধান নিয়ে সরকার বেশ উদ্বিগ্ন। মুল সমস্যা হলো খাদ্য গুদামের । খাদ্য গুদামের ধারন ক্ষমতা প্রায় ২১ লাখ মে.টন। সরকার ১২ লাখ মে.টনচাল ও দেড় লাখ মে.টন ধান কেনার যে কার্যক্রম হাতে নিয়েছে তা বাড়িয়ে ধান ক্রয় করা হবে আরও আড়াই লাখ মে.টন সহ মোট ৪ লাখ মে.টন এবং প্রয়োজনে এ পরমিান আরও বাড়ানো হবে’।

খাদ্যমন্ত্রী বলনে, ‘ ধানের উৎপাদন ও কৃষি মজুরী বেশির কারণে এবারে এই পরস্থিতি সৃষ্টি হয়ছে। ধানের মূল্য নির্ধারণ করা ছিল ২৬ টাকা। দেশের ২শ টি যায়গার ৫ হাজার মে.টন ধারণ ক্ষমতার স্টিলের সাইলো নির্মান করা হবে’।

খাদ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ এখানে ড্রাই মেশিন থাকবে ধান শুকানোর জন্য। এছাড়া সরকার সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনে মিল মালিকদের মাধ্যমে চাল তৈরী করে মিলারদের কাছ থেকে চাল ক্রয় করা যায় কিনা তাও দেখা হচ্ছে’।

আজকের পত্রিকা/আর.বি/