আসাদুজ্জামান স্বপ্ন
সিনিয়র রিপোর্টার

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতীকী।

উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে আবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন বদল করল আওয়ামী লীগ। দুটি ভাইস চেয়ারম্যান পদে এখন  থেকে প্রার্থী দেবে না আওয়ামী লীগ। আর যারা মনোনয়ন ফরম কিনেছিলেন তাদের ফেরত দেওয়া হবে অর্থ। ৯ ফেব্রুয়ারি শনিবার চেয়ারম্যান পদে প্রথম পর্বের ৮৭টি উপজেলায় দলীয় প্রার্থী ঘোষণার সময় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানান, নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে উন্মুক্তভাবে অংশ নিতে পারবেন প্রার্থীরা। বিএনপি নির্বাচনে আসছে না, নির্বাচনটা একটু জমজমাট হোক।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে নানা অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সেটা দলের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। সব বিবেচনা করেই মনোনয়ন বোর্ড প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে। সার্বিক শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক অবস্থা বিশ্লেষণ করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

সাধারণ ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে এখন দলের যে কেউ প্রার্থী হতে পারবেন। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না। আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন, বিএনপি স্থানীয় সরকারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের না আসায় নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করার লক্ষ্যেই সিদ্ধান্তের এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ বলেন, ‘যেহেতু সিদ্ধান্ত বদল হয়েছে, সুতরাং টাকা ফেরত দিয়ে দেবো। প্রত্যেক প্রার্থীর টাকা নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে।’

দুটি ভাইস চেয়ারম্যান পদে দল থেকে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার হবে না, এগুলো উন্মুক্ত থাকবে বলে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে জানিয়েছিল আওয়ামী লীগ। কিন্তু এরপর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে সাধারণ ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদের জন্যও প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া হবে বলে জানানো হয়েছিল। সেজন্য চেয়ারম্যানের মতো ভাইস চেয়ারম্যানের মনোনয়ন ফরমও বিক্রি করা হয়।

৪ ফেব্রুয়ারি সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চার দিনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন ফরম বিক্রি করা ৩ হাজার ৪৮৫টি ফরম। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের  তৃণমূলের সুপারিশে প্রার্থী বাছাই করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। প্রতিটি পদের জন্য তৃণমূল থেকে পাঠানো হচ্ছে তিনটি করে নাম। তার মধ্য থেকে একজন প্রার্থী চূড়ান্ত করছে দলের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড।

তবে তৃণমূল থেকে আসা সুপারিশে অনেক জায়গায় সংসদ সদস্যরা প্রভাব খাটিয়ে একক নাম পাঠাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠলে সেই ব্যবস্থা বদল করা হয়।

পাঁচ ধাপে দেশের ৪৯২ উপজেলা পরিষদে ভোট করার পরিকল্পনা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ১০ মার্চ প্রথম ধাপে ৮৭ উপজেলায় ভোট হবে। মার্চে চারটি ধাপের পঞ্চম ও ১৮ জুন শেষ ধাপের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।