মাটির নিচে চাপা দেয়া চিকিৎসা সরঞ্জাম।

বহুল প্রচারিত ও লোক মুখে উচ্চারিত ‘সরকারি মাল, দরিয়া মে ঢাল’ এই প্রবাদ বাক্যের অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে সাতক্ষীরায় সরকারি সম্পদ ব্যবহারে। সরকারি সম্পদ এমনভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এখানে যেন ব্যবহারকারীরা মনে করছেন সম্পদগুলো তিনি পেয়েছেন উত্তরাধিকার সূত্রে।

২৫ মে শনিবার সকালে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের ক্যান্টিনের পেছনে ড্রেনের পাশে মাটি চাপা দেওয়া কমপক্ষে দশ বস্তা সরকারি ওষুধ ও গজ ব্যান্ডেজসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

বৃষ্টির পানিতে মাটি ধুয়ে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা ওষুধগুলো বেরিয়ে পড়ে। এরপর ২৫ মে শনিবার দুপুরের পর ঘটনাটি নজরে আসে সর্বসাধারণের।

মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা ওষধের পরিমাণ কমপক্ষে ১০ বস্তা ও ওষুধগুলোর এখনো মেয়াদ রয়েছে জানিয়ে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, লুকিয়ে রাখা এসব ওষুধগুলো সরকারি। এসব ওষুধের এখনো মেয়াদ রয়েছে।

বস্তাভর্তি ওষধগুলো ক্যান্টিনের পেছনে ড্রেনের মধ্যে পড়ে রয়েছে। কিছু ওষুধ মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা। আমরা কিছু ওষুধ স্যাম্পল হিসেবে নিয়ে এসেছি। বাকি ওষুধগুলো সেখানে পড়ে রয়েছে। ওষুধের সঙ্গে গজ ব্যান্ডেজসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সারঞ্জাম রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কেউ কিছু বলতে চায় না। ওষুধগুলো কি কারণে সেখানে পড়ে রয়েছে তার বিষয়ে বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত বলতে পারবেন।

মাটির নিচে চাপা দেয়া সরকারি ওষুধ।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. শাহজাহান আলী বলেন, ক্যান্টিনের পেছনে সেপটিক ট্যাংকের পাশে বহু টাকা মূল্যের এ ওষুধ মাটি চাপা দেওয়া ছিল। বৃষ্টির পানিতে ভিজে তা বেরিয়ে পড়ে। এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ রয়েছে যার মেয়াদ ২০২২ সাল পর্যন্ত।

সাথে গজ ব্যান্ডেজ ও ক্যানোলা রয়েছে। এসব ওষুধ হাসপাতালের স্টোর থেকে খোয়া যায়নি। এমনকি এসব ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী তার সময়কালে ক্রয় করা হয়নি।

তিনি বলেন, আমার দায়িত্বকাল সময়ে ওষুধসহ অন্যান্য সারঞ্জাম লুকানোর ঘটনা ঘটেনি। আমার যোগদানের আগে ঘটনাটি ঘটতে পারে।

বৈশাখী/সাতক্ষীরা/জেবি