মাগুরা টিচার্স ট্রের্নিং ইনস্টিটিউট পিটিআইয়ের হল রুমে গণিত অলিম্পিয়াড প্রকল্পের এক অবহিতকরণ কর্মশালায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সচিব মো: আকরাম আল-হোসেন বক্তব্য রাখেন।

প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা সঠিকভাবে বাংলা ও ইংরেজি পাঠ্যবই পড়তে পারে না। গণিত শিক্ষার অবস্থা আরো করুন। এ অবস্থার অবসান ঘটিয়ে অচিরেই দেশের মধ্যে মাগুরা জেলা হবে মডেল জেলা।

পরিদর্শনকারীদের আর কষ্ট করে বিদেশ যাওয়া লাগবে না। কিভাবে ? শিক্ষার মান উন্নয়ন করা সম্ভব তা দেখতে হলে মাগুরা জেলায় তাদেরকে আসতে হবে।

২৫ এপ্রিল বৃহস্পতিবার মাগুরা টিচার্স ট্রের্নিং ইনস্টিটিউট পিটিআইয়ের হল রুমে গণিত অলিম্পিয়াড প্রকল্পের এক অবহিতকরণ কর্মশালায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সচিব মো: আকরাম আল-হোসেন প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।

শিক্ষার গুনগত মান উন্নয়নে দেশের সকল স্কুলের বার্ষিক ক্রিড়া প্রতিযোগীতায় পুরস্কার ঘটি-বাটি বা ক্রোকারিজ সামগ্রি না দিয়ে বই দেয়ার বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয় কি ভাবছে? সাংবাদিক আরাফাত হোসেনের এমন প্রশ্নের জবাবে এসময় তিনি বলেন, শিক্ষার গুনগত মান উন্নয়নের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

ইতিমধ্যে সরকার প্রাথমিক পর্যায়ে মানসম্মত শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কোমলমোতী শিক্ষার্থীরা উদ্বুদ্ধ হয়ে বই কিনে পড়তে আগ্রহী হয়ে উঠবে। শিক্ষকদের জন্য তৈরি হবে পাঠদান ম্যানুয়াল কনটেন্ট-সহায়ক বই। এর ফলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা আরো বেশি নমনীয় ও মায়ের ভূমিকায় পাঠদান করতে সক্ষম হবেন এবং ইতিবাচক প্রভাব পড়বে তাদের আচার আচরণ ও পাঠদান পদ্ধতিতে।

তিনি বলেন, প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে গণিতভীতি দূর করতে একটি অঙ্ককে একাধিক নিয়মে সমাধান করার আধুনিক কলা কৌশল সম্পর্কে শিক্ষকদের সুস্পষ্ট ধারনা থাকতে হবে। এছাড়া শিক্ষক যে নিয়মে অঙ্ক করান সেটিই একমাত্র নিয়ম, এ ধারনা থেকে সকলকে বেরিয়ে আশারও আহবান জানান তিনি।

এ সময় তিনি আরো বলেন- প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের গণিতভীতি দূর করতে প্রায় ৫’শ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। এ প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে, ‘একই অঙ্ক বারবার অনুশীলন’ নির্ভর গণিত শিক্ষাকে ‘সমস্যা সমাধান’ ব্যবহারিক ও তাত্ত্বিক প্রয়োগ’ এছাড়া নির্ভর পদ্ধতি প্রহনপূর্বক একটি সামগ্রিক গণিত পাঠদান পদ্ধতি প্রস্তুত ও প্রয়োগ করা। তবে সরকারের এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন তরান্নিত করতে শিক্ষিকাদের আচার- আচরন ও নীতিগত মতাদর্শন পরিবর্তন করে নমনীয় মনোভাব প্রকাশ কারারও আহবান জানান তিনি।

সচিব আরো বলেন- প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে যথাযথভাবে পড়তে, বলতে ও লিখতে পারে না। অথচ পরীক্ষায় তারা উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চতর শ্রেণীতে ভর্তি হয়।

এ পরিপত্রের পরপরই গণিতভীতি দূর করতে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। সরকারের এ উদ্যোগের ফলে ভালো ফল পাওয়া যাবে বলেও মনে করেন তিনি।

জেলা প্রশাসক আলী আকবর, প্রকল্প পরিচালক মো: নুরুন নবী, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কুমারেশ চন্ত্র গাছী, পিটিআইয়ের সুপারিনটেনডেন্ট, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবু নাসির বাবলু, শিক্ষক ও সাংবাদিকসহ গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ এতে বক্তব্য রাখেন।

কর্মশালায় ছয়টি ক্যাটাগরিতে ৬০ জন শিক্ষক, অভিভাবক, স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও ইউআরসি ইনিসটেকটরগণ অংশ গ্রহন করেন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এর আয়োজন করে।

আরাফাত হোসেন, মাগুরা