ওই কুঠুরির দেয়ালে নরঘোটকসহ নানা পৌরাণিক জীবের ছবি আঁকা রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

রোমে মাটির তলায় গোপন কুঠুরির সন্ধান পাওয়া গেছে। জানা গেছে প্রায় দু’হাজার বছর আগে এই কুঠুরিটি তৈরি হয়েছিল।সম্প্রতি রোমে ঐতিহাসিক নির্মাণ কেন্দ্রে মেরামতের কাজ চলছিল। খোঁড়াখুঁড়ি করার সময় সেখানে ওই গোপন কুঠুরির সন্ধান পেয়েছেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা।

ওই কুঠুরির দেয়ালে নরঘোটকসহ নানা পৌরাণিক জীবের ছবি আঁকা রয়েছে। এছাড়াও ফুল-পাতা, সাপ এবং পাখির ছবিও রয়েছে। প্রত্নতত্ত্ববিদরা জানিয়েছেন, দেয়ালের গায়ে এই ধরনের চিত্র বা ফ্রেস্কো বহু বছর আগে আঁকা। ছবিগুলোর রং খানিকটা ফিকে হয়ে গেলেও, সেগুলো ভালো অবস্থাতেই রয়েছে। প্রত্নতত্ত্ববিদরা ধারণা করছেন, ‘পঞ্চম রোমান সম্রাট নিরো যে চোখ ধাঁধানো প্রাসাদ তৈরি করেছিলেন, এই কুঠুরি তারই একটি অংশ।’

সম্রাট নিরো ৫৪ থেকে ৬৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রোমের শাসক ছিলেন। তবে পূর্বসূরিদের মতো তার ভাবমূর্তি একেবারেই উজ্জ্বল নয়, বরং অসংখ্য হত্যাকাণ্ডের হোতা বলে পরিচিত ছিলেন তিনি। এমনকি তিনি ক্ষমতার লোভে নিজের মা এগ্রিপিনাকেও পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন। বিষ খাইয়ে হত্যা করেছিলেন সৎ ভাই ব্রিতানিকাসকেও। ৬৪ খ্রিস্টাব্দে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয়েছিল রোম সাম্রাজ্য। টানা ছয় দিন ধরে জ্বলতে থাকা সেই আগুনে পুড়ে সবকিছু ছারখার হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ওই সময়েও নিরোকে নাকি অস্বাভাবিক রকম নির্বিকার থাকতে দেখা গিয়েছিল।

এছাড়াও ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে যে, চোখের সামনে রোম যখন পুড়ছিল, তখন প্রাসাদে দাঁড়িয়ে বেহালা বাজাচ্ছিলেন নিরো।রোমের অধিবাসীদের দাবি, সম্রাট নিরো বিশাল এলাকা জুড়ে চোখ ধাঁধানো প্রাসাদ গড়তে চেয়েছিলেন, তাই নিজেই অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন। যে কারণে আগুন নেভার সঙ্গে সঙ্গেই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে স্বপ্নের দোমাস অরিয়া বা স্বর্ণগৃহ নির্মাণ করেন। হাতির দাঁত এবং মূল্যবান রত্ন দিয়ে সাজান প্রাসাদটিকে। কিন্তু তার অল্পদিনের মধ্যেই নিরোর বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ চরমে পৌঁছায়। দেশের সেনেট তাকে জনগণের শত্রু ঘোষণা করে। প্রাণে বাঁচতে প্রথমে পালিয়ে গেলেও, পরে নিজেই আত্মহত্যা করেন নিরো।

নিরোর মৃত্যুর পর পরবর্তী শাসকরা ওই প্রাসাদ ভেঙে ফেলেন। তার পরিবর্তে সেখানে তৈরি হয় গ্ল্যাডিয়েটরদের জন কলোসিয়াম। গোপন কুঠুরিটি ওই প্রাসাদেরই অংশ বলে ধারণা প্রত্নতত্ত্ববিদদের।

আজকের পত্রিকা/বিএফকে/সিফাত