শনিবার (১৬ নভেম্বর) বিকালে পুরান ঢাকার ঢাকেশ্বরীতে অবস্থিত শহীদ আব্দুল আলীম খেলার মাঠ উদ্বোধনের মঞ্চের ব্যানারে নিজের নাম না থাকায় ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজি মো. সেলিম হট্টগোল বাধিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এসময় তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) স্থানীয় কাউন্সিলর হাসিবুর রহমান মানিকের দিকে তেড়ে যান বলেও অভিযোগ উঠেছে।

কাউন্সিলর মানিক বলেন, ‘গায়ে হাত তোলার জন্য তিনি (হাজি সেলিম) বেশ কয়েকবার আমার দিকে তেড়ে আসেন।’ তার লোকজন তাণ্ডব চালিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ডিএসসিসির ‘জল সবুজে ঢাকা প্রকল্পে’র আওতায় আব্দুল আলীম খেলার মাঠটি আধুনিকায়ন করা হয়। শনিবার এর উদ্বোধন করেন ডিএসসিসি মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। তবে উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে নামফলকে নিজের নাম না থাকায় হাজি সেলিম অনুষ্ঠানের মঞ্চ ভাঙচুর করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেন। তারা জানান, হাজি সেলিম মঞ্চের এলইডি স্ক্রিনে তার ছবি ও নাম না দেখে ক্ষিপ্ত হন। একপর্যায়ে নিজেই মঞ্চে উঠে মাইক ফেলে দেন। বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। তার সমর্থকরা এজন্য স্থানীয় কাউন্সিলর মানিককে দায়ী করে অনুষ্ঠানে হট্টগোল বাধান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, বেলা ৩টার দিকে হাজি সেলিম অনুষ্ঠানস্থলে আসেন। একপর্যায়ে তার লোকজন মঞ্চে উঠে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেন। এসময় সিটি করপোরেশনের কয়েকজন কর্মকর্তাকেও ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে ব্যাপক হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে কাউন্সিলর মানিক বলেন, ‘পোস্টারে তার (হাজি মো. সেলিম) নাম দিয়েছি, অনুষ্ঠানের কার্ডে নাম দিয়েছি। আর কীভাবে সম্মান দেবো?’ তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের অনুষ্ঠান, মাঠ সিটি করপোরেশনের, তিনি আমাদের মুরুব্বি। তিনি আমার দিকে তেড়ে এসেছেন। তার লোকজন ধাক্কা দিয়েছে। মঞ্চ ভাঙচুর করেছে। অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। আমি বলেছি, মেয়র সাহেব আসা পর্যন্ত আমি মাঠে আছি। পরে মেয়র আসার পর অনুষ্ঠান শুরু হয়।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কাউন্সিলর মানিক মাইকে আমন্ত্রিত অতিথিদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য দেওয়া শুরু করলে মঞ্চের সামনে বসে থাকা হাজি মো. সেলিম আবারও তার দিকে তেড়ে যান। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও হট্টগোল বাধে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

বিকেল ৪টার দিকে মেয়র সাঈদ খোকন অনুষ্ঠানস্থলে এলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এসময় হাজি সেলিমের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। পরে সাঈদ খোকন, হাজি সেলিম ও কাউন্সিলর মানিকসহ সবাই মিলে পার্ক উদ্বোধন করেন। সভাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি মেয়র বলেন, মাঠটি আগে বেদখল হয়ে নানা অসামাজিক কার্যকলাপ, ভবঘুরে ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের আখড়ায় পরিণত হয়েছিল। করপোরেশন তাদের ৩১টি পার্ক ও খেলার মাঠকে দখলমুক্ত করে বিশ্বমানের আদলে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘জল সবুজে ঢাকা প্রকল্প’ গ্রহণ করেছে। সেই প্রকল্পের অংশ হিসেবেই এই মাঠকে বিশ্বমানের করা হয়েছে।

ডিএসসিসি জানায়, ৭৫ কাঠার এ মাঠটি আধুনিকায়ন করতে ব্যয় হয়েছে আট কোটি টাকা। এতে ফুটবল খেলার জায়গা, ক্রিকেটের নেট প্র্যাকটিস, ওয়াকওয়ে, বসার জন্য জায়গা, শিশুদের খেলার জন্য পৃথক স্থান, জিমনেশিয়াম, ক্যাফেটেরিয়া, কফিশপ, লাইব্রেরি, বিভিন্ন ধরনের ফল ও ফুলের গাছ, সিসিটিভি, ফ্রি ওয়াইফাই, আধুনিক টয়লেট, ওয়াটার ফিল্টারসহ ঈদের নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে।